যে ৬টি কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে আমাদের পৃথিবী

0
847

অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছে সত্যি কি ধ্বংস হতে চলেছে আমাদের পৃথিবী?
সত্যি বলতে এইটি একটি গুজব। তাই আমার সমস্ত বন্ধুদের বলছি ভয় পাবার কনো কারন নেই।
যে কারনে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে পৃথিবী সেই কারন গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। ধ্বংস হচ্ছে না পৃথিবী আপাতত। কিন্তু যদি কোনোদিন হয়ে যায়ই তাহলে এর পেছনে ঠিক কী কী কারণ থাকতে পারে  আসুন জেনে নিই ?

উল্কা বিস্ফোরণ

Rare meteorites
Photo Credit – odishatv.in

আমরা সবাই জানি অতিতে এই পৃথিবীতে বাস করত বিশাল আকার ডাইনোসরেরা। আর তাদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পেছনে দায়ী করা হয় একটি উল্কাকে। মনে করা হয় পৃথিবী থেকে ৬ মাইল দূর দিয়ে যাওয়ার সময় তার উল্কা বর্ষণ,পৃথিবীতে বসবাসকারী সমস্ত প্রানিকে মেরে ফেলেছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা যদি মানুষ এবং এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে তার কারণও হবে একটি উল্কা। তবে কোন ছোট আকারের উল্কা আমাদের পৃথিবীর কোনও ক্ষতি করতে পারবে না পৃথিবীকে ধ্বংস করতে হলে তার আকার ও আয়তন হতে হবে বিশাল এবং সেটিকে পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে যেতে হবে বা পৃথিবীর বুকে আছরে পরতে হবে। বৈজ্ঞানিকরা এই সম্ভাবনাকে একদমই উড়িয়ে দিচ্ছে না তারা বলছে অতিতে যদি হয়ে থাকে তাহলে ভবিষতে তার পুনারবৃতি হতেই পারে আর যদি এই রকম হয় তবে সেটি পুরো মানব সভ্যতা আর পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেবে।

সুপার আগ্নেয়গিরি

The smoke of the volcano
Photo Credit – zastavki.com

সারা পৃথিবী জুড়ে রয়েছে রয়েছে শতশত আগ্নেয়গিরি তাদের মধ্যে রয়েছে কিছু সুপ্ত ও কিছু জিবন্ত আগ্নেয়গিরি মনে করা হয় এদের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তবে আপনি জানেন কী এই আগ্নেয়গিরির ভেতরে মোট ৪টি আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যাদের ভেতরে রয়েছে পৃথিবীকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতন ক্ষমতা। আর এই চারটি আগ্নেয়গিরিকেই ডাকা হয় সুপার আগ্নেয়গিরি নামে। এই চারটি বিশেষ আগ্নেয়গিরির নাম হচ্ছে- আমেরিকার ইয়োলোস্টাইন, ইন্দোনেশিয়ার লেক টোবা, নিউজিল্যান্ডের টাউপো ও জাপানের অ্যায়রা কালডেরা। আর এগুলি প্রতিটি জিবন্ত আগ্নেয়গিরি, এই চার আগ্নেয়গিরির কোনো একটা উদগীরণ করলেও সেটি প্রায় ২০০০ মিলিয়ন সালফারিক এসিড বের করে দেবে যাতে কেবল পৃথিবী একা নয়, ঢাকা পড়বে সূর্যও!

সূর্যরশ্মির ঝড়

Solar Storm
Photo Credit – Lift Up Ideas


সূর্যের উপস্থিতি পৃথিবীর টিকে থাকবার জন্যে প্রচন্ড দরকার। গাছপালা, মানুষ, পশু-পাখি, এমনকি নদ-নদী ও সমুদ্রসহ জলের সমস্ত উৎসের ঠিকঠাক টিকে থাকবার জন্য আমাদের দরকার এই সূর্য। তবে ভয় পাবার কিছু নেই সূর্য হারিয়ে যাচ্ছেনা। কিন্তু সূর্যের এই না হারিয়ে যাওয়া এবং দিনের পর দিন সূর্যের উপস্থিতিই পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে বৈজ্ঞানিকরা। বৈজ্ঞানিকরা বলছেন সূর্যরশ্মি আমাদের গ্রহে খুব দ্রুত এসে উপস্থিত হয় এবং ছড়িয়ে দেয় আলো আর উষ্ণতা। তবে সেটা একটু পাল্টে যায় ঠিক ১১ বছর পরপর। প্রত্যেক ১১ বছর অন্তর সূর্যের জীবনে আসে সোলার ম্যাক্স, তখন সূর্য থেকে নিরগাত হয় সবচাইতে শক্তিশালী এক রশ্মি। আর খুব দ্রুত সেটা এসে আঘাত হানে পৃথিবীতে। ভাবছেন অতটুকু একটু সূর্যরশ্মি আঘাত কী করে হানতে পারে? তাহলে বলে রাখি মঙ্গলগ্রহের বায়ুমণ্ডল একসময় ছিল উষ্ণ আর ভেজা। যা ছিল প্রাণ ধারণের একেবারে উপযোগী। কিন্তু প্রাণের সেই সম্ভাবনা কেড়ে নিয়েছে শক্তিশালী এক সৌরঝড়। বিজ্ঞানীদের মতে, যদি এমন ভাবে চলতে থাকে তাহলে পৃথিবীতে প্রাণকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম মাধ্যম এই সূর্যই একদিন হয়ে উঠতে পারে পৃথিবীর ধ্বংসের কারণ।

