সত্যি কি কৈলাস মন্দির এলিয়ান প্রযুক্তি দ্বারা বানানো হয়েছিল? || রহস্যময় কৈলাস মন্দির

3
601

                                  

 

আমার Microphone (BM-800)                     আমার Arm Stand Holder          আমার Mic For Mobile Phone
নীচে ক্লিক করে কিনতে পারেন                          নীচে ক্লিক করে কিনতে পারেন               নীচে ক্লিক করে কিনতে পারেন

                                          

পৃথিবীতে এমন কিছু মন্দির আছে যা নিচের সৌন্দর্য্যের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত কিন্তু ভারতে একটি এমন মন্দির আছে যেটিতে সৌন্দর্যের আড়ালে অনেক রহস্য লুকিয়ে রেখেছে কোটি কোটি বছর ধরে আমরা কথা বলছি অরঙ্গবাদ কৈলাস মন্দিরের এই পর্বটি দেখে আপনাদের বিশ্বাস হিসেবে যে এমন একটি সভ্যতার মানুষেরা বানিয়েছিল তারা আজকের সভ্যতা মানুষের চেয়ে অনেক উন্নত ছিল।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

এই মন্দিরটি মহারাষ্টের ঔরঙ্গাবাদ জেলায় প্রসিদ্ধি ইলোরা গুহার মধ্যে অবস্থিত। ইলোরা গুহাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন গুহা বলে মনে করা হয়। এখানে পাথর কেটে ৩৪ টি গুহা এবং একটি রহস্যময় প্রাচীন হিন্দু মন্দির বানানো হয়েছে যার নাম কৈলাস মন্দির ।এই মন্দিরটি অন্যান্য মন্দিরের মতো পাথরের টুকরো জুড়ে বাড়ানো হয়নি, এটি বানানো হয়েছে একটি মাত্র পাহাড়কে কেটে তাও আবার উপরের থেকে নিচের দিকে কেটে। পৃথিবীর যেকোন গুহা যদি আমরা লক্ষ্য করি তাহলে আমরা দেখব যে গুহাগুলি বাইরের দিক থেকে ভেতরের দিকে কাটা হয়েছে। যাকে কাট ইন মোনোলিথ পদ্ধতি বলা হয় যা খুবই কঠিন এবং জটিল।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

এই মন্দিরে স্তম্ভ এবং কলাকৃতি দেখে আপনি হয়ত অনুমান করতে পারবেন এই মন্দির  বানাতে প্রচুর পরিমাণ পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। আজ পর্যন্ত কেউ সঠিক অনুমান করতে পারিনি যে এই মন্দির কত বছরের পুরনো। এটিকে শুধুমাত্র একটি পাহাড় কেটে বানানো হয়েছে আর পাহাড়ের বয়স এবং মন্দিরের বয়সের মধ্যে তফাৎ থাকাটা স্বাভাবিক কারণ পাহাড় কোটি বছরের পুরোনো হতে পারে এবং পরে সেই পাহাড় কেটে মন্দির নির্মাণের কাজ কয়েক হাজার বছর পরই শুরু করা হয়েছে বলে মনে করা হয়।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

আর্কিওলজিক্যাল এবং জিওলজিস্টরা পরীক্ষা করে জানিয়েছে যে এটি কোন সাধারণ মন্দির নয়, এই মন্দিরে নিচে আছে ভূমিগত গুহা। যেখানে যাওয়ার রাস্তা সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করা আছে এই দরজার পেছনে আছে এমন সুরঙ্গ যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক ভূগর্ভস্থ শহরে। আর্কিওলজিস্টরা বলছেন একটি মাত্র পাথর কেটে এই ধরনের মন্দির বানানোর জন্য প্রায় ৪ লাখ টন পাথর কেটে সরাতে হবে, ইতিহাস বলছে কৈলাস মন্দির বানানোর জন্য কেবলমাত্র ১৮ বছর সময় লেগেছিল যা সত্যি অসম্ভব।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

