২৪০০০ ফুট ওপরে ভেঙে গেল বিমানের ছাদ তারপর কি হলো দেখুন || এয়ারক্রাফ্ট বোইং ৭৩৭

0
109

২৮ শে এপ্রিল ১৯৮৮ সময়টা হল ঠিক ১:২৫ একটি ১৯ বছরের পুরানো এয়ারক্রাফ্ট বোইং ৭৩৭ যেটা আলভা এয়ারলাইন্সের প্রপার্টিস ছিল,যেটি হিলো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে হনুলুলু যাওয়ার জন্য টেক অফ করে । ঐদিন বোইং সেভেন থার্টি সেভেন এয়ারক্রাফট অলরেডি তিনবার যাত্রা করে ফেলেছি ।

Boeing 737
rohoshyosondhane

সবার প্রথম এই এয়ারক্রাফ্ট হনলুলু থেকে হিলো পৌঁছায়,সেখান থেকে মাওই এবং তারপর মাওই থেকে কুয়েই । ঐদিন আকাশ একদম পরিষ্কার ছিল আর দেখে একদমই মনে হচ্ছিল না যে শীঘ্রই একটা খুব খারাপ ঘটনা ঘটতে চলেছে । প্লেনের ক্যাপ্টেন রবার্ট সনস থাইমার যার বোইং সেভেন থার্টি সেভেন এয়ারক্রাফটে ৬,৭০০ ঘন্টা পর্যন্ত প্লেন চালানোর এক্সপিরিয়েন্স ছিল । আর অন্যদিকে প্লেনের ফার্স্ট অফিসার ৩৬ বছরের মেডেলীন টমকিনস যার এই এয়ারক্রাফটে ৩,৫০০ ঘন্টার ফ্লাইট এক্সপিরিয়েন্স ছিল । ২৫ শে এপ্রিল হনলুলু এয়ারপোর্টে বোইং সেভেন থার্টি সেভেন এয়ারক্রাফটের ফার্স্ট অফিসার ওই প্লেনের প্রয়োজনীয় প্রিফ্লাইট ইনস্পেকশন করছিল আর সবকিছু চেক করার পর প্লেন উড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ছিল ।

Boeing 737
rohoshyosondhane

সকাল ঠিক ১১ টার সময় এয়ারক্রাফটটি হনুলুলু এয়ারপোর্ট থেকে মাওই-এর জন্য রওনা হয় আর সেখান থেকে প্লেনটি হিলো এয়ারপোর্টে যাবে । যখন এয়ারক্রাফটটি নিজের গন্তব্য মানে মাওই পৌঁছায় তখন প্লেনে থাকা পাইলট বাইরে গিয়ে প্লেনের ইনসপেক্ট করা প্রয়োজনীয় মনে করে না । আসলে প্রতিবার একটি ফ্লাইট কমপ্লিট করার পর প্লেনের রুটিন চেকআপ করা হয় যে প্লেনে কোন ড্যামেজ বা টেকটিকাল কোন খারাপ না আসে যদিও এটা করা একদমই কম্পলসারি নয় । আর হয়তো এজন্যই প্লেনের পাইলট এই স্টেপকে স্কিপ করা ঠিক মনে করেন । তো দুপুর একটা বেজে পঁচিশ মিনিটে প্লেন আবারো একবার উড়ে যাওয়ার জন্য তৈরি ছিল । যেখানে ৭৯ জন প্যাসেঞ্জার,তিনজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টস আর দু’জন পাইলট ছিলেন । প্লেন উড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরে প্লেন মাটি থেকে প্রায় ২৪ হাজার ফুট উঁচুতে আকাশে উড়ে যাচ্ছিল কিন্তু ১ বেজে ৪৮ মিনিটে মাওই থেকে ঠিক ২৬ মিল দূরে ওই ঘটনাটি ঘটে যার সম্পর্কে কেউ চিন্তাও করেনি । প্লেনে থাকা সব প্যাসেঞ্জার তখন একটি আজব রকমের আওয়াজ শুনতে পায় যেন কোন গর্তের ভিতর দিয়ে খুব দ্রুত গতিতে হাওয়া বয়ে চলেছে আর দেখতে দেখতেই প্লেনের লেফট পোরশানের ছাদ ভেঙে প্লেন থেকে আলাদা হয়ে যায় ।

