মাছ ধরার এই অদ্ভুত পদ্ধতি গুলি আপনি আগে কখনো দেখেননি || মাছ শিকার

0
273

মাছ ধরতে কে না পছন্দ করে, আবার অনেকে মাছ খাওয়ার থেকে মাছ শিকার করতেই বেশি ভালোবাসে। অনেকে আছেন অবসর টাইমে ছিপ নিয়ে বসে যান মাছ ধরার জন্য। মাছ ধরার বিভিন্ন পদ্ধতি সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে, তবে মাছ ধরার কিছু ট্রেডিশনাল মেথড নিয়ে আমাদের আজকের ভিডিও। তো চলুন কথা না বাড়িয়ে আজকের ভিডিওটি শুরু করা যাক।

ভোঁদড় দিয়ে মাছ শিকারঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

বহুকাল আগে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতিতে মাছ ধরার বিশেষ প্রচলন ছিল। চী, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ এছাড়া, উত্তর ভারতে একটা সময় এই ফিসিং টেকনিক ছিল খুবই জনপ্রিয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করতে দেখা যায় না। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করতে প্রথম একটি ফাঁদ পাততে হয়, জেলেরা এক পাস দিয়ে জাল পেতে রাখে, আর অন্য পাশে কিছুটা দূরে নামিয়ে দেয়া হয় প্রশিক্ষিত ভোঁদড়ের ঝাঁক। এই ভোঁদড় গুলি নিজেরা মাছ ধরে না, কিন্তু সব মাছ তাড়িয়ে জালের দিকে নিয়ে আসে, এইভাবে মানুষ এবং ভোঁদড়ের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয় মাছ ধরার এই অদ্ভুত প্রক্রিয়া। মাছ ধরার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ভোঁদড় গুলিকেও বুঝিয়ে দেয়া হয় তাদের ভাগের অংশ।

খুঁটি পুঁতে মাছ শিকার ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

শ্রীলংকার কঙ্গলা দ্বীপ ছাড়াও, আরো কয়েকটি দ্বীপে খুঁটি পুঁতে মাছ শিকার করার ঐতিহ্য প্রচলিত আছে। প্রায় শত বছর ধরে চলে আসা এই পদ্ধতিতে প্রথমে সমুদ্র উপকূলের অল্প জলে, বড় একটি খুঁটি শক্ত করে পুঁতে দিতে হয় যার উপর ছোট্ট একটি বসার জায়গা থাকে যেখানে একজন মানুষ বসে মাছ শিকার করতে পারবে। এই পদ্ধতিটি তেমন লাভজনক না হলেও একটি ছোট্ট পরিবারের একটি দিন দিব্যি চলে যায়। ২০০৪ সালের সুনামীতে এই দ্বীপের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, এরপর থেকে এই পদ্ধতিতে মাছধরা অনেকটাই কমে গেছে। জেলের আস্তে আস্তে অন্য পদ্ধতি বা অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। তাই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যটি।

আরও পরতে ক্লিক করুন ঃ- উগান্ডা || পেছিয়ে পরা এই দেশটি যে কারনে সবার থেকে সেরা

তীর দিয়ে মাছ শিকারঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

শুনতে হয়তো অবাক লাগছে, আমাজন জঙ্গল এবং পেরুতে প্রায় হাজার বছর আগে থেকে এখনও পর্যন্ত তীর দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে কিছু উপজাতি গোষ্ঠী। এছাড়া আলাস্কা এবং দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অঞ্চলে এই বো-ফিসিং এর প্রচলন রয়েছে। সাধারণত যে মাছগুলি জলের উপরি অংশে ভেসে থাকতে পছন্দ করে, সেই সমস্ত মাছ গুলি এই শিকারের প্রধান টার্গেট। এই পদ্ধতিতে মাছ শিকারের জন্য সব থেকে বেশি যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে সঠিক নিশানা। এছাড়াও লাগবে ভাল মানের তীর ধনুক এবং অভিজ্ঞতা। মূলত এই ভাবে মাছ শিকার করার জন্য সব থেকে বড় বাধা হচ্ছে অপটিক্যাল ইল্যুশন, যার ফলে জলের নিচে মাছের সঠিক স্থান বোঝাটাই কষ্টকর হয়ে যায়। এই পদ্ধতিটি অনেক কঠিন হওয়া সত্ত্বেও ইউরোপ এবং আমেরিকার অনেক মানুষই এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে থাকে। কারণ মাছ শিকার করাটা যতই কঠিন হোক না কেন, মাছ শিকার করার পরে সেই আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যায়।

পাখি দিয়ে মাছ শিকার ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

পাখি দিয়ে মাছ শিকার করার হাজার বছরের একটি পুরনো পদ্ধতি রয়েছে। যার নাম কর্মরেন্ট ফিসিং। লম্বা এবং শক্তিশালী ঠোঁট বিশিষ্ট, জলজ শিকারি পাখি কর্মরেন্ট। চীন এবং জাপানের জেলেরা প্রাচীনকাল থেকেই এই পদ্ধতিতে মাছ শিকার করে আসছে। সাধারণত ছোট একটি ভেলা এবং সঙ্গে দু’তিনটে কর্মরেন্ট নিয়ে শুরু হয়ে যায় জেলেদের অভিযান। তারপর জলেতে ছেড়ে দেয়া হয় এই পাখিদের, তবে এরা আগে কর্মরেন্টের গলা এমন ভাবে বেঁধে দেয়া হয়, যাতে ছোট মাছই তারা গিলতে পারে। মাছ শিকারে দক্ষ পাখিগুলি কখনোই মাছ ছাড়া ওপরে উঠে আসে না, আর গলায় বাঁধন থাকার কারণে, বড় মাছ ঠোঁটে নিয়ে ওপরে উঠে আসতে হয় এদের। তারপর পাখিদের ঠোট থেকে মাছটি সরিয়ে নেয়া হয় জেলেদের ঝুড়িতে। সাধারণত কিছু সময়ের মধ্যে বড় সাইজের ডজনখানেক মাছ ধরে নিতে পারে এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মরেন্ট। তবে ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই পেশাটি।

তো বন্ধুরা আজকের ভিডিওটি এই পর্যন্তই, এই ফিশিং মেথড গুলির মধ্যে কোন মেথডটি আপনার ভালো লেগেছে তা নিচের কমেন্ট বক্সে আমাকে জানাতে ভুলবেন না। ভিডিওটি ভালো লাগলে অবশ্যই লাইক করবেন এবং শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ করে দেবেন। আর এরকমই রহস্যময়, অজানা ও অদ্ভুত ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল আইকনটিতে ক্লিক করে রাখুন। তো দেখা হবে পরের ভিডিওতে, ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ।

সুমন্ত ………।।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

 

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here