৭টি প্রাচীন শহর যা রহস্যময়ভাবে মানব সভ্যতা থেকে হারিয়ে গিয়েছিল

0
97

ইতিহাসের হারিয়ে যাওয়া কিছু রহস্যময় প্রাচীন শহর। অ্যাটলান্টাস বা সোনার শহর এলডোরাডো কাল্পনিক হতে পারে, কিন্তু ইতিহাসে এরকম অনেক শহর রয়েছে যা আজও মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। এই শহরগুলি হারিয়ে গেছে কালের অতল গভীরে, কিন্তু রেখে গেছে কখনো সমাধান না হওয়া অসংখ্য রহস্য। আর আজও সেই সকল প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছে আধুনিক মানুষেরা। আজ আমরা সেই রহস্যময় শহর গুলির ব্যাপারে কথা বলবো যা হঠাৎ করেই কালের গভীরে হারিয়ে গিয়েছিল।

মাচুপিচু ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ইনকা সভ্যতার ধারক হলো এই মাচুপিচু। ১৯১১ সালে আমেরিকান ঐতিহাসিক হিরাম বিংহাম দ্বারা আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মাচুপিচু ছিল বাইরের দুনিয়ার কাছে অচেনা অজানা একটি শহর। মেক্সিকোতে অবস্থিত এই সভ্যতা। মাচুপিচু আবিষ্কারের পূর্বে এটি যতটা না রহস্যময় ছিল, তারচেয়ে এটি আবিষ্কারের পর রহস্য আরও বেড়ে যায়। পর্বতের আড়ালে গড়ে ওঠা এই বিস্ময়কর সভ্যতা কেন গড়ে উঠেছিল, কিংবা এই সভ্যতার মানুষদের ভাগ্যে কি ঘটেছিল তা আজও পৃথিবীর সমস্ত প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে অসমাধিত একটি প্রশ্ন।

পেত্রা ঃ-

Petra, Jordan
Petra, Jordan

পাথরের পাহাড়ের পাদদেশে বিস্ময়কর ভাবে গড়ে ওঠা পেত্রা, তার শিলাকাটা আর্কিটেকচারের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। এটি জর্ডনের সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ১৮১২ সালের আগে পর্যন্ত এই প্রাচীন শহরটি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অজানাই রয়ে গিয়েছিল। ইউনেস্কো এটিকে ১৯৮৫ সালে একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান বলে ঘোষণা করে। ইন্ডিয়ানা জোন্সের বিখ্যাত সিরিজ মুভি, দ্য লাস্ট ক্রশানের শুটিং হয়েছিল এই পেত্রা নগরীতে। পাথরের পাহাড় কেটে কারা এই শহরটিকে নির্মাণ করেছে, তা ইতিহাসবিদদের কাছে আজও রহস্য। গ্রীকদের সাথে বাণিজ্য করতো এই সভ্যতার আধিবাসীরা, এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে ইতিহাসবিদরা খুঁজে পান শহরটিকে।

মেম্ফিস ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

মেম্ফিস সত্যিই ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ শহরগুলির অন্যতম। মেম্ফিস মানব সভ্যতার ইতিহাসের প্রথম রাজকীয় নগর, প্রথম রাজবংশের সময়কাল ৩০০০ থেকে ২৮০০ খ্রিস্টপূর্ব। প্রথম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রাজা মেনেস। তিনি মিশরের ইতিহাসে প্রথম উল্লেখযোগ্য ফারাও, যিনি উচ্চভূমির মিশর এবং নিম্নভূমির মিশরকে সংযুক্ত করেছিলেন আর এই অবিভক্ত মিশরের রাজধানী ছিল মেম্ফিস। আধুনিক ইতিহাসবিদ এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি স্বর্গোদ্যান। মিশরের রাজকীয় গরস্থানটি এইখানেই অবস্থিত আর এটিকে বলা হয় কিংস ভ্যালি।