aloha airlines flight boeing 737
rohoshyosondhane

যার ফলে প্লেনের বাইরের এবং ভিতরের এয়ার প্রেসার একই রকম হয়ে যায় । আর প্রথমে ছাদের যে ছোট অংশ ভেঙে গিয়েছিল সেই জায়গা ভাঙতে ভাঙতে প্রায় ১৯ ফুট লম্বা হয়ে যায় । এখন আপনি চিন্তা করতে পারেন এই ঘটনাটি ওই প্লেনের জন্য কতটা ভয়ঙ্কর ছিল । প্রথমে তো পাইলট কিছুই বুঝতে পারে না যে আসলে হয়েছে কি কেননা প্লেনের ড্যামেজ পার্ট তাদের পিছনে ছিল । ককপিটে বসা ফার্স্ট অফিসার যিনি ঔ সময় এয়ারক্রাফটকে কন্ট্রোল করছিল তার এমন মনে হয়েছিল যেন তার মাথাকে কেউ পিছনের দিকে টেনে নিয়ে আসছে । আর তখনই তিনি পিছনে ঘুরে দেখেন প্লেনের ভেঙে যাওয়া টুকরো রেন্ডামলি প্লেনের এদিকে ওদিকে উড়ছিল আর যখন প্লেনের ক্যাপ্টেন পিছনে ঘুরে দেখেন তখন প্লেনের দরজা সেখান থেকে গায়েব হয়ে যায় আর উপরের দিকে দেখেন তো তিনি শুধু নীল আকাশই দেখতে পায় ।

aloha airlines flight boeing 737
rohoshyosondhane

এরপর ওই এয়ারক্রাফট কোন পেন্ডুলামের মতো একবার বাম দিকে ঝুঁকে পড়ছিল আর একবার ডান দিকে । আর এতটা ডিস ব্যালেন্সের কারণে প্লেনকে কন্ট্রোল করা খুবই কষ্টকর হচ্ছিল । এই সময় প্লেনে থাকা সকল প্যাসেঞ্জার নিজের নিজের অক্সিজেন মাক্স পরে নেয় আর ক্যাপ্টেন প্লেনকে নিজের কন্ট্রোলে আনার পুরো চেষ্টা করেন । সেই সময় প্লেনের সব থেকে কাছের এয়ারপোর্ট মাওই আইল্যান্ডে ছিল । এরই মধ্যে একটি ভালো খবর ছিল যে যখন এই ঘটনাটি ঘটে তখন প্লেনে থাকা প্রতিটি প্যাসেঞ্জার নিজের সিট বেল্ট পরেছিল অন্যথা ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথেই প্লেনে থাকা প্রতিটি প্যাসেঞ্জার নিচে খোলা আকাশে পড়ে যেত । প্লেনে থাকা তিনজন অ্যাটেনডেন্সের মধ্যে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ভেঙে যাওয়া দরজার একদম সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল আর হাওয়া ভিতরে ঢুকতেই দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্লেন থেকে নিচে পড়ে যায় ।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ-  সৌরজগতের ৫টি উচ্চতম পর্বত যাদের কাছে মাউন্ট এভারেস্টও অনেক ছোট

aloha airlines flight boeing 737
rohoshyosondhane

যখন প্লেনের ভিতর এইসব হচ্ছিল তখন প্লেনের পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে কনট্রাক করার চেষ্টা করেন । অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে প্লেনের পাইলট একজন অন্যজনের আওয়াজ পর্যন্ত শুনতে পারছিলো না আর তারা ইশারার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কন্টাক্ট করছিল এমন এজন্য হচ্ছিল কেননা প্লেনের ভিতর খুব জোরে হাওয়া বইছিল যার কারনে কাছাকাছি থেকেও কিছুই শোনা যাচ্ছিল না । পাইলট তো এটা পর্যন্ত বুঝতে পারছিল না যে তাদের রেডিও সিগন্যাল কাজ করছে কিনা আর তাদের ইমার্জেন্সি মেসেজেস এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পর্যন্ত ডেলিভারি হয়েছে কি হয়নি এ সম্পর্কেও তারা সিওর ছিল না । আর যতক্ষনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পর্যন্ত মেসেজেস পৌঁছায় ততক্ষনে এই প্লেন মাটি থেকে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে ছিল । সিগন্যাল পৌঁছাতেই মাওই এয়ারলাইনসের স্টাফ ইমারজেন্সি ল্যান্ডিং-এর প্রস্তুতি নিয়ে নিয়েছিল কিন্তু এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল টাওয়ারের কাছে এমন কোন খবর ছিল না যে এয়ারক্রাফটের মেডিকেল হেল্পেরও প্রয়োজন আছে ।

