ভারতের ৫টি শক্তিশালী স্পেশাল ফোর্স যাদের নামে শত্রুরা কেঁপে ওঠে

1
206

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে, প্রত্যেক দেশেরই এমন কিছু বিশেষ সেনাদলের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল, যাদের শত্রুদের এলাকায় পাঠালে তারা শত্রুকে শেষ না করা পর্যন্ত দেশে ফিরে আসবে না।আর তখনই বিভিন্ন দেশের সামরিকবাহিনী গঠন করতে শুরু করল স্পেশাল ফোর্স। ভারত তার প্রথম স্পেশাল ফোর্স গঠন করেছিল ১৯৬৬ সালে। আজ আমরা কথা বলতে চলেছি ভারতের টপ ফাইব স্পেশাল ফোর্স এর ব্যাপারে যারা তাদের নিজের সফলতার জন্যে আজ সারা বিশ্বে আজ পরিচিত। তো চলুন শুরু করা যাক।

নম্বর ফাইভ, এন এস জি ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

এন এস জি অর্থাৎ ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড অথবা ব্ল্যাক ক্যাট।  এন এস জির গঠন করা হয়েছিল ১৯৮৬ সালে। এটি না তো সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সের আন্ডারে আসে, না তো পার্লামেন্টারি ফোর্সের আন্ডারে আসে, আসলে এর আন্ডারে যে সমস্ত কমান্ডারেরা থাকে তারা মিক্স থাকে অর্থাৎ কিছু ইন্ডিয়ান আর্মি থেকে আসে আর কিছু সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্স থেকে আসে। আর এদের লিড করে ডাইরেক্টর জেনারেল অফ ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস। এন এস জির দুটি ইউনিট আছে, একটি স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপ অর্থাৎ এস এ জি, এটি ইন্ডিয়ান আর্মির পার্সোনাল গ্রুপ আর অন্যটি হল স্পেশাল রেঞ্জার্স গ্রুপ অর্থাৎ এস আর জি, যা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যাক্টিভিটির বিরুদ্ধে কাজ করে। এনএসজি কমান্ডারেরা বিশ্বের সবচেয়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে সজ্জিত থাকে। এর সিলেকশন প্রসেস এতটাই হার্ড যে এর ড্রপ আউট রেট ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ, আর এদের মধ্যে যারা কোয়ালিফাই করে যায় তাদেরকে আরও ৯ মাসের জন্য পাঠানো হয় ফ্যান্টম এন এস জি কমান্ডো ট্রেনিং এর জন্য।

নাম্বার ফোর, ঘাতক ফোর্স ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ঘাতক ফোর্স অর্থাৎ ঘাতক প্লাটুন, ঘাতক ফোর্স একটি স্পেশাল অপারেশন ইনফ্যান্ট্রি প্লাটুন যা ম্যান টু ম্যান অ্যাসল্ট করে নিজের ব্যাটেলিয়ান পৌঁছাবার আগেই। এরা স্পেশালাইজড হয় শত্রুদের,আর্টিলারি পজিশন, এয়ার ফিল্ড, সাপ্লাই গ্রুপ এবং হেড অফিসকে রেট করার জন্য। এরা শত্রুদের এলাকায় ঢুকে তাদের অস্ত্র দিয়েই তাদের ঘায়েল করার জন্য বিশেষভাবে ট্রেনিংপ্রাপ্ত। ইন্ডিয়ান আর্মি সমস্ত ব্যাটেলিয়নের কাছেই নিজেদের একটি করে ঘাতক প্লাটুন থাকে। এই ঘাতক প্লাটুনে, সেই ব্যাটেলিয়ানের সেরা ১০ জন সলজারকে পাঠানো হয় যারা ফিজিক্যালি এবং মেন্টালি স্ট্রং হয়। এই সমস্ত সোলজারদের শত্রুদের সাথে ফেস টু ফেস লড়াই করতে হয় তাই এরা খুবই দক্ষ হয়, হেলিবন অ্যাসল্টে,রক ক্লাইম্বিং-এ,মাউন্টেন ওয়ারফেয়ারে, ডেমোলিশনে এবং এডভান্স ওয়েপন ট্রেনিং-এ। এছাড়াও এরা ক্লোজ হ্যান্ড টু হ্যান্ড ব্যাটেলের জন্যে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- প্রাচীন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া আবিষ্কার যা আজও আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারিনি

নাম্বার থ্রি, গারুর কমান্ডো ফোর্স ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

