ভারতের যে ৫টি রহস্যময় জায়গার রহস্য আজও ভেদ করা যায়নি

0
854

অজানা বস্তুর রহস্য বরাবরই আমাদের আকর্ষিত করে এসেছে, আর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে এইরকমই অনেক অজানা বস্তু যার ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি। তো চলুন জেনে নেয়া যাক ভারতে লুকিয়ে থাকা কিছু রহস্যময় বস্তুর ব্যাপারে, যা হয়তো আমরা আগে জানতাম না।

রুপকুন্ড ঝিল বা কঙ্কাল ঝিল ঃ- ROOPKUND SKELETON LAKE

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

রুপকুন্ড ঝিল হিমালয়ের পাদদেশ থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৪৫ সালে এখানে কর্মরত বনকর্মীরা এই ঝিল থেকে কয়েক শ মানুষের মাথার খুলি এবং হার উদ্ধার করে। একসাথে এত নরকঙ্কাল এই ঝিলে এল কি করে তার ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারেনি। এরপর প্রায় তিন বছর ধরে ভারতীয় এবং ইউরোপীয় বৈজ্ঞানিকরা এই কংকালের রহস্য উন্মোচন করার জন্য এই স্থানে বিভিন্ন পরীক্ষা চালায় এবং তারা বিভিন্ন মত প্রকাশ করে। অনেকে বলে এই নরকঙ্কাল গুলি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এখানে আটকে পরা জাপানি সৈন্যদের, আবার কেউ কেউ বলে এই নরকঙ্কাল গুলি কাশ্মীরের জেনারেল যোধাবর সিং-এর সেনাবাহিনীর। carbon dating পরীক্ষায় জানা যায় এই নরকঙ্কাল গুলি ১২ এবং ১৫ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়কার, কিন্তু এই নরকঙ্কাল গুলি কিভাবে এখানে এলো তার কোন সঠিক ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি।

কোডিনি, কেরালা জমজ বাচ্চাদের গ্রাম ঃ- KODINHI, THE VILLAGE OF TWINS

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

কেরালার ক্যালিকট সীমান্তে কাছে কোডিনি নামে একটি ছোট গ্রাম আছে, এই গ্রামে বসবাস করে প্রায় দুই হাজার মানুষ। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম ধর্মালম্বী। এই গ্রামের বিশেষত্ব হল এই গ্রামে বেশিরভাগ মানুষেরই যমজ সন্তান রয়েছে। তাই এই গ্রামটিকে যমজ বাচ্চার গ্রাম বলা হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী ২০০৯ সালে এই গ্রামে প্রায় ২২০টি যমজ বাচ্চার জন্ম হয়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী এই সংখ্যা প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০। আরও একটি রোমাঞ্চকর তথ্য হল এই গ্রামের মহিলারা যারা বিবাহের পর অন্য গ্রামে চলে গেছে, তাদেরও বেশিরভাগই যমজ সন্তান রয়েছে। এই যমজ বাচ্চার পেছনে কি ব্যাখ্যা রয়েছে তা কেউ জানে না আজ পর্যন্ত এটি একটি রহস্যই রয়ে গিয়েছে।

কোংকা লা পাস, লাদাখ ঃ- KONGKA LA PASS, LADAKH

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

হিমালয়ের নিকটে অবস্থিত কোংকা লা পাস, ভারত এবং চীনের বর্ডার। চীনের অধিকৃত অংশ এক্সাই যা চীন নামে পরিচিত আর ভারতের অধিকৃত অংশ হল লাদাখ। অত্যাধিক ঠান্ডা এবং দুর্গম স্থান হবার কারণে এখানে কেউ আসা-যাওয়া করে না, দুটি দেশের চুক্তি অনুযায়ী এখানে কোন সীমান্তরক্ষী পাহারা দেয় না। এই সীমান্তের দুই প্রান্তে বসবাসকারী স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী এখানে একটি ভূমিগত এলিয়ান বেস রয়েছে আর এই ব্যাপারে দুই দেশের সরকারই জানে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন যে তারা এই অঞ্চলের ওপর UFO দেখেছে আর এই কথা শুধু ভারতীয় নয় চীনের অধিবাসীরাও বলে থাকে। স্থানীয় গাইডদের কথা অনুযায়ী এই ঘটনা এখানে নতুন কিছু নয়, এই ধরনের ঘটনা এখানে মাঝে মাঝে দেখতে পাওয়া যায়। এখানে আসা পর্যটকদের দুই দেশে যাবার পারমিট থাকা সত্বেও তাদের এই অংশে যেতে দেওয়া হয় না।