ভূ-গর্ভস্থ গ্যাস

underwater gas
Photo Credit – Unbelievable Facts

আমাদের সাগরগুলো নিরীহ ও সুন্দর দেখালেও এর নিচে লুকিয়ে রয়েছে পৃথিবী ধ্বংসের আরও একটি সম্ভাব্য কারন, বিজ্ঞানীদের কথানুসারে সাগরগুলির একদম গভীরে রয়েছে ক্ল্যাথরেটস নামের একটি স্তর যেখানটায় জমা রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস। এমনিতে এই গ্যাস সাগরের তলাতেই চাপা পরে থাকে তবে দিনকে দিন যে হারে গ্রীন হাউজ এফেক্ট কাজ করছে তাতে বৈজ্ঞানিকরা আশঙ্কা করছে হঠাৎ করেই হয়তো একদিন জলের নীচ থেকে বেরিয়ে বোমার মতন বিস্ফোরিত হবে এই মিথেনের স্তর। আর তখনই প্রচন্ড শক্তিশালী কোনো বোমার আঘাতের মতন তছনছ হয়ে যাবে পৃথিবী।

পারমানবিক যুদ্ধ

nuclear bomb
Photo Credit – Citizens for Global Solutions

বেশির ভাগ দেশই পারমানবিক শক্তি অর্জন করছে বর্তমানে। যদিও প্রচন্ড শক্তিশালী এই অস্ত্রটি ব্যবহারের ব্যাপারে বিশ্বব্যাপী নানারকম সংস্থার নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। রয়েছে অনেক নিয়ম-কানুন। তবে সমস্যার শুরুটা হয় সেই স্নায়ু যুদ্ধের সময়। সে সময় আমেরিকা আর সভিয়াত রাশিয়া মুখোমুখি দাড়িয়েছিল একে অন্যের। দুজনের হাতেই ছিল পারমাণবিক অস্ত্র। যদিও এই ব্যাপারটা কেবল ভয় দেখানো আর হুমকির ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু অনেকেই ভেবেছিলেন এবার বুঝি পৃথিবী শেষ হয়ে গেল। এবার একবার ভেবে দেখুন তখন মাত্র দুটি দেশের কাছে ছিল পারমানবিক অস্ত্র। তাতেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিল সবাই। আর বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে পারমানবিক অস্ত্র। তাই মনে করা হয়, কখনো যদি পৃথিবী ধ্বংস হয়েও যায় সেটার পেছনে পারমাণবিক যুদ্ধের বেশ বড় একটা হাত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভিনগ্রহবাসী

Ancient UFO Attack On Earth
Photo Credit – Disclose.tv

মহান বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিন্স মনে করেন এই ব্রম্ভান্ডে আমরা একা নয়, অনেক বৈজ্ঞানিকই মনে করে এই বিশ্বব্রম্ভান্ডে রয়েছে আমাদের মতই কোনও প্রাণী জগৎ যাদের আমরা এলিয়ান বা ভিনগ্রহি প্রাণী বলি। আমরা জানিনা তারা কেমন বা কতটুকু হিংস্র এবং উন্নত। কিন্তু যদি তারা সত্যি থেকে থাকে বা আমাদের পৃথিবীর উপর আক্রমন করে তাহলে হইত সেদিনই হবে মানব সভ্যতার শেষ দিন। তাই বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টা করছেন ভিনগ্রহবাসীদের সত্যতা জানতে। অনেকে কখনো কখনো পেয়েছেন অদ্ভূত সব আলো, শব্দ এবং ইউএফওর খোঁজ। অনেকে দাবি করেছে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিনগ্রহবাসীদের দেখা গিয়েছে বলে।আমরা বিশ্বাস করি বা নাই করি ভিনগ্রহবাসীদের সম্বন্ধে আমাদের পষ্ট ধারণা না থাকলেও,ভিনগ্রহবাসীদের দ্বারা পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনাকে কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায়না।

 

ধন্যবাদ …।

এই সম্বন্ধে আপনাদের মূল্যবান মতামত নিচের কমেণ্টবক্সে লিখে জানান।

সুমন্ত……………।

rohoshyosondhane

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here