আশ্চর্য বিল্ডিং এনালেমা টাওয়ার || গ্রহানুখন্ড থেকে পৃথিবী পর্যন্ত ঝুলন্ত বিল্ডিং নির্মাণের পরকল্পনা

2
423

সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন আকৃতির বিল্ডিং আর এই সমস্ত বিল্ডিং গুলি তাদের নির্মাণগত বৈশিষ্ট্যের জন্য,আজ সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। কিন্তু আজ আমি এমন একটি আশ্চর্য বিল্ডিং -এর কথা বোলব যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এই বিল্ডিংটির বৈশিষ্ট্য হল,এটি পৃথিবীতে অবস্থিত নয়। আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে, এই রকম একটি গ্রহানুখন্ড থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকবে এই বিল্ডিং। আজকের যুগে আমাদের আধুনিক বিজ্ঞান, এই রকমই এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটাতে চলেছে যা সত্যি আমাদের অবাক করে দেবে।

The Analemma Tower
Photo Credit _ Above Top Secret

পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত কোন গ্রহানুখণ্ড থেকে ঝুলন্ত বিল্ডিং নির্মাণের পরিকল্পনা করছে একটি আর্কিটেকচার ফার্ম।এই আশ্চর্য বিল্ডিং টি তৈরি হতে চলেছে দুবাইতে এবং বিল্ডিংটির নাম রাখা হয়ছে এনালেমা টাওয়ার। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ হতে ৩১ হাজার ৬৮ মাইল অর্থাৎ ৫০হাজার কিলোমিটার উপরে,একটি গ্রহানুখণ্ডের সাথে এই টাওয়ারটি বিশেষ এক ধরনের শক্তিশালী তারের সহায়তায় ঝুলিয়ে রাখা হবে।

Skyscraper
Photo Credit – MIKESHOUTS

আরও নতুন অজানা ও রোমাঞ্চকর ঘটনা জানতে ক্লিক করুন ঃ- রহস্যময় অভিশপ্ত জঙ্গল আওকিগাহারা

গ্রহানুখণ্ডটির কক্ষপথ অনুযায়ী, এই বিল্ডিং পৃথিবীর চারপাশে নির্দিষ্ট গতিতে ঘুরে বেড়াবে। নিউইয়র্ক ও হাভানাসহ আরও আটটি শহরের উপর দিয়ে যাত্রা করবে এই বিল্ডিং।এই অদ্ভুত বিল্ডিংটির ডিজাইন তৈরি করছে ক্লাউড আর্কিটেকচার কোম্পানি। কোম্পানির তরফ থেকে এই আশ্চর্য বিল্ডিং টি দুবাইতে তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কারন আমেরিকার তুলনায় দুবাইতে এই বিল্ডিং তৈরি করার খরচ কম পরবে। হয়ত এই এনালেমা টাওয়ার পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য হতে চলেছে। এই আশ্চর্য বিল্ডিংটি বিভিন্ন অংশে ভাগ করা হয়েছে, বলা হচ্ছে পৃথিবীর সব থেকে কাছের অংশে থাকবে বিনোদন, কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা। আবার মধ্য অংশে আবাসিক এলাকা ও অফিস থাকবে। থাকবে বাগানের ব্যবস্থাও ।

Skyscraper

এই টাওয়ারে বিদ্যুৎ-এর যোগান দেওয়া হবে পেস ব্যেসড সোলার প্যানেল থেকে আর জলের যোগান দেওয়া হবে মেঘ ও বৃষ্টির জল থেকে। এই টাওয়ারটি এত বড় হবে যে, এর নিচের অংশের থেকে উপরের অংশে সূর্যের আলো ৪৫ মিনিট বেশী স্থায়ী থাকবে। বিল্ডিং-এ বসবাসকারী মানুষ-জনের কাছে এর বাইরের দৃশ্য খুবই অদ্ভুত হলেও তারা উপযুক্ত পোশাক ছাড়া বিল্ডিং-এর বাইরে বেড়তে পারবে না, কারন ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩২ হাজার মিটার উচ্চতায়, আবহাওয়া হবে খুবই কঠিন এবং তাপমাত্রা হবে প্রায় মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসেয়াস। ক্লাউড আর্কিটেকচার কোম্পানিটি বলছে যে, নিকট ভবিষ্যৎ-এ কোন গ্রহানুখন্ডের উপর নিয়ন্ত্রন স্থাপন করে তার কক্ষপথকে নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব, তাদের এই বিশ্বাসের পেছনে রয়েছে ইউরোপিয়ান পেস এজেন্সির রজোটা মিশন।

This Tower in Dubai Would be Dangling from Space
Photo Credit – Technology Vista

এই মিশনে প্রমাণ করা হয়েছিলো একটি চলমান গ্রহানুখন্ডের উপর মহাকাশযান অবতরণ করা সম্ভব। অন্য দিকে নাসা তাদের একটি নতুন মিশনে, চাঁদের কক্ষপথে একটি গ্রহানুখন্ড প্রতিস্থাপন করে সেই গ্রহানুখন্ডটিকে নিয়ন্ত্রন করার পরিকল্পনা করছে। এখন প্রশ্ন হল এই আশ্চর্য বিল্ডিং -এ কি সত্যি সাধারন জীবনযাপন করা সম্ভব? আমারত মনে হয়ে না, কারন গ্রহানুখণ্ড থেকে ঝুলে থাকা এই আশ্চর্য বিল্ডিংটিকে আমরা কোন অন্য গ্রহ বা উপগ্রহ বলতে পারি যা আমাদের পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এর ক্ষত্রফল সীমিত হওয়ার ফলে এখানে পৃথিবীর মত কিছুই থাকবে না। না থাকবে রাস্তাঘাট, না থাকবে নদীনালা আর জঙ্গল।

Photo Credit – GudStory

মানে পৃথিবীর মত, প্রাকৃতিক পরিবেশ এখানে থাকবে না। এমনকি এখান থেকে পৃথিবীতে আসতে গেলে ব্যাবহার করতে হবে প্যারাসুট। সে যাই হোক অদূর ভবিষ্যতে এই এনালেমা টাওয়ার হতে চলেছে আধুনিক প্রযুক্তির একটি যুগান্তকারী সৃষ্টি।

এই রকমই অজানা ও রোমাঞ্চকর ঘটনা জানতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।

ধন্যবাদ…………।।

সুমন্ত

rohoshyosondhane

 

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here