গারুর কমান্ডো ফোর্স, এই স্পেশাল ফোর্সে দুই হাজারেরও বেশি অ্যাডভান্স ট্রেনিংপ্রাপ্ত কামান্ডো রয়েছে। এটি ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের এমন এইটি স্পেশাল ইউনিট যারা স্পেশালাইজড হয় এয়ারফিল্ড সিজারস স্পেশাল রেকনিজেন্স, এয়ারবোন অপারেশন, এয়ার অ্যাসল্টস, স্পেশাল অপারেশন, কমব্যাট সার্চ এবং রেস্কিউ এর জন্যে । গারুর কমান্ডো হওয়ার ট্রেনিং এতটাই মুশকিল ও দীর্ঘমেয়াদী যে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা কামান্ড ট্রেনিং বলা হয়। একজন পুরোপুরি স্পেশাল গারুর কমান্ডো হওয়ার জন্য তিন বছর ধরে ট্রেনিং করতে হয়। গারুর কমান্ডো খুবই দক্ষ হয় অ্যান্টি হাইজ্যাকার কাউন্টার ইন্টারজেন্সি ট্রেনিংয়ে। এদের কাছে আরো অনেক স্পেশাল স্কিল থাকে, যেমন জঙ্গল এবং পাহাড়ি এলাকায় সারভাইভাল ট্রেনিং, স্পেশালাইজড ওয়েপেনকে হ্যান্ডেল করা এবং এদের ড্রাইভিং স্কিল খুবই অ্যাডভান্স হয়।

নাম্বার টু, প্যারা কমান্ডো ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

প্যারা কমান্ডো, এটি ভারতের সবচেয়ে দক্ষ এবং সবচেয়ে অ্যাডভান্স স্পেশাল ফোর্স। প্যারা কমান্ডো ইন্ডিয়ান আর্মির সবচেয়ে হাইলি ট্রেনড স্পেশাল ফোর্সের  মধ্যে একটি, কারণ এদের অপারেশন গুলি খুবই ভয়ঙ্কর হয় এবং তাতে মৃত্যুর সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এদের অপারেশনাল এফিশিয়েন্সি এবং ফিজিক্যাল ফিটনেসের অপটিমাম লেভেলে রাখা হয়। শুধুমাত্র মোস্ট ফিজিক্যালি ফিট, মেন্টালি রোবস্ট ইন্টালিজেন্ট এবং হাইলি মোটিভেটেড সোলজারকেই এই ফিল্ডে রাখা হয়। প্যারা কমান্ডো ট্রেনিং, ভয়ংকর ট্রেনিং গুলির মধ্যে একটি। এদের প্রত্যেকদিন পিঠে করে ৬০ কেজি ওজনের ব্যাগ নিয়ে ২০ কিলোমিটার দৌড়াতে হয় এবং এর সাথে ম্যান টু ম্যান অ্যাসল্ট প্র্যাকটিস করতে হয়। এখানেই শেষ নয় এদের প্রতিদিন ৩৫০০০ ফিট উঁচু থেকে দিতে হয় জাম্প দিতে হয় প্যারাসুট নিয়ে। এরা হাইলি টেন্ড হয় টেরেন অ্যান্ড আনভারমেন্ট ওয়ারফেয়ার এবং ডিপ সি ডাইভিং-এ। এদের ফেমাস অপারেশন গুলি হল ১৯৭১ সালের ইন্ডিয়া পাকিস্তান যুদ্ধ, ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ এবং অপারেশন ব্লু স্টার। এছাড়া ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তে পাকিস্তানের মাটিতে হওয়া সার্জিক্যাল স্ট্রাইক যেখানে পাকিস্তানে ঢুকে এই সোলজারই আতংবাদিদের লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং কয়েক শো আতংবাদিকে মেরে দিয়েছিল, যার চর্চা সারা বিশ্বে হয়েছিল। বন্ধুরা, একবার একজন ভারতীয় সোলজারের কাছে প্রশ্ন করা হয় যে আপনি ইন্ডিয়ান আর্মির সোলজারদের লাইফকে কিভাবে ডিফাইন করবেন ? জবাবে সে বলেছিল উই লিভ বাই চান্স লাভ বাই চয়েস অ্যান্ড কিল বাই প্রফেশন।

