অটুট বন্ধুত্ব – অসাধারন এই প্রানী গুলোও মানুষকে ভালোবাসতে পারে ( পর্ব – ২ )

1
126

অটুট বন্ধুত্ব, ভালোবাসার সম্পর্ক কখন কার সাথে হয়ে যায় বলা যায় না। এই ভালোবাসা হতে পারে কোন প্রাণীর সাথে মানুষের কিংবা কোন পশু পাখির সাথে মানুষের। আজকের এই ভিডিওর মাধ্যমে এমনি কিছু ভালোবাসার দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে তুলে ধরবো যা, দেখার পর আপনি হয়তো বিশ্বাসই করতে পারবেন না যে বাস্তবেও এমনটি ঘটতে পারে। আর ভিডিও শেষে থাকবে যে কাউকে কাঁদিয়ে ফেলার মত একটা বাস্তব ঘটনা। সত্যি বলতে এই ভিডিওটি বানানোর সময় আমি নিজেও ইমোশনাল হয়ে গিয়েছিলাম। তো যাই হোক কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

জেলে ও পেঙ্গুইনের ভালোবাসা ঃ-

জেলে ও পেঙ্গুইনের ভালোবাসা
rohoshyosondhane

ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিওতে, ভালোবাসার এক বিস্ময়কর নিদর্শন দেখতে পাওয়া যায়। এখানে ভালোবেসে ৫ হাজার মাইল সাগর পথ পাড়ি দিয়ে একটি পেঙ্গুইন তার জীবন রক্ষাকারী মানব বন্ধুর কাছে ছুটে আসে। মানব বন্ধু বললে হয়তো ভুল হবে, কারণ এই বন্ধু পেঙ্গুইনটিকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসে। তাই পেঙ্গুইনের মানব পিতা বললে বোধহয় ভুল হবে না। এই ভালোবাসা সূচনা হয়েছিল ২০১১ সালে। একদিন ৭১ বছর বয়সী জও ফেরেরা রিওর এক দ্বীপে দেখেন। একটি পেঙ্গুইন  মাছ ধরার একটি পরিত্যক্ত জালের মধ্যে আটকে গিয়ে ছটফট করছে। পেশায় অবসরপ্রাপ্ত এই জেলে, সেই পেঙ্গুইনটিকে উদ্ধার করে জাল থেকে ছাড়িয়ে দেন এবং তার সেবা শুশ্রূষা করে তাকে সুস্থ করে তোলে। সুস্থ হলে পেঙ্গুইনটিকে মুক্ত করে দেয়ার সময় তার নাম রাখেন ডিম ডিম। এরপর ডিম ডিম চলে যায় গভীর সাগরের, কিন্তু কয়েক মাস পর ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। তিনি দেখেন ডিম ডিম আবার তার কাছে ফিরে এসেছে। পেঙ্গুইনটি ফেরেরা সাথে হাঁটাচলা করলেও, অন্য কাউকে তার আসেপাশে আসতে দেয় না। অন্য কেউ ডিম ডিমকে স্পর্শ করতে গেলে তাকে ঠোক্কর দেয়। ফেরেরা বলেন তিনি পেঙ্গুইনটিকে নিজের সন্তানের মতোই ভালোবাসেন। ডিম ডিম টানা ৮ মাস থাকে ফেরেরা কাছে, শুধুমাত্র প্রজননের সময় আসলে কয়েক মাসের জন্য আর্জেন্টিনা এবং চিলির কাছে গভীর সমুদ্রে সে চলে যায় এবং প্রজননের সময় অতিক্রম হয়ে গেলে পেঙ্গুইনটি ফিরে আসে আবার তার বন্ধুর কাছে। এই ভালবাসার কাহিনী ২০১৬ সালে ব্রাজিলের মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।

