ভারতের মহাকাশচারী কল্পনা চাওলার কিভাবে মৃত্যু হয়েছিল

0
254

কল্পনা চাওলা, নামটা হয়তো অনেকবার শুনেছেন। তিনি ভারতের প্রথম মহিলা যিনি মহাকাশে পারি দিয়েছিলেন, কিন্তু সামান্য ভুলের কারণে তিনি আর পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারেননি। তো কল্পনা চাওলার সাথে ঠিক কী ঘটেছিল, মহাকাশে ঠিক কিভাবে এবং কি কারণে তিনি মারা গিয়েছিলন তা আজকের এই পর্বে আমরা জানতে চলেছি। তাহলে আর দেরি না করে চলুন শুরু করা যাক।

kalpana
rohoshyosondhane

কল্পনা চাওলার জন্ম ১৭ ই মার্চ ১৯৬২ সালে কান্নারে হয়েছিল। কান্নার বর্তমানে হরিয়ানা রাজ্যের মধ্যে পড়ে। ছোট থেকেই কল্পনার মহাকাশের প্রতি ইন্টারেস্ট ছিল, রাতের আকাশের তারা দেখে কল্পনা এক অন্য জগতে পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন দেখতো। কল্পনা চাওলা তার লেখাপড়া পাঞ্জাবের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে করেছিলেন, এরপর আমেরিকায় গিয়ে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস এবং ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোতে পড়াশোনা করেছেন। এরপর ২৬ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্পেস এজেন্সি নাসার সাথে কাজ করার সুযোগ পান। ১৯৯৭ সালে কলম্বিয়া থেকে তিনি প্রথম পেস স্যাটেল ওড়ানোর সুযোগ পান। এরপর ২০০০ সালে নাসা তাদের পিস মিশনের জন্য সিলেক্ট করেন তাকে। কল্পনা চাওলা সাথে আরো ৬ জন মহাকাশচারী এই মিশনে অংশগ্রহণ করে।

Kalpana
rohoshyosondhane

কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারনে মিশনটি ২০০০ সাল থেকে পিছিয়ে ২০০৩ করা হয়। এরপর ১৬ জনুয়ারি ২০০৩ সালে কল্পনা চাওলা মহাকাশের পথে পাড়ি দেন।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- ৫টি আজব গৃহপালিত পশু যেগুলি কে আপনি কখনোই পালন করতে চাইবেন না

kalpana
rohoshyosondhane

কল্পনা চাওলা এবং তার দলের সদস্যরা প্রায় ৮০টি বিষয়ে সফল ভাবে পাশ করার পর মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ পায়। কল্পনা চাওলার এই মহাকাশ অভিযানে, তাদের পেস স্যাটেলটি পৃথিবী থেকে ছাড়ার সময়ই একটি বড় সমস্যায় পরে গিয়েছিল। তাদের মাহাকাশযান লঞ্চ করার সময় পেস স্যাটেল থেকে ফোম ইনসুলেশনের একটি টুকরো ভেঙে পড়ে অর্থাৎ যখন পেস স্যাটেলে করে কল্পনা চাওলা এবং তার সাথীরা মহাকাশে যাচ্ছিল সেটি তখন ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিল। নাসার কিছু বৈজ্ঞানিকের কাছে এই ড্যামেজ খুবই সামান্য বলে মনে হয়েছিল তাই তারা মহাকাশ যাত্রীদের কিছু জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি কিন্তু পরবর্তীকালে নাসা বলেছিল, আমরা যদি মাহাকাশযান খারাপ হয়ে যাবার কথা ওদের জানাতাম তাহলে তারা খুব সহজে এটি মেনে নিতে পারত না।

Kalpana
rohoshyosondhane

নিজেদের অভিযান কমপ্লিট করে ১৬ দিন মহাকাশে কাটানোর পর কল্পনা চাওলা এবং তার সহযাত্রীরা পৃথিবীতে ফিরে আসার অভিযান শুরু করে কিন্তু পৃথিবীর অ্যাটমোসফিয়ারে আসার সাথে সাথেই অ্যাটমোসফিয়ারে থাকা গরম গ্যাস সেই ভাঙ্গা জায়গায় ভরে যায়। এতে মহাকাশযানের ভেতরে সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো পেস স্যাটেলটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এই ঘটনাটি পহেলা ফেব্রুয়ারি ২০০৩ হয়েছিল এবং এর ফলে কল্পনা চাওলা এবং তার সহযাত্রীরা সকলেই মারা গিয়েছিলেন। এই ভয়াভয় ঘটনা দরুণ প্রায় দু’বছর সমস্ত পেস স্যাটেলের কাজকর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তার সাথে কল্পনা চাওলা ও তার সাথীদের যথাযথ সম্মান জানানো হয়। ভারতবর্ষের কয়েকটি স্যাটেলাইটের নাম রাখা হয় কল্পনা চাওলার নামের সাথে মিল রেখে। নিউইয়র্ক শহরে ৭৪ নম্বর রোডটির নাম রাখা হয় কল্পনা চাওলার নামে।

Kalpana
rohoshyosondhane

অনেক ইউনিভার্সিটি এবং কলেজের নামও কল্পনা চাওলার নামে রাখা হয়।

Kalpana
rohoshyosondhane

নাসা তাদের একটি সুপার কম্পিউটারের নাম রাখেন কল্পনা চাওলা। কিন্তু এই সমস্ত সম্মান গুলির পরেও এই মহান মহাকাশচারীদের আর কখনোই ফিরে পাব না আমরা। এদের হয়ত বহুদিন ধরে আমরা মনে রেখে দেবো। এদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী, এই নিয়ে বহু তর্ক বিতর্ক রয়েছে। অনেকে মনে করে এর জন্য নাসা সংস্থাই দায়ী কারণ পেস স্যাটেলটি  উৎক্ষেপণের সময় তারা জেনে গিয়েছিল তাতে সমস্যা আছে, তারা চাইলে পুনরায় তাদের ফিরিয়ে আনতে পারত। হয়তো বেঁচে যেতে পারত কল্পনা চাওলা সহ সমস্ত মহাকাশচারীরা। কিন্তু তারা সেটা করেনি তারা মনে করেছিল এই ড্যামেজটি খুবই সাধারণ একটি ড্যামেজ যার কারণে এই মিশনের কোন ক্ষতি হবে না, কিন্তু হয়ে গিয়েছিল ঠিক তার উল্টোটা। এই পেস স্যাটেলের টুকরোগুলি বহু দূরে দূরে ছিটকে পড়েছিল যা এক কথায় বলতে গেলে খোঁজা প্রায় অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল। তবু নাসা সংস্থা এর ৮৪ হাজার টুকরো খুঁজে বার করেছিল। আর এভাবেই কল্পনা চাওলা হারিয়ে গিয়েছিল সীমানাহীন মহাকাশের বুকে।

Kalpana
rohoshyosondhane

যেখান থেকে সে আর কখনোই ফিরে আসবে না। তবে এরকম কল্পনা চাওলাদের জন্যই আজ পৃথিবী পেয়েছে অনেক কিছু। সকলকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের আজকের এই ভিডিওটি দেখার জন্য।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here