নাম্বার ওয়ান, মার্কোস ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

মার্কোস অর্থাৎ মেরিন কামান্ডো। ইন্ডিয়ার মোস্ট লেথাইল স্পেশাল ফোর্স। মার্কোসকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বিশ্বের যে কোন ফিল্ডে লড়াই করার জন্য, কিন্তু মার্কন্ড কমান্ডো সুপার এক্সপার্ট হয় মেরিটাইন ওয়ারফেয়ারে। মার্কোসে জয়েন করার জন্য যে ফিজিক্যাল টেস্ট হয় তা এতোটাই কষ্টকর ও বেদনাদায়ক যে তিন দিনের টেস্টের মধ্যে, প্রথম দিনই  ৮০ শতাংশেরও বেশি এপ্লিকেন্ট বাদ পরে যায়। এই টেস্ট ফিজিক্যাল ফিটনেস এবং অ্যাপটিটিউডের টেস্ট, যে ক্যান্ডিডেট এই টেস্ট গুলি সাকসেসফুলি কমপ্লিট করে তাদের আবার পাঁচ সপ্তাহের জন্যে হ্যাল উইক ট্রেনিংয় পাঠানো হয়। এইখানে প্রত্যেকটি ক্যান্ডিডেটকে ৫ সপ্তাহ ধরে ঘুমতে দেওয়া হয় না, এই নাম ঘুমানো অবস্থাতেই তাদের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর ট্রেনিং গুলি সম্পন্ন করতে হয়। এই কামান্ডোদের একটি স্পেশালিটি হল এরা মাটিতে শুয়ে, দাঁড়িয়ে এবং দৌড়াতে দৌড়াতে এমনকি পিছনের দিকে তাকিয়েও ফায়ার করতে পারে। জানলে অবাক হবেন এরা আয়নার দিকে তাকিয়েও ফায়ার করতে পারে তাও আবার 0.27 রিয়েকশন টাইমের সাথে। এই সমস্ত স্টেজ পার করার পর সর্বশেষে তাদের আরো একটি ভয়ঙ্কর ট্রেনিং কমপ্লিট করতে হয়। এই টস্টে ৮০০ মিটার লম্বা একটি নালা বুকে ভর দিয়ে পার করতে হয় যাকে বলা হয় ডেথ ক্রল তাও আবার ২৫ কেজি ওজনের একটি ব্যাগ পিঠে নিয়ে, আর এই টেস্ট কিভাবে শেষ করা হয় সেটি শুনলে আপনি চমকে উঠবেন, যখন তারা এই ৮০০ মিটার নালা পার করে শেষ ২৫ মিটারে পৌঁছায় তখন তাদেরকে ২৫ মিটার দূরে একটি টার্গেট দেওয়া হয় যার পাশে একটি জীবিত মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে, আর সেই টার্গেটকে ২৫ মিটার দূর থেকে এইভাবে বুকে ভর দিয়ে চলতে চলতেই গুলি করতে হয়। যদি তারা সেই পাশে দাঁড়ানো জীবিতের মানুষটিকে গুলি না করে এই টেস্টটি কমপ্লিট করতে পারে তখন তাকে মার্কোস আর্মি হিসাবে সম্মানিত করা হয়।

তো বন্ধুরা এই ছিল ভারতের পাঁচটি সবচেয়ে শক্তিশালী স্পেশাল ফোর্স। কিন্তু এক কথায় বলতে গেলে এটি কোন নিদিষ্ট লিস্ট নয়, এই লিস্টটি শুধুমাত্র শক্তিশালী ট্রনিং এবং পারফরমেন্সের উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। আসলে ভারতের কাছে এই রকম অনেক স্পেশাল ফোর্স আছে যারা খুবই ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী। দেশের সুরক্ষার কারণে সোশ্যাল মিডিয়াতে এই সমস্ত ফোর্স নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়, উদাহরণস্বরূপ ইন্ডিয়ান আর্মির গোস্ট রেজিমেন্ট  এবং ইন্ডিয়ান আর্মির গ্লেসিয়ার ফোর্স যারা সর্বদা পাহারা দিচ্ছে সিয়াচিনে। তো আজ এই পর্যন্তই যদি ভালো লাগে ভিডিওটিকে লাইক ও শেয়ার করুন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন। আমরা গর্বিত যে আমরা যে দেশে বাস করি সেই দেশের সামরিক বাহিনী অত্যান্ত শক্তিশালী। আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান যে পরবর্তী ভিডিও আপনারা কিসের উপর দেখতে চান। অবশেষে একটাই কথা বলবো জয় হিন্দ।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here