কুমির ও মানুষের ভালবাসা ঃ-

কুমির ও মানুষের ভালবাসা
rohoshyosondhane

কুমির ও মানুষের ভালোবাসা হওয়া সত্যি বিস্ময়কর, কারণ কুমির কতটা ভয়ঙ্কর এবং বিপদজনক হতে পারে। তা আমাদের কারোরই অজানা নয়। কিন্তু জীবন বাঁচানোর প্রতিদান স্বরূপ কোন কুমিরও যে মানুষের বন্ধু হতে পারে তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল এই ঘটনা। আজ থেকে ২১ বছর আগে কোস্টারিকার পরসমিনা নদীর তীরে ৫ মিটার লম্বা একটি কুমিরকে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন চিতো নামে এক ব্যক্তি। উদ্ধারকৃত কুমিরটির নাম রাখেন পোচো। তিনি পোচোকে প্রাণী চিকিৎসকের সহযোগিতায় সুস্থ করে তোলেন। কুমিরটি সুস্থ হয়ে গেলে চিতো কুমিরটিকে নদীর তীরে ছেড়ে দেন। কিন্তু পোচো ফিরে যায় না, সে চিতোর পিছু পিছু চিতোর বাড়ির দিকে চলে আসে। পরে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে কুমিরটিকে বাড়িতেই রেখে দেন চিতো। এইভাবে চলতে থাকে তাদের এই বন্ধুত্ব। কুমিরটিকে দেখার জন্য আশেপাশের মানুষ এসে ভিড় জমাতো চিতোর বাড়িতে। এই ভালোবাসা ২০১৮ সালের ১২ই অক্টোবর কুমিরটির স্বাভাবিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে শেষ হয়। তখন কুমিরটির বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। এভাবেই হয়তো প্রাণীরা, তাদের মানব বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যায়। কিন্তু সে কখনোই চিতোর কোন ক্ষতি করে যায়নি।

জাগুয়ারের সাথে বন্ধুত্ব ঃ-

জাগুয়ারের সাথে বন্ধুত্ব
rohoshyosondhane

ব্রাজিলের এই কিশোরের নাম টিয়াগো, তার বাবা এবং মা, দুজনেই প্রাণীবিজ্ঞানী। তারা ব্রাজিলের জাগোআই ইন্সটিটিউটে কাজ করেন। আর সেই সুবাদেই টিয়াগো ছোটবেলা থেকেই এসমস্ত প্রাণীদের সাথে খেলাধুলা করতো। টিয়াগোর যখন জন্ম হয় তখন তার বাবা-মা তিনটে জাগুয়ারের বাচ্চাকে বড় করছিলেন, টিয়াগো ছোটবেলা থেকেই এই জাগুয়ারের বাচ্চা গুলিকে দুধ খাইয়ে দিত এবং খেলাধুলা করত। ছোটো থেকেই এভাবে একসাথে বড় হয়ে ওঠার কারণে, তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক বন্ধুত্বের সম্পর্ক। আর এই সম্পর্ক আজও অটুট রয়েছে।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- ২৪০০০ ফুট ওপরে ভেঙে গেল বিমানের ছাদ তারপর কি হলো দেখুন || এয়ারক্রাফ্ট বোইং ৭৩৭

আমি ভিডিও শুরুতে বলেছিলাম, যে কাউকে কাঁদিয়ে ফেলবে এমন একটি বাস্তব ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। তো চলুন দেখে আসি এক ঘটনাটি।

