ছদ্মবেশী ৬টি হামলা যা আপনাকে অবাক করবে || ক্যামোফ্লাজ সুরক্ষা

0
160

পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সেনাবাহিনীরাই নিজেদের সুরক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে আসছে। তারা বছরের পর বছর ক্যামোফ্লাজ ব্যবহার করে আসছে শত্রুদের কাছ থেকে নিজেদের লুকিয়ে রাখার জন্য। প্রথমে আমরা জেনে নেব ক্যামোফ্লাজ কি ? ক্যামোফ্লেজের অর্থ হচ্ছে ছদ্মবেশ। বিশেষ উপকরণ, রং, লুকানোর জন্য বিভিন্ন আলোকসজ্জা ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রকৃতির বিভিন্ন প্রান্তের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে ব্যবহার করা হয় এই ক্যামোফ্লাজ। পৃথিবীর ইতিহাসে কিছু সাহসী সেনাবাহিনীরা, এই ছদ্মবেশে ব্যাবহার করে বিভিন্ন যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। আজ তাদেরই গল্প আপনাদের শোনাতে চলেছি।

ক্যামোফ্লেজ ট্রি ঃ-

ক্যামোফ্লেজ ট্রি
rohoshyosondhane

আপনি হয়তো বিভিন্ন হলিউডের মুভিতে ক্যামোফ্লেজ ট্রি দেখেছেন। এর ব্যবহার খুবই চমকপ্রদ। আপনি হয়তো ভাবছেন এত কিছু থাকতে কেনো এই গাছের ছদ্মবেশ বরং তারা গাছের লতা পাতার ব্যবহার করলেই পারতো। কিন্তু এর পেছনে কারণটি হলো যুদ্ধ কবলিত এলাকায় অনেক গাছপালা পড়ে যায় এবং অনেক গাছ নষ্ট হয়। আর তখন থেকেই ক্যামোফ্লেজ হিসাবে গাছ ব্যবহার করার একটি কনসেপ্ট চলে আসে আর এটি খুবই কার্যকারি। ক্যামোফ্লেজ ট্রি হচ্ছে আসল গাছের এক ধরনের প্রতিরূপ। আসল গাছ কেটে বা গাছের গুড়ির ভেতরে গর্ত করে লুকিয়ে থাকে সেনারা। এর মধ্যে কোন সৈন্য খুব সহজেই লুকিয়ে থেকে প্রতিপক্ষের ওপর নজরদারি চালাতে পারে।

ড্যামি আর্মি ঃ-

ড্যামি আর্মি
rohoshyosondhane

নকল ট্যাংক, নকল সৈন এবং নকল বিমান। এই যেন নকলের ছড়াছড়ি। যখন যুদ্ধ প্রসঙ্গ আসে তখন আপনার কাছে যত বেশি সৈন্য থাকবে আপনার জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। কিন্তু খুব দ্রুত সৈন্য সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। যদি আপনার কাছে সৈন্য সংখ্যা কম থাকে তাহলে আপনি রোবট আর্মি বা নকল আর্মি ব্যাবহার করতে পারেন। ইউ এস এর রয় ইঞ্জিনীরিং টিম, ড্যামি আর্মি তৈরি করেছিলেন যা দেখতে হুবহু মানুষের মত এবং কাজও করে মানুষের মতোই। এইটাই শুধু ফেক নয়, এছাড়া যুদ্ধ ট্যাংকের ড্যামিও ব্যবহার করেছিল তারা। ১৯৪২ এবং ১৯৪৪ সালে এমনই নকল আর্মি সরঞ্জাম নিয়ে, প্রায় ২০০ টি যুদ্ধে তারা ছলচাতুরি করেছিল। ইউ এস এজেন্সি আর্ট স্কুল থেকে তারা এক হাজারেরও বেশি আর্টিস্ট হায়ার করে। আর এই আর্টিস্ট্রিরাই বানিয়েছিল জীবন্ত আর্মির অবায়ব এবং যুদ্ধ ট্যাংক। যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের এই ছলচাতুরি খুবই কার্যকারী হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানিরাও এমনই ড্যামি আর্মি ব্যবহার করেছিল।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- অটুট বন্ধুত্ব – অসাধারন এই প্রানী গুলোও মানুষকে ভালোবাসতে পারে ( পর্ব – ২ )

শ্যাডো শিল্ড ঃ-

শ্যাডো শিল্ড
rohoshyosondhane

এখানে এমন একটি জিনিস রয়েছে যা আপনাকে অবাক করবে। যেকোনো জায়গায় ছদ্মবেশ ধরার জন্য এটি খুবই কার্যকর, এটি হচ্ছে শ্যাডো শিল্ড যা ব্যবহার করে সৈন্যরা তাদের টার্গেটের কাছাকাছি পৌছে যায়। শ্যাডো শিল্ড হচ্ছে একটি রিফ্লেক্টিভ ওয়াল যা প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজের একটি প্রতিরূপ তৈরি করে। এটার পেছনে যদি কেউ যদি লুকিয়ে থাকে, তাকে দূর থেকে কেউ দেখতে পাবে না। এখানে নিজের প্রতিবিম্ব দেখা যায় না কিন্তু বাইরে থেকে কেউ দেখলে সে আয়নায় প্রতিফলিত জিনিসই দেখতে পাবে। এটা শুধু সৈন্যরাই ব্যবহার করে না বরং শিকারিরাও এর ব্যবহার করে।

