পিরামিডের ৫ টি অদ্ভুত রহস্য যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারেনি || পিরামিড রহস্য

0
150

আপনি হয়তো জানেন সুদানে মিশরের থেকে বেশি পিরামিড রয়েছে আর বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পিরামিড রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকায়। যদিও আমরা এখনো জানি না যে কি উদ্দেশ্যে এবং কি জন্য বানানো হয়েছিল এই বিশাল বিশাল পিরামিড গুলি, আর প্রাচীন এক সভ্যতা থেকে আরেক সভ্যতার মধ্যে হাজার হাজার মাইল দূরত্ব থাকলেও সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত যেসব পিরামিড খুঁজে পাওয়া গেছ, সেই সব গুলির মধ্যে এক অদ্ভুত সামঞ্জস্য খুঁজে পেয়েছে গবেষকেরা।

পৃথিবীর একমাত্র ৮ পার্শ যুক্ত পিরামিড ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

গিজার গ্রেট পিরামিডের কথা নাম আপনি অবশ্যই শুনেছেন, অনেকে হয়তো স্বচক্ষে দেখেও এসেছেন। এর বিশালত্ব যতটা আপনাকে অবাক করবে তার থেকে বেশি অবাক করবে যখন আপনি জানবেন যে এটাই বিশ্বের একমাত্র, এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়ার ৮ পার্শ যুক্ত পিরামিড। যদিও এই অসাধারণ নির্মাণ কৌশল ভূমিতে বা দূর থেকে দেখলে বোঝা যায় না। বোঝা যায় শুধুমাত্র উপর থেকে এবং বছরের বিশেষ একটি সময়। শরৎ ও বসন্ত কালে ভোরে এবং সূর্যাস্তের আলোয় কেবলমাত্র দেখা মেলে এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যকলার।

তাপমাত্রার তারতম্য ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে গিজার গ্রেট পিরামিডের ভেতর উষ্ণ এবং অপেক্ষাকৃত শীতল দুটি জায়গা রয়েছে। যেখানকার তাপমাত্রা বলতে গেলে সব সময় প্রায় একই রকম থাকে। বলা হয় হাজার হাজার বছর ধরে এই একই তাপমাত্রা ধরে রেখেছে এই পিরামিডটি। পিরামিডের ভিতরে লুকানো কোন স্থাপনা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য বিজ্ঞানীরা আধুনিক ইনফারেট এবং থ্রিডি প্রযুক্তি ব্যবহার করছিলেন। ইনফারেট এবং থার্মো গ্রাফিক পরীক্ষায় পিরামিডের ভিতর বেশকিছু অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে, পরীক্ষায় দেখা যায় পিরামিডের ভিতর এক পাশে উষ্ণ এবং এক পাশে একটি শীতল এলাকা রয়েছে। যদিও কি কারনে বা কিভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের এমন পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল প্রাচীন মিশরীয়রা তা এখনো জানা যায়নি।

আরও পরতে ক্লিক করুন ঃ- নিখোঁজ হওয়া জাহাজ ৯০ বছর পর বারমুডা ট্রাঙ্গেল থেকে ফিরে এলো

প্রাচীনতম পিরামিড ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

পিরামিডের কথা উঠলেই আমাদের সামনে মিশরের ছবি ভেসে ওঠে কিন্তু এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া পিরামিড গুলির মধ্যে সবচেয়ে পুরনো পিরামিডটি কিন্তু মিশরে নয় রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাভা প্রদেশ। গুনান পেদান নামে প্রায় নিচে চাপা পড়ে যাওয়া এই পিরামিডটি যে সবচেয়ে পুরনো পিরামিড এই নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিতর্ক রয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুগের জিও ইলিট্রি এবং জিও ম্যাগনেটিক পরীক্ষায়, এই পিরামিডের প্রায় ৫০ ফুট গভীরে একটি বিশাল কক্ষের খোঁজ পায় গবেষকেরা। এছাড়া আগ্নেয়শিলা কেটে বানানো পাথরের বিশাল সবিশাল খন্ড গুলি পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা জানান, তা খ্রিস্টেরও জন্মের সাত হাজার বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। আবার অনেকের মতে এই পিরামিডটি কুড়ি হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। ভূতত্ত্ববিদ ডক্টর ড্যানি হিলম্যানের মতে প্রায় ৩১১ ফুট উঁচু এই পিরামিডটি নির্মাণে যে ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা দেখাতে হয়েছে তাতে প্রমানিত হয় প্রাচীন সভ্যতার মানুষেরা জ্ঞান বিজ্ঞানে কতটা উন্নতি করতে সক্ষম হয়েছিল।

দক্ষ শ্রমিক না ক্রীতদাস ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

অনেকদিন ধরেই মানুষের মধ্যে একটা ধারণা ছিল পিরামিড বানানোর কাজে ফারাওরা দাসদের ব্যবহার করত, কিন্তু যদি বলা হয় সাধারণ দাসদের পক্ষে এত নিখুঁতভাবে পিরামিড তৈরি করা সম্ভব হলো কিভাবে? তাহলে কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। ১৯৯০ সালে একটি পিরামিডের পাশে একটি দেওয়াল আবিষ্কার করা হয়। পরে জানা যায় সেটা আসলে একটি কবর, দেওয়াল লেখা হায়ারোগ্লিফিক লিপির মানে উদ্ধার করে জানা যায় কবরে শায়িত ব্যক্তিটি পিরামিড নির্মাণের একজন দক্ষ ব্যক্তি ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে পিরামিডের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার পাশে একজন সাধারণ নির্মাণ শ্রমিককে কবর দেয়া হয়েছিল কেন। এরপরে অনেকেই মত প্রকাশ করেন যে পিরামিড তৈরি করার জন্য সমগ্র মিশর থেকেই দক্ষ শ্রমিকরা আসতেন আর কাজ করতে গিয়ে কারোর মৃত্যু হলে সম্মান দেখিয়ে তাকে ফরহাদের পাশে কবর দেওয়া হত।

হারিয়ে যাওয়া শীর্ষ ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

গিজার গ্রেট পিরামিডের ভেতর কোন মমি খুঁজে না পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে তবে কি উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছিল এই পিরামিডটি, আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এই পিরামিডের চূড়ায় এক সময় একটা সমতল ত্রিকোণাকার মূল্যবান পাথর বসানো ছিল। যা কোনো এক সময় চুরি হয়ে গিয়েছিল বলে মিশরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। আবার এক প্যানিস গবেষকের মতে ওই পিরামিডের চূড়ায় একটি গোলক বসানো ছিল যা হোরাসের চোখ নামে পরিচিত ছিল। প্রাচীন মিশরীয়দের কাছে এই চোখ বিপদ থেকে রক্ষা, রাজকীয় ক্ষমতা এবং ভালো স্বাস্থ্যের প্রতিক ছিল। তার মতে গিজার পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিল সূর্য এবং আকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারা লুব্ধকের পুজো করার জন্য। লুব্ধক তারাটি ছিল মিশরীয় দেবী আইসিসের সাথে সম্পর্কযুক্ত কিন্তু পিরামিডের এই চুরি যাওয়া শীর্ষটি খুঁজে না পাওয়া গেলে কখনোই জানা যাবে না যে কি রহস্য লুকিয়ে রয়েছে গিজার এই পিরামিডে।

ভিডিওটি দেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভিডিওটি ভালো লাগলে লাইক করুন এবং শেয়ার করে আপনার বন্ধুদের জানবার সুযোগ করে দিন।

সুমন্ত ………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here