আরও নতুন নতুন মজার ঘটনা জানতে ক্লিক করুন ঃ- বিশ্বের ৫টি অদ্ভুত জায়গা যা দেখে নকল মনে হলেও,বাস্তবে তা সত্যি রয়েছে

জতিঙ্গা, আসাম ঃ- JATINGA ASSAM, SUICIDING BIRDS

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আসামের দিমা হাসাও জেলাতে জতিঙ্গা নামে একটি গ্রাম আছে। এখানকার জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার, এই গ্রামটি পাখিদের আত্মহত্যার ঘটনার জন্য সারা বিশ্ব আজ পরিচিত। যে পাখির দল এই গ্রামের উপর দিয়ে উড়ে যায় তারা এই গ্রাম অতিক্রম করার আগেই মৃত অবস্থায় রাস্তাতে পরে থাকতে দেখা যায়। আরও একটি রহস্যময় ব্যাপার হল বেশিরভাগ আত্মহত্যার নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাসে রাত আটটা থেকে ন’টার মধ্যে ঘটে। এখানকার স্থানীয় মানুষেরা মনে করেন এটি কোন অদৃশ্য শক্তি বা ভূত-পেতের কাজ। আর এই রহস্যময় ঘটনা বছরের পর বছর একই ভাবেই ঘটে চলেছে। কিছু বৈজ্ঞানিকরা এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছেন, গ্রামের আলো পাখিদের দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করে যার ফলে যারা আত্মহত্যা করে, আবার কিছু মানুষের কথা অনুযায়ী এখানে জোরে হাওয়া দেয়ার কারণে পাখিরা তাদের ভারসাম্য হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে মারা যায়। পাখিদের এই রহস্যময় আত্মহত্যার ব্যাপারে অনেকেই অনেক ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কিন্তু এর পেছনে আসল কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তার সঠিক ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি।

বান্নি ঘাসের ময়দান, গুজরাট ঃ- BANNI RESERVE GRASSLAND

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

বান্নি ঘাসের ময়দান গুজরাটের কচ্ছের রানের দক্ষিণাংশে অবস্থিত এক জলাভূমি। বর্ষার সময় বৃষ্টির জলের ছোঁয়ায় এই জলাভূমি প্রকৃতির রূপ পায়। এই জলাভূমিতে রাতের বেলায় এক রহস্যময় আলো দেখতে পাওয়া যায়। যা অনেকটা জোনাকির আলোর মত কিন্তু আকারে অনেক বড়, এই রহস্যময় আলোকে স্থানীয় মানুষেরা চির বাত্তি বলে। এই আলোটি প্যারা লাম্পের মত উজ্জল এবং সর্বদা নিজের রং পরিবর্তন করতে থাকে, এর আকার একটি আপেলের মত। এই রহস্যময় আলো বান্নি ঘাসের ময়দানে প্রতি রাতে ঘুরে বেড়ায় আবার কখনো কখনো একই স্থানে স্থির হয়ে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা অনুযায়ী বন্নি ঘাসের এই আলো তাদের জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে আর বছরের পর বছর একই ভাবে এই ঘটনাটি ঘটে চলেছে এখানে। কিছু মানুষ দাবি করেন যে এই অদ্ভুত আলো বহুবার তাদের পিছু নিয়েছে কিন্তু তাদের কোন ক্ষতি করেনি। এই অদ্ভুত আলোর পেছনে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তার ব্যাখ্যা  আজও কেউ দিতে পারেনি।

আজ এই পর্যন্তই আশা করি ভিডিওটি আপনাদের ভাল লেগেছে যদি ভিডিওটি ভাল লাগে ভিডিওটি কে লাইক ও শেয়ার করুন এবং আরও মানুষের জানার সুযোগ করে দিন দেখা হবে। ধন্যবাদ।

সুমন্ত

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here