জীবজন্তু এই অদ্ভুত আচারনের ব্যাখ্যা বিজ্ঞান আজও খুঁজে পায়নি

0
233

পৃথিবীতে বসবাসকারী সমস্ত জীবজন্তু তাৎপর্যপূর্ণ, সাধারণত আমরা এদের ব্যবহার সহজেই বুঝতে পারি কিন্তু কখনো কখনো এই জীবজন্তুরা এমন কিছু আচরণ করে যা আমরা সাধারণ বুদ্ধি দিয়ে বিচার করতে পারিনা।  আজকের এই ভিডিওতে আমরা জীবজন্তুর সেই অদ্ভুত ব্যবহার সম্বন্ধে জানবো যা দেখে বৈজ্ঞানিকরা ও হতবাক হয়ে গেছে।

ANT DEATH SPIRAL, অ্যান্ট ডেথ স্পাইরাল ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

সর্বপ্রথম জানিয়ে রাখি পিঁপড়েরা চোখে দেখতে পায় না, কিন্তু তবুও এরা সামাজিক প্রাণী হয় যারা সংঘবদ্ধভাবে বসবাস করে। যেহুতো পিঁপড়ে চোখে দেখতে পায় না তাই তারা যখন খাবারের খোঁজে বার হয় তখন তারা রাস্তায় ফেরামন নামক গন্ধ যুক্ত একটি কেমিক্যাল ছড়িয়ে দেয়। এই টেকনিককে সেন্ট স্পেরিং টেকনিক বলা হয়, আর যখন তারা খাবারের সন্ধান পেয়ে যায় তখন তারা তাদের দ্বারা ছড়ানো ফেরামনের গন্ধকে অনুসরণ করে তাদের বাসায় ফিরে আসে। এই ফেরামনের গন্ধটিকে অন্য পিঁপড়েরাও অনুসরণ করে নিজের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যায় কিন্তু যখন কোন পিঁপড়ে কোন কারণবশত রাস্তা হারিয়ে ফেলে তখন তারা সেই ফেরামনের গন্ধটিকে খোঁজার জন্য বৃত্তাকারে ঘুরতে শুরু করে আর তার দেখাদেখি অন্য পিঁপড়েরাও তাকে অনুসরণ করে চক্রাকারে ঘুরতে শুরু করে। যাকে অ্যান্ট ডেথ স্পাইরাল বলা হয়। যেমনটি আমি বলেছিলাম পিঁপড়েরা চোখে দেখতে পায় না তাই তারা যখন চক্রাকারে ঘুরতে থাকে তখন তারা ভাবে যে কোন না কোন সময় তারা বাসায় ফিরে যাবে কিন্তু তারা এমন একটি চক্রভিউতে ফেঁসে যায় যেখান থেকে বেরিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব আর দেখতে দেখতে খিদে এবং তৃষ্ণায় কাতর হয়ে এক এক করে সবাই মারা যায়।

FAINTING GOATS, ফেন্টিং গোটস ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ছাগলের মধ্যে একটি অদ্ভুত আচরণ দেখা গেছে যে তারা হঠাৎই কিছু সেকেন্ডের জন্য অজ্ঞান হয়ে যায়। হাঁটাচলা করতে করতে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আর অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে দেখতে পাওয়া যায় না। এরকম শুধুমাত্র এদের সাথেই কেন হয় তার সঠিক ব্যাখ্যা আজও বিজ্ঞানিকরা দিতে পারেনি, কিন্তু কিছু বৈজ্ঞানিক মনে করেন প্রচন্ড শব্দ এবং হঠাৎই ছোটাছুটি শুরু হলে ছাগলেরা ঘাবড়ে যায়, যার জন্য তাদের এই প্যানিক অ্যাটাকটি হয়। এই ধরনের অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মাওটোনিয়া কঞ্জানিটা নামক বংশগত রোগের কারনে হয় যদিও এই ধরনের রোগের ফলে এদের শারিরীক কোন ক্ষতি হয় না কিন্তু কি হবে যদি তারা এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যেখানে এই ধরনের প্যানিক অ্যাটাকে তাদের জীবন চলে যায় ?