সিপ ক্যামোফ্লেজ ঃ-

সিপ ক্যামোফ্লেজ
rohoshyosondhane

এটা কি কোন সিপ নাকি কোন আইল্যান্ড। এটি একটি অসাধারণ আইডিয়া। কোন যুদ্ধজাহাজকে আইল্যান্ডের আদলে ঢেকে ফেলতে পারলে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুদের চোখে ধুলো দেওয়া সুবিধাজনক। ডাচ ইস্ট ইন্ডিজরা ১৯৪১ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাথে যুদ্ধ করার রাস্তা হিসেবে বেছে নিয়েছিল সমুদ্রকে। কিন্তু তাদের বেশিরভাগ জাহাজই যুদ্ধক্ষেত্রে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল শুধুমাত্র একটি জাহাজ ছাড়া, কারন সেই জাহাজের ক্যাপ্টেন সকলের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জাহাজটিকে আইল্যান্ডের আদলে সাজিয়ে তোলার। গাছ লতাপাতা পাথর দিয়ে সেটিকে এমনভাবে ঢেকে ফেলা হয় যাতে এটিকে দেখে মনে হয় একটি আইল্যান্ড জলের উপর ভাসছে আর সেই কারনেই যুদ্ধক্ষেত্রে এই জাহাজটির কোন ক্ষতি হয়নি।

ক্যামিলিয়ন ক্যামোফ্লেজ ঃ-

ক্যামিলিয়ন ক্যামোফ্লেজ
rohoshyosondhane

রাশিয়ান কোম্পানি রুশ ইলেকট্রনিক সবচেয়ে অত্যাধুনিক ক্যামোফ্লেজ তৈরি করে। তারা এমন ধরনের ক্যামোফ্লেজ তৈরি করে যা সময়ের পরিবর্তনে ঠিক গিরগিটির মতো রং পরিবর্তন করে। এই ক্যামোফ্লেজ পোশাক গুলি আশেপাশের পরিবেশ থেকে রং ধারণ করে নিজের রঙের পরিবর্তন করে। এমন ক্যামোফ্লেজ নির্মাণ করতে পলিমার ব্যবহার করা হয়, এটি যেকোন পরিস্থিতিতে রং পরিবর্তন করতে সক্ষম। এটা শুধু মিসাইল বেস রক্ষাতেই ব্যবহার হয় না বরং বড় বড় ট্যাংক লুকিয়ে ফেলতেও এর ব্যবহার করা হয়। এছাড়া রাশিয়ার সোলজার ক্যামোফ্লেজ সিস্টেম রয়েছে তারা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তাদের সোলজারদের লক্ষ্য রাখে এবং সেই পরিবেশ অনুযায়ী সোলজারদের ক্যামোফ্লেজের রং পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। রাশিয়ান কোম্পানি রোস ট্যাগ এই ডিজাইনটি করেন। এই আইডিটি স্নাইপারদের সুরক্ষিত রাখে যাতে তারা মাথা তুলে শুট করতে পারে। এছাড়া মিলিটারি গাড়ি এবং হেলিকপ্টার লুকিয়ে ফেলতেও এটির ব্যবহার করা হয়।

মাইন ক্রাফট ক্যামোফ্লেজ ঃ-

মাইন ক্রাফট ক্যামোফ্লেজ
rohoshyosondhane

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ১৭তম বার্ষিকী পালন করছিল চীন। সব সময়ের মতোই দেশটি তাদের মিলিটারি শক্তির ডিসপ্লেও করছিল। যেখানে ছিল ১০৫ টি অত্যাধুনিক মিলিটারি গাড়ি, এই গাড়ি গুলিকে রং করতে চায়না এক ডিজিটাল ক্যামোফ্লেজ প্যাটার্ন ব্যবহার করেছেল। সাধারণত মিলিটারি গাড়িগুলি সবুজ রঙের হয় কিন্তু এখানে তারা নীল সাদা এবং কালো রং এর প্যাটার্ন ব্যবহার করে। আর অবাক করা বিষয়টি হল এই ক্যামোফ্লাজটি সত্যই আসাধারন কাজ করে। বিগত ৪০ বছর ধরে বিভিন্ন দেশের ক্যামোফ্লাজ নির্মাতারা ক্রমশ ডেভলপ করে চলেছে তাদের নির্মান প্রযুক্তি।

ধন্যবাদ …………

সুমন্ত ………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here