সমুদ্রের তলায় খুঁজে পাওয়া গেল ইউ.এফ.ও

0
465

জল এবং স্থল পৃথিবীর এমন দুইটি জায়গা, যার উপর পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রাণী জগৎ নির্ভরশীল। যেখানে পশুপাখি এবং মানুষ স্থলে বাস করে, তেমনি জলচর কোটি কোটি প্রাণী, বিশাল আকার এবং গভীর সমুদ্রে বসবাস করে। এই বিশাল আকার সমুদ্র গুলি তার অতল গভীরে কত কিছুই না লুকিয়ে রেখেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন আজ পর্যন্ত সমুদ্রের তলদেশ থেকে যা আমরা খুঁজে পেয়েছি তা মাত্র ১০ শতাংশ, এখনও ৯০ শতাংশ রহস্য উৎঘাটন করতে বাকি। সারা বিশ্ব জুড়ে লক্ষ লক্ষ ডুবুরিরা প্রতিদিন সমুদ্রের গভীরে ডুব দিচ্ছে রহস্যের খোঁজে। আজ আমি এই রকমই এক রহস্যময় বস্তু নিয়ে আলোচনা করবো যা খুঁজে পাওয়া গিয়েছে সমুদ্রের অতল গভীরে। বিশ্বের বড় বড় বৈজ্ঞানিকরা যে রহস্যের সমাধান করতে পারেনি আজও।

Photo Credit – Lolwot

সমুদ্র তার গভীরতার অন্তরালে এত বিস্ময় লুকিয়ে রেখেছে যা সত্যি আমাদের অবাক করে দেয়। এই রকমই এক অদ্ভুত রহস্যময় বস্তু লুকিয়ে রয়েছে বাল্টিক সাগরের গভীরে। এই বিশাল আকার রহস্যময় বস্তুটির কাছে না আমরা যেতে পারি, না এই বস্তুটি আমাদের তার কাছে পৌঁছাতে দেয়। বলা হয়ে থাকে এইটি এমন এক ধাতু দিয়ে তৈরি যা পৃথিবীতে পাওয়া যায় না। এই রহস্যময় বস্তুটির কাছে গেলে সমস্ত ইলেট্রিক উপকরণ নিজের থেকে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ইউ.এফ.ও আকারের এই রহস্যময় বস্তুটি আজ সবার কাছে এক বিস্ময়ের ব্যাপার।

Baltic Sea Anomaly

ঘটনাটি শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে, যখন ওসেন এক্স নামে এক জাহাজের ডুবুরিরা বাল্টিক সাগরের কাছে কিছু আনুসন্ধানের কাজে ব্যাস্ত ছিল। তাদের এই অনুসন্ধান চলাকালিন এমন কিছু রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে যে জাহাজে উপস্থিত সমস্ত মানুষ বিস্ময়ে চমকে উঠেন। তাদের জাহাজে লাগানো সনার সিস্টেমে ধরা পড়লো ইউ.এফ.ও আকারের বিশাল এক বস্তু যেটির ব্যাস ছিল প্রায় ৬০ মিটার আর আকার ছিল ডিম্বাকৃতি এবং বস্তুটি লম্বায় প্রায় ৪ মিটার। সমুদ্রের ৯০ মিটার গভীরে অবস্থিত এই অদ্ভুত বস্তুটিকে প্রথম দর্শনেই দেখে মনে হচ্ছিল হলিউড মুভিতে দেখানো কোন ইউ.এফ.ও-র মত। ওসান এক্স দলের সমস্যা তখন শুরু হয় যখন এই বস্তুটি জাহাজের সনার সিস্টেমে প্রথম দেখা যায়। সেই সময় জাহাজের সমস্ত ইলেট্রিক উপকরণ কাজ করা বন্ধ করে দেয় আর এই অবস্তায় সমুদ্রের গভীরে ডুব দিয়ে ওই বস্তুটির পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তকে তখনকার মত বাতিল করে দিতে হয়।

Photo Credit – The Bitbag

এই খবর ছড়িয়ে পরে দ্রুতগতিতে, পরবর্তীকালে সমুদ্রতল থেকে এই বস্তুটির কিছু অংশ কোনও প্রকারে তুলে আনা হয় এবং বস্তুটির কিছু ছবি তোলা হয়। তুলে আনা বস্তুটি পরীক্ষা করে জানা যায় এই বস্তুতে উপস্থিত, লিমনাইড এবং গয়েফাইটের মত ধাতু না তো পৃথিবীতে পাওয়া যায় না তো এই ধাতু পৃথিবীতে বানানো সম্ভব। তবে এ বিষয়ে অনেকে ভিন্ন মত প্রকাশ করে,অনেকে বলে থাকেন এই প্রকার ধাতু পৃথিবীতে বানানো সম্ভব। এই বস্তুটির আকার নিয়েও মতভেদ আছে,অনেকে মনে করে এইটি কোনও ইউ.এফ.ও যা কোন যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে সমুদ্রে ভেঙে পড়েছিল। তেমনই অনেকে বলে এইটি কোন ডুবজাহাজের অংশ বিশেষ যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালিন জার্মানি বা ইউ.কে. বানিয়ে ছিল। কিন্তু ওসান এক্স-এর ডুবুরিরা এই বিষয়ে বলেন, যদি এইটি কোন সাধারন বস্তু হয়ে থাকে তাহলে এর নিকটে যাওয়া মাত্রই কেন সমস্ত ইলেট্রিক উপকরণ বিকল হয়ে যায়।

Photo Credit – writingisfun-damental.com

এই বস্তুটির বিশালতা ও অদ্ভুত আকার এবং বস্তুটির উপরে অবস্থিত চিহ্ন পৃথিবীর কোন বস্তু বা চিহ্নের সাথে মিল খায়না,আর কেনই বা বৈজ্ঞানিকরা এই বস্তুটির রহস্য আজও উন্মোচন করতে পারেনি। আর এই সমস্ত কারনই এই বস্তুটিকে রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু করে তুলেছে। কিন্তু আজও এই রহস্যের কোন সমাধান হয়নি। এই খোঁজের সাথে জড়িত সমস্ত বৈজ্ঞানিকরা বলছে, খুব তারারাতি এই রহস্যের উন্মোচন হবে। বাল্টিক সাগরের গভীরে উপস্থিত এই অদ্ভুত বস্তুটি নিজের সাথে অনেক প্রশ্ন লুকিয়ে রেখেছে। যেমন এর নিকটে গেলে নিজে থেকে ইলেট্রিক উপকরণ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং এর অদ্ভুত আকৃতি আমাদের বিস্মিত করে এসেছে। হয়ত এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর আগামী দিন আমরা পাবো।

আপনার কি মনে হয় এই অদ্ভুত বস্তুটির সম্বন্ধে । সত্যি কি এটি কোনও ভিনগ্রহি প্রানিদের মহাকাশযান ? নিচের কমেন্টবক্সে আপনার মতামতটি জানান।

ধন্যবাদ …………….

rohoshyosondhane

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here