১০০০০০ বছর আগে এই পৃথিবীতে কারা বসবাস করত?

2
511

আপনি ছোটবেলায় নিশ্চয়ই মহামানব বা রাক্ষসের কথা শুনেছেন। অনেক পৌরাণিক কাহিনীতে মহামানব বা রাক্ষসের কথা উল্লেখ আছে। তার প্রমাণ আমারা ইতিহাসেও অনেক বারাই পেয়েছি। তাহলে কি সত্যি লক্ষ লক্ষ বছর আগে,এই পৃথিবীতে মহামানব বা রাক্ষস বসবাস করত? নাকি এগুলি শুধু মাত্র গুজব? অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই সব অতিকায় মানুষের উল্লেখ বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থে আমরা পেয়েছি। তারা যে অতিতে এই পৃথিবীতে বাস করত, তার প্রমাণ আমরা আজও পাই আর আজকের বিজ্ঞান তা মেনেও নিয়েছে। আজকের আমরা জানব, সত্যি কি লক্ষ লক্ষ বছর আগে এই পৃথিবীতে অতিকায় মানুষেরা বাস করত? নাকি এটি একটি কাল্পনিক গল্প মাত্র।

রহস্যময় তুষারমানব ইয়েতি
Photo Credit – Atpoure.com

স্যাকো গ্রামাটিকার এক ঐতিহাসিকের কথা অনুযায়ী US আর্মির একটি দল ১৯৫০ সালে গ্রীসে একটি ১৮ ফুট লম্বা নরকঙ্কাল খুঁজে পায়। যার শুধু মাত্র মাথার খুলিটির আকার ছিল মানুষের শরীরের আকারের দুইগুন। এরপর সেই বছরই আলাস্কাতে আরও একটি বিশাল মাথার খুলি পাওয়া যায়,যার আকার ছিল প্রায় ৩ ফুট। ১৯৯৯ সালে মঙ্গলিয়াতে খননকার্য চলাকালীন ২০ ফুট লম্বা আরও একটি বিশালাকার নরকঙ্কাল পাওয়া যায়।

Giant Human Skeleton
Photo Credit – Blank Exit

কার্বন ডেটিং পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় এই কঙ্কালটি প্রায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার বছরের পুরানো। শুধু মাত্র বিশালাকার কঙ্কালই নয়, অতিতের কিছু স্থাপত্যও প্রমাণ করে যে লক্ষাধিক বছর আগে এই পৃথিবীতে মহামানবরা বাস করত, কারন সেই সমস্ত স্থাপত্য গুলি আমাদের মত সাধারণ মানুষের পক্ষে তৈরি করা প্রায়ই অসম্ভব, যদি আমরা ওই ধরনের স্থাপত্য গুলি তৈরি করার জন্য,আজকের যুগের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যাবহার করি তবুও আমাদের পক্ষে সেই গুলি তৈরি খুবই কষ্ট সাধ্য।

The Secrets of the Feathered
Photo Credit – usrepresented.com

মেক্সিকো সিটি থেকে ৩১ মাইল দূরে একটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য আছে যাকে সিটি অফ গর্ড বলা হয়। এই জায়গার বিশেষত্ব হল এখানে বিশাল পাথরের সাহায্যে আমাদের সোলার সিস্টেমের মডেল বানানো হয়েছিল তাও আবার লক্ষাধিক বছর আগে। আপনারা জানলে অবাক হবেন যে এইটি সম্পূর্ণ নিখুঁত। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হল এখানকার পাথর গুলির একে অপরের সাথে যে দূরত্বে অবস্থান করছে, ঠিক সমান অনুপাতে আমাদের সোলার সিস্টেমের গ্রহ গুলিও একে অপরের সাথে সমপরিমাণ দূরত্বে অবস্থান করছে। এখানে প্লুটোকেও একটি পাথরের রুপে দেখানো হয়েছে, যাকে আবিস্কার করতে আমাদের আধুনিক বিজ্ঞানের সময় লেগেছিল ১৯৩০ বছর। এর থেকে এইটি প্রমানিত হয় যে, লক্ষাধিক বছর আগে অতিমানবেরা মহাকাশ বিজ্ঞানে অনেক উন্নত ছিল।