এক বিশ্বস্ত কুকুরের সত্য গল্প ঃ-

Hachiko
rohoshyosondhane

হাচিকো একটি কুকুরের নাম। এই কুকুর তার মালিকের জন্য একটানা ১০ বছর ধরে অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু কিসের জন্য এত অপেক্ষা ? কি ছিল তার কারণ ? চলুন জেনেনি সে কাহিনি । ১৯২৩ সালের ১০ নভেম্বর জন্ম হয় হাচিকোর। জাপানের টোকিও ইউনিভার্সিটির এক প্রফেসর, জাপানের শিবুয়া রেলস্টেশন থেকে ছোট্ট এই কুকুরছানাটিকে কুড়িয়ে নিয়ে আসে। এই কুকুরছানাটিকে প্রফেসর তার বাড়িতে লালন পালন করতে শুরু করে। প্রফেসর কুকুরটির নাম রাখেন হাচিকো। জাপানি ভাষায় যার অর্থ রাজপুত্র। প্রতিদিন প্রফেসর কাজে যাওয়ার সময় বিদায় জানাত হাচিকো এবং দিন শেষে প্রফেসারের ফেরার অপেক্ষায়, স্টেশনের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসে থাকতো হাচিকো। স্টেশনের সকলেই অল্প কিছুদিনের মধ্যেই চিনে ফেলেছিল প্রফেসরের এই ছোট্ট বন্ধুটিকে। তাদের এই বন্ধুত্ব ১৯২৫ সালের মে মাস পর্যন্ত চলতে থাকে। তারপর একদিন প্রফেসর সেই যে গিয়েছিলেন আর ফিরে আসেননি। কারণ কর্ম ক্ষেত্রে যাওয়ার পর হঠাৎই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মারা যান তিনি। মৃত্যু প্রফেসরকে কেড়ে নিয়ে গেলেও, হাচিকোর ভালোবাসা বেঁচে ছিল তার মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। সে প্রতিদিনই স্টেশনে এসে বসে থাকতো প্রফেসরের পথ চেয়ে। দিন যায়, মাস যায়, বছর যায় কিন্তু বিরাম হয়নি হাচিকোর পথ চেয়ে থাকা। তাকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বহুবার কিন্তু আবার সে ফিরে আসতো ঠিক সময় মত। তার বিশ্বাস তার মালিক কোন না কোন দিন এই রাস্তা দিয়েই আবার ফিরে আসবে। আর সেই জন্য টানা ১০ বছর ধরে সে এই একই জায়গায় অপেক্ষা করেছিল। প্রফেসারের মৃত্যুর পর তার এক ছাত্র জানতে পারে এই কুকুরটির অপেক্ষা করে থাকার কথা। সে শিবুয়া স্টেশনে অপেক্ষারত এই কুকুরটিকে দেখতে আসে এবং আশেপাশের মানুষের কাছে প্রফেসরের আর এই কুকুরটির ব্যাপারে অনেক তথ্য সংগ্রহ করে। তারপর তিনি টোকিওর একটি পত্রিকায়, হাচিকোর এই ভালোবাসার কাহিনীটি তুলে ধরেন। এরপর সারা বিশ্বের কাছে হাচিকো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং হয়ে ওঠে ভালোবাসার এক প্রতীক। হাচিকো হয়ে পড়ে জাপানের ন্যাশনাল সিম্বল অফ রয়েলিটি।

Hachiko
rohoshyosondhane

৮ ই মার্চ ১৯৩৫ সালে হাচিকোর মৃত্যু হয়। এরপর এপ্রিল ১৯৩৬ সালে জাপানের শিবুয়া রেলস্টেশনে হাচিকোর আদলে একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়, হাচিকোর এই ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে। হাচিকো এই ভালোবাসাকে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার জন্য নির্মাণ করা হয় একটি মুভি। যার নাম হাচিকো এ ডগ স্টোরি।

Hachiko
rohoshyosondhane

আপনি চাইলে এই মুভিটি আজও দেখতে পারেন। তো বন্ধুরা আপনাকে বেশ কয়েকটি ঘটনা জানালাম, এর মধ্যে কোন ঘটনাটি আপনার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগলো আমাকে কমেন্টে লিখে জানান। আর এ রকমই অদ্ভুত-অজানা ও রহস্যময় ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল আইকনটিতে ক্লিক করে রাখুন। আপনি যদি এই ভিডিওটি ফেসবুকে দেখে থাকেন তা তাহলে আমাদের ফেসবুক পেইজ মাইওয়েকে লাইক করুন। আজ এই পর্যন্তই, দেখা হবে পরের ভিডিওতে, ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ …………।

সুমন্ত ………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here