ভারতের ৬ রহস্যময় গুপ্তধন যা আপনি খুঁজে পেতে পারেন

1
180

প্রাচীনকাল থেকেই ভারতকে সোনার পাখি বলা হত। রাজ রাজাদের গুপ্তধন এবং ধন-দৌলতের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই ভারত সারা বিশ্বে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, আর এই জন্য বিদেশে আক্রমণকারীরা ভারতের ওপর বারবার আকর্ষিত হয়েছে। এই ধন সম্পদের লোভে তারা ভারতে বহুবার আক্রমণ করেছে এবং লুটপাট চালিয়েছে, আর এই লুটপাটের মধ্যে এমন কিছু গুপ্তধন রয়েছে যেগুলি রহস্যময় ভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল অথবা সেগুলির আজ পর্যন্ত কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আজ আমি আপনাদের এরকম বহুমূল্য কিছু গুপ্তধনের ব্যাপারে বলবো যা হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। আজকের ভিডিওটি খুবই রোমাঞ্চকর হতে চলেছে। তো চলুন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া সেই সমস্ত গুপ্তধন গুলির ব্যাপারে জানার চেষ্টা করি।

এক নম্বরে আছে কৃষ্ণা নদীর গুপ্তধন, গোলকুণ্ডা ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

হায়দ্রাবাদে অবস্থিত গোলকুণ্ডা ১৫১৮ থেকে ১৬৮৭ সাল পর্যন্ত কুতুব শাহী বংশের রাজধানী ছিল। এই জায়গাটি প্রসিদ্ধ ছিল গোলকুন্ডা ফোর্ট এবং হীরের খনির জন্য । বলা হয়ে থাকে বিশ্ব বিখ্যাত হীরে কহিনুর এবং হোপ ডায়মন্ড এখানেই পাওয়া গিয়েছিল। কথিত আছে গোলকুণ্ডার হীরের খনিতে শেষবারের মতো খনন করা হয়ে চৌদ্দশ শতাব্দীর শেষের দিকে। সেই সময় সারা বিশ্বে ভারতই একমাত্র হীরে উৎপাদনকারী দেশ ছিল, কিন্তু গোলকুণ্ডার এই হীরের খনিটি কোথায় অবস্থিত ছিল তার খোঁজ আজ কেউ জানে না। কিন্তু বলা হয়ে থাকে এই খনিটি কৃষ্ণা নদীর তীরে অবস্থিত ছিল, এবং আজও মনে করা হয় যে এই খনি থেকে উত্তোলন করা হিরে কৃষ্ণা নদীর তলায় চাপা পড়ে রয়েছে।

দুই নম্বরে রয়েছে নাদির শাহের গুপ্তধন ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

১৭৩৬ সালে নাদির শা ইরানের শাসক ছিলেন। ১৭৩৯ সালে নাদির শাহ ভারত আক্রমণ করেছিল। তিনি ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে দিল্লির ওপর আক্রমণ করেছিলেন, সেই সময় নাদির শা ব্যাপক নরহত্যা করে এবং দিল্লিতে লুটপাট চালায়। বলা হয়ে থাকে তিনি যা দিল্লি থেকে লুট করেছিলেন তার পরিমাণ এতটাই ছিল যে তার রালি ২৪০ কিলোমিটার লম্বা ছিল। ইতিহাসে উল্লেখ আছে যে ভারত থেকে লুটপাত করে ফেরার পথে নাদির শাহ সৈন্যরাই নাদির শাহকে হত্যা করে। নাদির শাহ মৃত্যুর পর এই বিপুল ধন সম্পদ আহমদ শাহ দুরানির দখলে চলে যায়। পরবর্তীতে আহমদ শাহর রহস্যময় ভাবে মৃত্যু ঘটে কিন্তু স্থানীয় লোকেরা মনে করেন মৃত্যুর আগে আহমদ শাহ এই বিপুল ধন-সম্পদ গোপনে কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। মনে করা হয় এই সম্পদের মধ্যে প্রচুর মূল্যবান ধনরত্ন ছিল যেখানে কয়েক কোটি স্বর্ণমুদ্রা এবং হাজারেরও বেশি বস্তা অলংকার ও কলাকৃতি ছিল, কিন্তু এই বিপুল ধন-সম্পদের সন্ধান আজও পাওয়া যায়নি।