ধরে নেয়া যাক এই মন্দির বানানোর জন্য শ্রমিকরা প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করেছে তাহলে ১৮ বছরে মধ্যে চার লাখ টন পাথর কেটে সরানো সহজ ব্যাপার নয়। তাদের প্রতি বছর প্রায় ২২ হাজার ২২২ টন পাথর কেটে সরাতে হয়েছে যার মানে হচ্ছে ৬০ টন পাথরকে রোজ এবং ৫ টন পাথরকে প্রতি ঘন্টায় এখান থেকে কেটে সরানো হয়েছে, এতো হল শুধুমাত্র পাথরগুলি কেটে সরানোর অনুমান এরপর রয়েছে এই মন্দিরে কলাকৃতি এবং ভাস্কর্য । মন্দিরের ভেতরের ভবনগুলি বানাতে কতটা সময় লেগেছে এই রহস্য, কৈলাস মন্দিরকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন আজকের মতো আধুনিক উপকরণ ছিল না তখন শুধুমাত্র পাথরের কিছু যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই ধরনের মন্দির তৈরি করা সত্যি একটি অবিশ্বাস্য বিষয় আর যদি এই মন্দির প্রাচীন মানুষেরা পাথরের তৈরি যন্ত্রপাতির সাহায্যে বানিয়ে থাকে তাহলে এই মন্দির নির্মাণ করতে কয়েক লক্ষ বছর সময় লাগার কথা। সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ব্যাপারটি হল পাহাড় কেটে যে পাথরগুলি বার করা হয়েছিল তার অবশেষে এই মন্দিরের আশেপাশে এমনকি কয়েক শো মাইলের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হল, সেই সময়ে যখন কোন বড় ট্রেনের মত যন্ত্র এবং উন্নত প্রযুক্তি ছিল না, সেই সময় এত পরিমান পাথর কি করে কাটা সম্ভব হয়েছিল এবং মন্দির স্থল থেকে কি করেই বা সরানো হয়েছিল।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- পৃথিবীর বুকে অবস্থিত ৫টি স্বর্গীয় স্থান যা সত্যিই বাস্তবে আছে ( পর্ব-২) || প্রকৃতির এক অদ্ভুত সৃষ্টি

এই মন্দিরে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য ভূমিগত নালার ব্যবস্থাও দেখা যায়, এই মন্দিরে ছাদ, সিরি এবং থাম এত নিখুত ভাবে তৈরি করা হয়েছিল যা দেখে এটি মানব দ্বারা নির্মিত বলে সন্দেহ হয়। কারন এই থাম গুলি পড়ে নির্মাণ করা কখনোই সম্ভব নয় এই মন্দিরটিকে উপর থেকে নিচের দিকে কেটে বানানো হয়েছিল এর থেকে পরিষ্কার প্রমানিত হয় যে মন্দিরটিকে তৈরি করার আগে খুব ভালভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৬৮২ সালে তৎকালীন রাজা আওরঙ্গজেব হাজার জন সৈনিকের একটি দল পাঠিয়েছিল এই মন্দিরটিকে পুরোপুরি ভেঙে নষ্ট করে দেয়ার জন্য, এই হাজার জন সৈনিক প্রায় তিন বছর ধরে এই মন্দিরটিকে ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যায় তবুও তারা এই মন্দিরটিকে পুরোপুরি নষ্ট করতে পারিনি যখন ঔরঙ্গজেব বুঝতে পারেনি মন্দিরটিকে নষ্ট করা প্রায় অসম্ভব তখন তিনি মন্দিরটিকে নষ্ট করার কাজ বন্ধ করে দেন।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

এখন একটি প্রশ্ন যদি কোন মানুষ এই মন্দিরটি নষ্ট না করতে পারে তাহলে কি সত্যি এই মন্দির কোনো মানুষ দ্বারা নির্মিত? আজকের সময় এই ধরনের মন্দির বানানোর জন্য হাজার ড্রইং, কয়েক শ কম্পিউটার এবং অনেক ছোট ছোট মডেল বানিয়ে এর পরিকল্পনা করতে হবে কিন্তু সেই সময় এই সমস্ত প্রযুক্তি ছাড়াই এই কাজটি কি করে করা সম্ভব হলো। আমাদের কাছে এখনো এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। আজকের সমস্ত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই ধরনের দ্বিতীয় আরোকটি মন্দির বানানো প্রায় অসম্ভব। আপনার কি মনে হয় এই মন্দিরের নির্মাণ কিভাবে এবং কারা করেছিল? এন্সিয়ান্ট এস্ট্রনট থিওরি অনুযায়ী এই মন্দিরের নির্মাণ এলিয়ন প্রযুক্তিতে করা হয়েছিল। আপনার কি মনে হয় এই মন্দিরের নির্মাণ সত্যিই কোন এলিয়ন প্রযুক্তিতে করা হয়েছিল নাকি আমাদের পূর্বপুরুষের কাছে এমন উন্নত প্রযুক্তি ছিল যা আজকের যুগে আমরা কল্পনাই করতে পারি না।

koilash temple , rohoshyosondhane
koilash temple , rohoshyosondhane

আজ এই পর্যন্তই যদি ভাল লাগে তাহলে এই অ্যাটিকেলটিকে লাইক ও শেয়ার করুন এবং আরো মানুষের জানার সুযোগ করে দিন।ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ।

সুমন্ত

rohoshyosondhane,myway
rohoshyosondhane,myway

3 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here