মাছ ধরার এই অদ্ভুত পদ্ধতি গুলি আপনি আগে কখনো দেখেননি (পর্ব – ২) || মাছ শিকার

1
136

মাছ ধরতে কে না পছন্দ করে, এখনো অনেকেই, সময়-সুযোগ পেলেই ছিপ নিয়ে বসে যান মাছ ধরতে। কেউ কেউ তো আবার খাওয়ার থেকে, মাছ শিকার করতেই বেশি আনন্দ পান। আজকের ভিডিওতে আমরা জানতে চলেছি মাছ ধরার কিছু অদ্ভুত প্রথার ব্যাপারে। তবে এটি ভিডিওর দ্বিতীয় পর্ব, এর প্রথম পর্বটি দেখার জন্য আপনারা ডেসক্রিপশনে দেওয়া লিংকটি ফলো করুন। তো কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

তিমি শিকার ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ইন্দোনেশিয়ার লামালিরা দ্বীপের মানুষ এমন এক পদ্ধতিতে তিমি শিকার করে যা সত্যিই রোমাঞ্চকর। দুর্গাম এই দ্বীপের মানুষ ঐতিহ্য ও জীবিকার তাগিদে তিমি শিকার করে আসছে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে থেকে। এই পদ্ধতিতে একটি বাঁশের মুখে লোহার ফলা লাগানো থাকে। দড়ির এক প্রান্তে এই ফলাতে এবং অন্য প্রান্ত বাঁধা থাকে নৌকা সাথে। তাই একবার যদি এই ফলা কোন তিমির গায়ে গেঁথে দেয়া যায়, তাহলে নৌকাও এই তিমির সাথে চলতে শুরু করবে। যারা তিমির গায়ে প্রথমে বর্ষা গুলি পূর্ণ দক্ষতায় গেঁথে দেয় তাদেরকে বলা হয় লামাফা। ভাগের একটি বড় অংশ তাদেরকে দেয়া হয়, কারণ তাদের নিশানা এবং দক্ষতার উপর নির্ভর করে পুরো গ্রামের মানুষের একমাসের খাদ্যের যোগান। লামালিরা গ্রামের বাসিন্দারা বছরের একটি সময় নিরুপায় হয়ে তিমি শিকার করতে যায়। আর এই অভিযানের পদে পদে থাকে মৃত্যুর ঝুঁকি। প্রথমত তাদের ৪০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে গভীর সমুদ্রে যেতে হয়। কখনো আবার তিমির গায়ে ফলা গেঁথে দেয়ার পর, তিমি বাঁচার জন্য গভীর সমুদ্রে ডুব দিতে পারে, তখন ফলার দড়ি কাটতে দেরি করলে, এই নৌকা তলিয়ে যাবে সমুদ্রের মধ্যে, আবার কোন তিমিকে আঘাত করে করে কাবু করতে, সময় লেগে যায় প্রায় ১০ ঘন্টা, সেখানে জেলেদের অসীম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হয়। ১৯৮৬ সালের পর থেকে তিমি শিকার বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, শুধুমাত্র এই লামালিরা বাসিদের তিমি শিকারের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাদের ঐতিহ্য এবং জীবিকার কারণে।

অ্যান্তেগো উৎসব ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আফ্রিকার মালিতে প্রতিবছর মে মাসের একটি নির্দিষ্ট শনিবার, আয়োজন করা হয় অদ্ভুত এক মাছ ধরার উৎসবের। এই উৎসবে বাম্বা গ্রামের বড় একটি হ্রদের মাছ, মাত্র ১৫ মিনিটেই পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যায়। একটি হ্রদের মাছ ১৫ মিনিটে কিভাবে নিঃশেষ হতে পারে, তা নিজের চোখে না দেখলে সত্যি বিশ্বাস করা কঠিন। বহু বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবে, বাম্বা গ্রাম সহ আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত মানুষ আসেন, সবাই হ্রদের চারপাশে জড়ো হওয়ার পর, একজন দলপতিরা আদেশে শূন্যে গুলি ছোড়া হয়। তারপর সমস্ত মানুষ মাছ শিকার করার জন্য নেমে পড়ে এই জলাশয়ে। শুষ্ক মরশুমে যখন চারিদিকে খাদ্য সংকট, তখন এই উৎসবের মাছ, প্রত্যেকটা পরিবারে আনন্দের বন্যা বইয়ে দেয়। এছাড়া এই হ্রদে সারা বছর মাছ ধরা একদমই নিষিদ্ধ। এরা বিশ্বাস করে পবিত্র এই হ্রদে অনেক শুভ আত্মা বাস করে, যারা কিনা তাদের জন্য সারা বছর এখানে মাছ মজুদ করে রাখে। আর তাদের মধ্যে এই কুসংস্কারও প্রচলিত আছে, যে মহিলা মানুষের সংস্পর্শে এলে এই হ্রদ অপবিত্র হয়ে যাবে, তাই মাছ ধরার এই উৎসবে মহিলারা শুধুই দর্শক মাত্র।