aloha airlines flight boeing 737
rohoshyosondhane

কেননা প্লেনের পাইলট তাড়াতাড়ি এমনটাই বলেছিল যে ইয়ার ডিফরেন্স-এর কারণে এয়ারক্রাফটে রাপিট ডি-কম্প্রেসার হয়েছে কিন্তু প্লেনের কারেন্ট কন্ডিশনের সম্পর্কে ডিটেলসে বলার সময় ক্যাপ্টেনের কাছে ছিল না । দেখতে দেখতেই প্লেন মাটি থেকে ১০ হাজার ফুট উঁচুতে চলে আসে । তখন প্লেনের ক্যাপ্টেন নিজের অক্সিজেন মাফ পরে নেয় আর স্পিড ব্রেকার’কে বন্ধ করেন । প্লেন এখনো পর্যন্ত আকাশে টিকে ছিল আর দ্রুত গতিতে এয়ারপোর্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল । ক্যাপ্টেনের ইশারার সাথে সাথেই ফার্স্ট অফিসার ল্যান্ডিং গিয়ারকে নিচের দিকে করে দেন কিন্তু ল্যান্ডিং গিয়ারের ইনডিকেটর অন হচ্ছিল না । এর কারণ কেবলমাত্র দুটো ব্যাপারই হতে পারত । হয় ওই ইন্ডিকেটর লাইট খারাপ হয়ে গিয়েছে অথবা ল্যান্ডিং গিয়ারে সত্যিই কোন বড় ধরনের প্রবলেম দেখা দিয়েছিল । আর এই প্রবলেম সাথে সাথেই রান ওয়ের দিকে এগিয়ে আসতেই প্লেনের লেফট ইঞ্জিন কাজ করা বন্ধ করে দেয় । ক্যাপ্টেন লেফ্ট ইঞ্জিনকে আবার একবার চালু করার চেষ্টা করেন কিন্তু তা পুরোপুরি ড্যামেজ হয়ে যায় । এতটা বিপদের শর্তেও প্লেন ১ টা বেজে ৫৮ মিনিটে এয়ারপোর্টের রানওয়েকে টাচ করে ।

aloha airlines flight boeing 737
rohoshyosondhane

এতটা বিপদের শর্তেও প্লেটকে এমনভাবে ল্যান্ডিং করা সত্যিই খুবই ভয়ংকর ছিল । প্লেনকে থামানো জন্য প্লেনের দ্বিতীয় ইঞ্জিন যেটি তখন কাজ করছিল তার অপজিট ডাইরেকশনের থ্রাস্টের সাহায্য নেওয়া হয় । প্লেন থামতেই সেখানকার রেস্কিউ টিম সাহায্যের জন্য ছুটে আসেন । প্লেনে থাকা প্রতিটি যাত্রীই জীবিত ছিল কেবল মাত্র একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ছাড়া যিনি এয়ারক্রাফটের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন । বাকি লোকের মধ্যে ৬৫ জন লোক প্লেনের ভেঙে যাওয়া অংশের জন্য ঘায়ের হয়েছিল আর তাদের মধ্যে আট জন খুব বেশি এনজিওর ছিল । যারা হসপিটালে প্রয়োজনীয় ট্রিটমেন্ট দেওয়ার পর ঠিক হয়ে যায় । আর অন্যদিকে প্লেন এতটা খারাপ ভাবে ড্যামেজ হয়ে পড়েছিল যে তাকে ঠিক করা একদমই অসম্ভব হয়ে পড়ে আর এজন্যই এয়ারক্রাফটকে সেখানেই ডিসমেন্টাল করে দেওয়া হয় । কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনার পিছনের কারন এই প্লেনের ফ্লাইট সাইকেলকে বলা হয়েছিল মানে খুব শর্ট টাইমে প্লেন প্রয়োজনের থেকে বেশি টেক অফ আর ল্যান্ডিং করেছিল । ফ্লাইটে থাকা একজন প্যাসেঞ্জার নিজের এই ফ্লাইট এক্সপেরিয়েন্সের সাথে জুড়ে থাকা এন্টারভিউতে বলেন যে প্লেনে ওঠার সময় তিনি এয়ারক্রাফটে একটি ছোট ক্রাক নোটিশ করেছিল কিন্তু তার কাছে এই ড্যামেজ ততটা সিরিয়াস ইসু মনে হয়নি আর এজন্যই তিনি ক্রু মেম্বারকে ব্যাপারটি ইনফরম করার বদলে ব্যাপারটিকে ইগনোর করাই ঠিক মনে করেন । তো এই ঘটনাটির পেছনের কারণ আপনি ঐ প্যাসেঞ্জারের অসাবধানতাকে মনে করেন নাকি এতবার ফ্লাইট ল্যান্ডিং আর টেক অফই মেইন কারণ ছিল আপনার রায় কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন ।

ধন্যবাদ …………

সুমন্ত …………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here