৫টি আজব গৃহপালিত পশু যেগুলি কে আপনি কখনোই পালন করতে চাইবেন না

0
143

ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি গৃহপালিত পশু এবং বন্য পশু সম্পূর্ণ আলাদা হয়। আমরা বন্য পশুকে বাড়িতে রাখতে পারি না, কারণ এরা হিংস্র হয় এবং যে কোন সময় আপনাকে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু এই সমস্ত কথার তোয়াক্কা না করে, আজ কিছু মানুষ এমন কিছু ভয়ঙ্কর প্রাণীকে গৃহপালিত বানিয়ে রেখেছে যেগুলি তাদের জন্য খুবই বিপদজনক। তো বন্ধুরা আজকের ভিডিওতে আমরা জানবো এমন কিছু বন্য পশুর ব্যাপারে, যাদেরকে মানুষ গৃহপালিত বানিয়ে রেখেছে।

নাম্বার ৫ জলহস্তী ঃ-

Hippo
rohoshyosondhane

সাউথ আফ্রিকার একটি স্থানীয় নদীতে হঠাৎই বান আসার কারণে এখানকার জনজীবন কঠিন সমস্যার মুখে পড়ে। ওই বানের জলে ভেসে আসা একটি জলহস্তীর ছোট বাচ্চা নিজেকে বাঁচানোর জন্য একটি সুরক্ষিত জায়গা খুঁজছিল। এই অসুরক্ষিত বাচ্চাটিকে জবাট ফ্যামিলি রেস্কিউ করে এবং তাকে তাদের সাথেই রেখে দেয়। তারা এই ছোট শাবকটির নাম রাখে জেসিকা। এরপর জেসিকা আস্তে আস্তে এই ফ্যামিলির সাথে বেড়ে উঠতে থাকে, বর্তমানে জেসিকার বয়স ৭ বছর। সে প্রতিদিন প্রায় ১০ লিটার কফি না পান করে। পরিবারের সাথে সময় কাটানো, সাঁতার কাটা এবং ঘুরে বেড়াতে জেসিকা খুবই পছন্দ করে। জেসিকা মাঝে মাঝে বাড়ির অনেক আসবাবপত্রও ভেঙ্গে ফেলে, কারণ সে আজও বুঝে উঠতে পারিনি যে সে এখন আর ছোট নেই। আজ জেসিকা ৭৫০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি বড় জলহস্তীতে পরিণত হয়ে গিয়েছে।  তবে বিশাল আকার একটি জলহস্তীকে বাড়িতে পালন করা সত্যিই একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা।

নাম্বার ফোর বাফেলো ঃ-

Buffelo
rohoshyosondhane

আপনি হয়তো ভাবছেন যে আমি কি বলছি, বাফেলোতো আসলেই একটি গৃহপালিত পশু কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি যে বাফেলোর ব্যাপারে কথা বলছি সেটি সম্পূর্ণ আলাদা। আমেরিকার টেক্সাস শহরে বসবাসকারী আর আরসি ব্রিজেস নামক এক ব্যক্তি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর, একটি বাফেলোকে তার বাড়িতে পালন করতে শুরু করে। আরসি একজন কাউবয় হওয়ার কারণে সে এই বাফেলোটিকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে থাকে, আস্তে আস্তে যখন বাফেলোটি বড় হয় তখন সে বিভিন্ন ইসারা বুঝতে শুরু করে। আজ বাফেলোটির ওজন প্রায় এক টন। এত বছর কেটে যাওয়ার পরেও আজো সে বাড়ির অনেক জিনিসপত্রই ভেঙে ফেলে। তবে ঘুরতে যাওয়ার আগে তাকে ইশারা করে ডাকলে সে তার জন্য বানানো একটি বিশেষ প্রকারের গাড়িতে সহজেই উঠে পড়ে। সত্যি এই ধরনের পরিবার ভাগ্যবান  বাফেলোরাই পেয়ে থাকে।