ইস্টার আইল্যান্ড
Photo Credit – bengali.mapsofworld.com

ইস্টার আইল্যান্ড যেটি ৬০০ টি বিশাল আকার মূর্তির জন্য সারা বিশ্বে প্রসিদ্ধ। মূর্তি গুলি এত মজবুত যে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলেও এতে একটি দাগও পরেনা। এই মূর্তি গুলির ওজন প্রায় ১০০ টন আর এগুলির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ ফুট,এখন প্রশ্ন হল অতিতে এই দ্বীপে মানুষ বসবাস করত তার কোনও প্রমাণ আজও  মেলেনি আর যদি এই দ্বীপে মানুষ বসবাস না করত তাহলে এগুল এখানে এল কি করে? আর যদি কেউ এগুলি অন্য কোনও স্থান থেকে এখানে নিয়ে আসে, তাহলে তারা কারা? কেউ কেউ বলে এখানে এলিয়ানেরা বসবাস করত আর এলিয়ানেরাই এগুলি বানিয়েছিল, সে যাই হোক যে বা যারা এইগুলি বানিয়েছে বা এখানে নিয়ে এসেছে তারা কখনই সাধারণ মানুষ হতে পারে না। তাছাড়া মিশরের বিশাল পিরামিড গুলি কিভাবে বানানো হয়েছিলো সেটাও একটি রহস্য।

মানস সরোবর
Photo Credit – onushilon.org

এছাড়া কৈলাস পর্বতকেও অনেক বৈজ্ঞানিক,মানুষের তৈরি পিরামিড বলে মনে করেন। এই পর্বতের একটি বিশেষ ব্যাপার হল, পৃথিবীর সর্বচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টেও মানুষ পৌঁছে গেছে কিন্তু এই পর্বতে শিখরে আজ পর্যন্ত কেউ পৌঁছাতে পারেনি, যা এই পর্বতকে আরও রহস্যময় করে তোলে। এই সমস্ত জিনিস গুলির শুধু আকারই নয়,এই গুলির ভৌগলিক অবস্থানও খুব অদ্ভুত। যদি কৈলাস পর্বত থেকে একটি সোজা সরলরেখা টানা হয়, তাহলে সেই রেখা মিশরের পিরামিডের দক্ষিণ অংশকে স্পর্শ করে। আর যদি রেখাটিকে আরও বড় করা হয় তাহলে সেটি ইস্টার আইল্যান্ডকে স্পর্শ করে। এই মহামানবেরা কি ভাবে সৃষ্টি হল এবং কিভাবে তারা বিলুপ্ত হল এই ব্যাপারে আমাদের বিজ্ঞান কি বলছে চলুন জেনে নেওয়া যাক।কিছু বৈজ্ঞানিকদের কথা অনুযায়ী আজ থেকে প্রায় লক্ষাধিক বছর আগে একটি গ্রহানু খণ্ড পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে,যার আকার আমাদের চাঁদের থেকে সামান্য বড় ছিল,পৃথিবীর মধ্যাকর্ষন শক্তির ফলে এটিও পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে দেয় সেই সময় পৃথিবীতে মধ্যাকর্ষন শক্তির ক্ষমতা কমতে থাকে আর এটি সেই সময় ছিল যখন পৃথিবীতে মহামানবের আগমন ঘটে ছিল।

Asteroid
Photo Credit – businessinsider.com

এর কয়েক লক্ষ বছর পর এই গ্রহানু খণ্ডটি তার কক্ষপথ থেকে আলাদা হয়ে যায় এবং অপর একটি গ্রহানু খণ্ডের ধাক্কা খেয়ে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায় আর এর কিছু অবশেষ,রহস্যময় তুষারমানব ইয়েতির মত পৃথিবীর বুকে আছরে পরে, সেই সময় মহামানবদের পক্ষে পৃথিবীতে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে, আর হঠাৎ-ই গ্রহানু খণ্ডটি ধ্বংস হওয়ার ফলে পৃথিবীতে মধ্যাকর্ষন শক্তির ক্ষমতা বেড়ে যায়,যার ফলে ধীরে ধীরে সময়ের বিবর্তনে মহামানবের আকার কমতে থাকে। মধ্যাকর্ষন শক্তি বেড়ে যাওয়ার ফলে ওজন স্তর পাতলা হয়ে যায়,যার ফলে সোলার রেডিয়েশনও বেড়ে যায়। মহামানবের আকারগত পরিবর্তন বা ছোট হয়ে যাওয়ার পেছনে এটিও একটি কারন মনে করা হয়,কারন কোনও মানুষের শরীর যদি ছোট হয়ে তা হলে তার সার্ফেস এরিয়াও কম হয় আর সার্ফেস এরিয়াও কম হওয়ার ফলে তার উপর সোলার রেডিয়েশনের মাত্রাও কম হয় যার ফলে এই পৃথিবীতে সারভাইব করা আরও সহজ হয়ে যায়। এগুলোই ছিল বৈজ্ঞানিকদের ব্যাখ্যা যার ফলে মহামানবের আগমন ঘটেছিল এই পৃথিবীতে, এবং সময়ের সাথে সাথে তারা বিলুপ্তও হয়ে যায়। আপনার কি মনে হয়? সত্যি কি ১০০০০০ বছর আগে এই পৃথিবীতে কারা বসবাস করত ? নিচের কমেন্টবক্সে আপনার মতামতটি জানান।

ধন্যবাদ …………….

সুমন্ত…

rohoshyosondhane

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here