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- স্ট্যাচু অফ ইউনিটি বিশ্বের সবথেকে উঁচু মূর্তি তৈরি করল ভারত                                                         মুভিতে ব্যাবহার করা ৫টি বিস্ময়কর Visual Effects বা কম্পিউটার গ্রাফিক্স                                           রাম সেতুর অস্তিত্ব প্রমান করল নাসা || রাম সেতু                                                                         পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর সেনাবাহিনী

SNAKE EATING ITSELF, স্নেক ইটিং ইটসেলফ ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

কখনো কখনো দেখা গেছে সাপ নিজেকেই নিজে খেতে শুরু করে, সাপের এই অদ্ভুত আচরণের কারণ আজও বোঝা সম্ভব হয়নি। কেন তারা এই আচরণ করে, এটা কি কোন মানসিক রোগ? নাকি তারা কোন ডিপ্রেশনে এসে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ? এর সঠিক কারণ আজও কেউ জানে না। যদিও কিছু বৈজ্ঞানিকরা বলছেন সাপ ঠান্ডা রক্তের প্রাণী, অর্থাৎ তারা তাদের শরীরের তাপমাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা তাদের শরীরকে গরম রাখার জন্য সূর্যের আলোর ব্যবহার করে, কিন্তু যখন তাদের শরীর প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গরম হয়ে যায় তখন তাদের মধ্যে একটি মানসিক বিকার লক্ষ্য করা যায়, যার ফলে তারা নিজেকে প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত মনে করে এবং সেই ক্ষিদে মেটাবার জন্য তারা নিজের লেজকেই খাদ্য ভেবে খেতে শুরু করে দেয়। সাপ যখন নিজের শরীর নিজেই খেতে শুরু করে তখন একটি সার্কেল বানায়, প্রাচীন সভ্যতায় এটিকে কালচক্র হিসাবে দেখানো হয়েছে। প্রাচীন হিন্দু এবং মিশরীয় সভ্যতা এই ধরনের প্রতীক চিহ্ন দেখা গেছে, এই প্রতীক চিহ্নকে অরবোরাস বলা হয়ে। প্রাচীন মিশরীয়রা মনে করতেন সময় পরিবর্তনশীল,  এর একদিকে যেমন ধংস হচ্ছে ঠিক তার অন্যদিকে নতুন কিছু সৃষ্টি হচ্ছে

DOG’S ALIEN HAND SYNDROME , ডগস এলিয়ান হ্যান্ড সিনড্রোম ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

কুকুরের মধ্যে একটি অদ্ভুত আচরণ দেখতে পাওয়া গেছে যাকে ডগস এলিয়ান হ্যান্ড সিনড্রোম নাম দেয়া হয়েছে। এই সিনড্রোমে আক্রান্ত কুকুরকে তার নিজের পা-ই বিরক্ত করতে থাকে। তারা এমন অদ্ভুত আচরণ করে যেন এটি অন্য কোন প্রাণীর পা। এই সমস্ত কেসে আক্রান্ত কুকুরের পা নিজেদের কন্ট্রোলে থাকে না আর তারা নিজের পায়ের উপর বিরক্ত হয়ে সেটিকে কামড়াতে শুরু করে। আক্রান্ত কুকুরটি এটাই বুঝতে পারে না যে তার পা এমন একটি কাজ করছে যেটা তার মস্তিষ্ক তাকে করতেই বলেনি। এই ভিডিওটিতে আপনি দেখতে পাবেন এই কুকুরটি কতটা খারাপ অবস্থায় রয়েছে, নিজেই নিজের বারবার কামড়াচ্ছে। এই আচরণ দেখে হয়তো অনেকের হাসিও পেতে পারে কিন্তু সত্যিই তাদের এই কষ্ট টি তারা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে। এই অবস্থায় তাদের দরকার সঠিক চিকিৎসা এবং ভালোবাসা। কারণ এই প্রাণীটি কথা বলতে না পারলেও আমরা এদের বুঝি।

প্রকৃতির এই বিচিত্র ঘটনা গুলির মধ্যে আপনার কোনটি সবচেয়ে বিচিত্র মনে হয়েছে আমাকে কমেন্ট করে অবশ্যই জানান আর যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই লাইক ও শেয়ার করুন । আপনার মূল্যবান সময়ের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

সুমন্ত

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

 

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here