তিন নম্বরে রয়েছে উসমান আলীর গুপ্তধন ঃ- 

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

মীর উসমান আলী হায়দ্রাবাদের শেষ নিজাম ছিলেন। এবং তিনি ইংল্যান্ডের মত বড় আকারের একটি রাজ্যকে শাসন করতেন, ২০০৮ সালে ফোর্ট ম্যাগাজিন তাকে পৃথিবীর পঞ্চম ধনী ব্যক্তি বলে আখ্যা দেন, ঠিক এরকমই ১৯৩৭ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি বলে আখ্যা দিয়ে ছিলেন। বলা হয়ে থাকে তার সমস্ত গুপ্তধন কিং কোটি প্যালেসের ভূমিগত কক্ষে লুকিয়ে রাখা রয়েছে, যেখানে তিনি তার জীবনের শেষ সময়টুকু কাঠিয়ে ছিলেন। ওনার ধন সম্পদে অনেক রত্ন ও হীরের তৈরি অলংকার ছিল। মনে করা হয় সেই সময় তার মোট সম্পত্তি ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার যার বর্তমান মূল্য এখন ৩৩ বিলিয়ন ডলার। ১৯৪৮ সালে হায়দাবাদ যখন ভারতের অংশ হয়ে যায় তখন ভারতীয় সরকার এই বিপুল ধন সম্পদের মাত্র কিছু অংশই খুঁজে পেয়েছিল, আর এর বাকি ধন সম্পদ কোথায় লুকিয়ে রাখা রয়েছে তার খোঁজ আজও কেউ পায়নি।

আরও পরতে ক্লিক করুন ঃ- পিরামিডের ৫ টি অদ্ভুত রহস্য যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারেনি

নাম্বার ৪ এ রয়েছে গ্রসভ্যানারের গুপ্তধন ঃ- 

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

গ্রসভ্যানারকে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ মনে করা হতো। এই জাহাজে ১৪০০০ সোনার বিস্কুট, ১৯ টি সিন্দুক যেখানে অনেক মুল্যবান ধনরত্ন এবং হিরে জহরত ভর্তি ছিল আর এর সাথে ছিল ২৬ লক্ষ স্বর্ণমুদ্রা। এই সমস্ত ধন সম্পদ নিয়ে এই জাহাজটি মাদ্রাজ থেকে ইংল্যান্ডে যাওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কার পথে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু এই জাহাজটি সাউথ আফ্রিকার কেপটাউনের থেকে প্রায় ৭০০ মাইল দূরে একটি পাহাড়ের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। আর মনে করা হয় আজও সেই ধন সম্পদ এই জায়গাতেই পড়ে রয়েছে।

নাম্বার ৫এ রয়েছে পদ্মনাভস্বামী মন্দিরের গুপ্তধন ঃ- 

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

২০১১ সালে ত্রিরু আরাম পুরামের পদ্মনাভস্বামী মন্দির, খবরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে যখন কোর্টের অর্ডার এই মন্দিরের ভূমিগত কক্ষ ভল্ট – A খোলা হয় , সরকারি কর্মচারীরা তাদের সামনে এই বিপুল পরিমান ধন-সম্পদ দেখে হতবাক হয়ে যায়। তাদের সামনে বিভিন্ন ধরনের সোনা এবং রূপোর অলংকার, মুকুট, হিরে জহরত ও বিভিন্ন বহুমূল্যবান কলাকৃতি চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে ছিল, যার মূল্য প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার অনুমান করা হয়েছে। এই মন্দিরে এখনো একটি গুপ্ত দরজা রয়েছে যেটি এখনো খোলা হয়নি, এটি ভল্ট বি নামে আমাদের কাছে পরিচিত। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে ভোল্ট বি ততদিন খোলা যাবে না যতদিন না ভোল্ট A তে পাওয়া সমস্ত ধন সম্পদের সরকারি কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। কথিত আছে এই দ্বিতীয় দরজাটিকে পাহারা দিচ্ছে একটি বিশাল আকারের সাপ, জোর জবরদস্তি যদি কেউ এই দরজারটি খোলার চেষ্টা করে তাহলে ভারতের ওপর বিপদ আসতে পারে। মনে করা হচ্ছে এই দ্বিতীয় ঘরটিতে প্রথম ঘরটির থেকেও বেশি ধনরত্ন রয়েছে।

৬ নম্বরে আছে শোনভদ্র গুহার গুপ্তধন ঃ- 

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

রাজগীরে অবস্থিত এই গুহাটি তৃতীয় অথবা চতুর্থ শতাব্দীর মনে করা হয়। বলা হয়ে থাকে এই গুহার পশ্চিম দিকে একটি দরজা আছে যা রাজা বিম্বিসারের গুপ্তধন পর্যন্ত গেছে। এই গুহার দেয়ালে শঙ্খ লিপিতে একটি বার্তা লেখা আছে, মনে করা হয় এইটি একটি নির্দেশনা যা রাজা বিম্বিসারের গুপ্তধনের দিকে যাওয়ার রাস্তা নির্দেশ করছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এই লিপির অনুবাদ করা সম্ভব হয়নি। ইংরেজরা এই দরজাটিকে কামানের গোলা দিয়ে ভাঙ্গার চেষ্টা করেছে বহুবার কিন্তু তারা সফল হয়নি, এই কামানের গোলার দাগ আজও আপনি এখানে দেখতে পাবেন।

ধন্যবাদ ………

সুমন্ত ………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here