তিকাল ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

তিকাল হলো প্রাচীন মায়ান সভ্যতার এক ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর। বর্তমানে উত্তর গুয়েতমালার পেতেন বাসিনে এটি অবস্থিত। এল পেটেন্ট বিভাগে অবস্থিত গুয়েতেমালার তিকালের জাতীয় অংশ। তিকাল ছিল প্রাচীন মায়ান সভ্যতার রাজধানী এবং সর্বাপেক্ষা ক্ষমতাশালী রাজ্যের একটি। যদিও তিকালের স্মৃতিসৌধ স্থাপত্যের বয়স খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দি, কিন্তু তার প্রাচীন সময়কাল ধরা হয় ২০০ থেকে ৯০০ খ্রিস্টাব্দ।

আরও পরতে ক্লিক করুন ঃ- কতটুকু সোনা ও রুপা দিয়ে তৈরি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ট্রফি? ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাস

বিজয়নগর ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

এটি দক্ষিণ ভারতের একটি মধ্যযুগীয় সাম্রাজ্য। পর্তুগিজরা এই সাম্রাজ্যকে ভিসনগর রাজ্য হিসাবে অভিহিত করে। এই সাম্রাজ্যের নিদর্শন স্বরূপ নানা স্থাপত্য ছড়িয়ে রয়েছে সমস্ত দক্ষিণ ভারত জুড়ে। এর শ্রেষ্ঠ নিদর্শন অবশ্যই হাম্পি। দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন মন্দির নির্মাণ শৈলী গুলির সংমিশ্রণে সৃষ্টি হয়েছিল বিজয় নগরের স্থাপত্য। এর হিন্দু নির্মাণশৈলী গুলির মধ্যে সকল ধর্ম বিশ্বাস ও স্থানিয় শৈলী গুলির মিশ্রন ঘটেছিল। স্থানীয় গ্রানাইট পাথরে, এই শৈলী গড়ে ওঠে। বিজয়নগর সাম্রাজ্য, শিল্প এবং সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিল। কন্নড়, তেলেগু, তামিল ও সংস্কৃত সাহিত্যে, এই সাম্রাজ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। কর্নাটকের সংগীত এই সাম্রাজ্যের রাজত্বকালে তার বর্তমান রূপটি লাভ করে।

ব্যাবিলন ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ শকাব্দে নির্মিত হয়। সম্রাট নেবুচাদ নেজার, তার সম্রাজ্ঞীর প্রেরণায় এটির নির্মাণ করেন। প্রথমে, নির্মাণ করা হয় বিশাল এক ভীত যার আয়তন ছিল ৮০০ বর্গফুট। ভীতটিকে স্থাপন করা হয় তৎকালীন সম্রাটের, খাস উপাসনালয়ের সুবিস্তৃত ছাদে। ভিত্তি স্থাপন করার পর মাটি থেকে এর উচ্চতা দাঁড়িয়েছিল ৮০ ফুট আর এই ভিত্তির উপরে নির্মিত হয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই উদ্যান। এই উদ্যানটি ৪০০০ শ্রমিক রাত দিন পরিশ্রম করে তৈরি করেছিল। এই বাগান পরিচর্যার কাজে নিয়োজিত ছিল ১০৫০ জন মালি। ৫ থেকে ৬ হাজার ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছিল এই ঝুলন্ত বাগানে। ৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই বাগানের সুউচ্চ ধাপগুলিতে, নদী থেকে জল ওঠানো হত মোটা প্যাচানোর নলের মাধ্যমে। ৫১৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পার্শ্ববর্তী পারস্য রাজ্যের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে, এই সুন্দর উদ্যানটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।

মহেঞ্জোদারো ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

প্রাচীন ভারতের সিন্ধু সভ্যতার বৃহত্তম নগরী গুলির মধ্যে অন্যতম হলো মহেঞ্জোদারো। এটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত। ২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ নাগাদ নির্মিত এই শহরটি ছিল বিশ্বের প্রাচীনতম শহর গুলির অন্যতম। এবং প্রাচীন মিশর মেসোপটেমিয়া এবং গ্রিক সভ্যতার সমসাময়িক। এই শহরের পুরাতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ, বর্তমানে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী একটি স্থান। এটিকে প্রাচীন সিন্ধু মহানগর নামেও অভিহিত করা হয়।

ধন্যবাদ ………

সুমন্ত ……

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here