আরও পরতে ক্লিক করুন ঃ- মাছ ধরার এই অদ্ভুত পদ্ধতি গুলি আপনি আগে কখনো দেখেননি পর্ব – ১

আইস ফিশিং ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আমরা তো খুব সহজেই জলেতে ছিপ বা জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারি, কিন্তু যেসব দেশে শীতের সময় জলাশয়ের জল বরফে ঢেকে যায় তারা কিভাবে মাছ শিকার করে। আইস ফিশিং বা বরফ কেটে মাছ ধরার পদ্ধতি বহুকালের পুরনো। নিয়মটা হল, প্রথমে বরফ একটি গর্ত করতে হবে, তারপর এক বা একাধিক ছিপ পেতে বসে থাকতে হবে। আরে গর্তের আকার নির্ভর করে, কি ধরনের মাছ আপনি ধরতে চান তার উপর। আইস ফিশিং এর শিকারীরা সাথে হিটার বহন করে। কারণ এই হিটার একদিকে যেমন স্থানটি গরম রাখে, অন্যদিকে আবার গর্তটিকে জমে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। যখন তাপমাত্রা মাইনাস ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়, তখন এই গর্ত থেকে রক্ষা করা তখন খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। আমেরিকার ব্রেনারড লেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে, আই আইস ফিশিং এর প্রতিযোগিতা বসানো হয়, সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বড় মাছ ধরা ছাড়াও, নানা ক্যাটাগরিতে প্রদান করা হয় বিভিন্ন সব পুরস্কার। আমেরিকা ছাড়াও কানাডা এবং সাউথ কোরিয়াতেও অনেক বছর ধরে এই আইস ফিশিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

আমা ড্রাইভিং ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের দিক থেকে জাপান অনেক সমৃদ্ধশালী একটি দেশ। আমা ডাইভিং জাপানের প্রায় ২০০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য বহন করে, এখানে আমা শব্দের অর্থ সমুদ্র কন্যা। এটি মাছ এবং জলজ প্রাণী শিকারের সুপ্রাচীন জাপানি পদ্ধতি, এই পদ্ধতিতে হাতে কী অস্ত্র নিয়ে সমুদ্রে ডুব দিয়ে স্বীকার করতে হয়, থাকে না কোনো নিরাপত্তা বা অক্সিজেনের কোন ব্যবস্থা, তাই এটা বেশ বিপদজনকও বটে। আগেকার সময় শুধুমাত্র মেয়েরাই আমা ডাইভিং করত, ১২-১৩ বছর বয়সের পর থেকে তাদের এই চর্চা শুরু হত। জাপানের দ্বীপগুলিতে এমন নিয়ম প্রচলিত ছিল, যে আমা ড্রাইভিং না জানলে সেই মেয়েদের বিয়েই হতো না। বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে এসে আমা ড্রাইভাররা সাদা পোশাক পরতে শুরু করে। বর্তমান সময়, মানুষ প্রাচীন এই মাছ ধরার পদ্ধতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ১৯৪০ সালেও আমা ড্রাইভারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০০ এর কাছে, আর বর্তমানে এর সংখ্যা মাত্র ৭০ জন।

তো বন্ধুরা আজ এই পর্যন্তই, মাছ ধরার কোন পদ্ধতিটি আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। আর এরকমই অজানা অদ্ভুত এবং রহস্যময় ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে, পাশের বেল আইকনটিতে ক্লিক করে রাখুন। তো দেখা হবে পরের ভিডিওতে, ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ ।

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here