নাম্বার থ্রি কাঠবিড়ালি ঃ-

কাঠবিড়ালি
rohoshyosondhane

১৯৪০ এর দশকে আমেরিকার লাইভ ম্যাগাজিন পত্রিকায় একটি সিরিজ শুরু হয়েছিল যেখানে একটি কাঠবিড়ালির বিভিন্ন প্রকার পোশাক পড়া ছবি দেয়া হতো। সেই সময় অ্যাডভান্স ফটো এডিটিং সফটওয়্যার না থাকার কারণে এটা প্রমাণিত ছিল যে এই ছবিগুলি একেবারেই আসল ছিল, সেই সময় এই ছবিগুলি মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং এই কাঠবিড়ালিটির প্রতি মানুষের কৌতূহল আস্তে আস্তে বেড়ে যায়। এই কাঠবিড়ালিটি মার্ক বুলিশ নামক এক মহিলা দ্বারা পালিত। মার্ক তার বাড়ির পাশে অবস্থিত একটি গাছের নিচে থেকে এই কাঠবিড়ালিটিকে খুঁজে পেয়েছিল। ছোট এই কাঠবিড়ালিটিকে মার্ক তার বাড়িতেই পালন করতে শুরু করে। ৪০ এর দশকে এই কাঠবিড়ালিটি তার ফ্যাশনের জন্য মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ – কেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের উপর দিয়ে বিমান উড়তে পারে না

নাম্বার টু জিরাফ ঃ-

Giraff
rohoshyosondhane

আপনি যে এই বড় রুমটি দেখছেন এটি কোন মানুষের নয় আসলে এটি লীন নামক একটি জিরাফের জন্য বানানো হয়েছে। কেনিয়ার জিরাফ ম্যানর নামক হোটেলে বসবাসকারী এক জিরাফের নাম হল লীন। লীন তার সাথী জিরাফের থেকে মানুষের সাথে থাকতে বেশী পছন্দ করে। লীনকে যদি আপনি খাবার খাইয়ে দেন তাহলে সে আপনার সাথে খেলা করতেও রাজি হয়ে যাবে। আপনি যদি এই জিরাফ ম্যানর হোটেলে ব্রেকফাস্ট করেন তাহলে অবশ্যই আপনার কাছে সে পৌঁছে যাবে, আর পশুপ্রেমী মানুষের কাছে এই ব্যাপারটি খুবই আনন্দদায়ক।

নাম্বার ওয়ান স্নেক ঃ-

Snake
rohoshyosondhane

সাপকে আমরা একটা বিষধর প্রাণী হিসেবেই জেনে এসেছি, যাকে সবাই ভয় করে কিন্তু আপনারা হয়তো অনেকেই জানেনা যে এই পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় সাপকেও গৃহপালিত প্রাণী রূপে পালন করা হচ্ছে। এটিকে পালন করার জন্য প্রথমে নিজেকে তৈরি করতে হয়। প্রথমে আপনাকে এমন কিছু সাপ পালন করার জন্য দেয়া হবে যা মানুষের সাথে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। যেমন কর্ন স্নেক, ক্যালিফোনিয়া কিং স্নেক, গ্লসি বোয়া, এই সমস্ত সাপকে আমাদের বেশি খেয়াল রাখতে হয় না। এরা যেকোন পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। যখন আপনি এই সাপ গুলির সাথে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়বেন তখন আপনি এর থেকেও বড় সাপ পালার জন্য সক্ষম হয়ে যাবেন। কিছু মানুষ এই কাজে এতটাই পটু হয়ে যায়, যে তারা বড় এবং বিষধর সাপও বাড়িতে পালন করতে শুরু করে দেয়। এদের সাথে খেলা করে এবং এদের ঘুরতেও নিয়ে যায়। এই মানুষদের কথা অনুযায়ী সাপেদেরও একই ভাবনা রয়েছে যা মানুষের মধ্যে রয়েছে, তাই তারা আমাদের সাথে সহজে থাকতে পারে।

তো বন্ধুরা এই এই প্রাণী গুলির মধ্যে কোন প্রাণীটিকে বাড়িতে পালন করার জন্য বিপদজনক বলে মনে হয় আপনার? আপনার মূল্যবান কমেন্টটি কমেন্ট বক্সে অবশ্যই লিখে জানন।

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here