দেখুন কিভাবে ভারত-পাকিস্তান বর্ডারে কাঁচের বোতল দিয়ে Indian Army সীমা রক্ষা করে

1
406

ভারত-পাকিস্তান বর্ডার…… প্রকৃতি এখানে খুবই নিষ্ঠুর, প্রচন্ড সূর্যের তাপ আর হঠাৎই বালু ঝড়ের আক্রমণ সঙ্গে রয়েছে অচেনা শত্রুর হামলা, সব মিলিয়ে এখানকার পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, তাই এখানে শত্রুর সাথে লড়াই করার পদ্ধতি একদম আলাদা। ভারত-পাকিস্তান বর্ডারের এই স্থানটিতে রয়েছে হাজার কিলোমিটার লম্বা কাঁটাতারের বেড়া আর এই কাঁটাতারের বেড়াতেই ঝুলছে সারিবদ্ধ কাঁচের বোতল। এখন প্রশ্ন হল এই কাঁচের বোতল কেন, এটা কি কোন কুসংস্কার নাকি অনুপ্রবেশ আটকানোর কোনো অজানা পদ্ধতি? চলুন জেনে নেয়া যাক এই বোতলের পেছনে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এবং আর কি কি অদ্ভুত পদ্ধতিতে ভারতীয় সেনারা ভারতের সীমাকে রক্ষা করছে?

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

এটি রাজস্থানের জয়সালমীর এলাকা। যেখানে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত আপনি বালি ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাবেন না। প্রথম দেখায় আপনার মনে হতেই পারে যে ৫০ ডিগ্রির থেকেও বেশি তাপমাত্রায় এখানে কে আসবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমাদের প্রতিবেশী দেশের নাম পাকিস্তান। যে সর্বদাই ভারতের মাথা ব্যথার কারণ, তাই পাকিস্তানের এই অবৈধ অনুপ্রবেশ আটকাবার জন্য জয়সালমীরের বাবলিজান সেক্টরে লোহার তৈরি হাজার কিলোমিটার লম্বা কাঁটাতারের বেড়া লাগানো হয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র এই কাঁটাতারের বেড়াই পাকিস্তানকে আটকাবার পক্ষে যথেষ্ট নয় কারন হাজার কিলোমিটারের থেকেও বেশি লম্বা এই স্থানে সব জায়গায় সীমা রক্ষী নিয়োগ করা সম্ভব নয় তাই এই সমস্যার সমাধান করার জন্য ভারতীয় বিএসএফ অর্থাৎ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স কিছু অদ্ভুত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। আমি আপনাদের পরপর ৩ টি অদ্ভুত পদ্ধতির কথা জানাবো যা ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স রাজস্থানের এই বর্ডার রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করে।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

প্রথমে আমরা কথা বলবো কাঁচের বোতলের ব্যাপারে, সাধারণ দেখতে এই বোতলে কি আছে যা পাকিস্তানীদের সমস্ত চালকে পরাস্ত করে দেয়। আসলে এই পদ্ধতির নাম হলো বটল অ্যালার্ম। রাজস্থানের বাবলিজান বর্ডার খুবই সংবেদনশীল এলাকা, এখানে রয়েছে অনধিকার অনুপ্রবেশের আশঙ্কা আর সেই জন্যই এখানে সারিবদ্ধ ভাবে কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে হাজারো কাঁচের বোতল।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আপনি যদি ভালো করে লক্ষ্য করেন তাহলে দেখতে পাবেন একটি বোতল অপরটির সাথে গায়ে গায়ে লেগে আছে অর্থাৎ সামান্য নড়াচড়াতেই এগুলি ধ্বনির সৃষ্টি করে যা ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে সতর্ক করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এই বটল অ্যালার্মের সফলতার পেছনের আসল কারণটি হলো ভারত-পাকিস্তান বর্ডার দৈর্ঘ্য। পাকিস্তানের সাথে ভারতের ৩৩২৩ কিলোমিটার লম্বা বর্ডার রয়েছে যার মধ্যে রাজস্থানে রয়েছে ১০৩৭ কিলোমিটার লম্বা সীমারেখা, এর মধ্যে ১০২৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া লাগানো হয়েছে এবং ১০২২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে লাগানো হয়েছে লাইট কিন্তু তবুও অনধিকার অনুপ্রবেশ এবং মাদকদ্রব্যের আদান-প্রদান আটকানো সম্ভব হয়নি। তাই এখানকার বিএসএফ এই বটল অ্যালার্ম পদ্ধতিটি চালু করেছে।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- এক সত্য ঘটনা – কিভাবে ভারত হয়ে উঠল পরমাণুবিক শক্তিধর দেশ                                            পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর সেনাবাহিনী

টিপ লেয়ার সিস্টেম ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ভারত এবং পাকিস্তানের এই দীর্ঘ বর্ডারটি শুধুমাত্র বটল অ্যালার্মের সাহায্যেই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব নয় আর সেই জন্য ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স কিছু হাইটেক পদ্ধতি অবলম্বন করে, এর মধ্যে প্রধান হল টিপ লেয়ার সিস্টেম। ছোট দেখতে এই সিস্টেমটি খুবই কার্যকর, এটি অনুপ্রবেশের সমস্ত খবরা-খবর খুব সহজেই সেখানে পাহারারত বিএসএফ জওয়ানদের কাছে পৌঁছে দেয়। এই টিপ লেয়ার সিস্টেমটি কাঁটাতারের বেড়ার সাথে লাগানো থাকে যা ৫৫ মিটার দূর অন্য আরও একটি সিস্টেমের সাথে অ্যালমনিয়ামের সূক্ষ্ম তার দ্বারা যুক্ত থাকে। আসলে বেশিরভাগ অনুপ্রবেশের ঘটনায়ই ঘটে রাতের অন্ধকারে আর সেই জন্যই এই সিস্টেমটি খুবই কার্যকর। যদি কেউ এই টিপ লেয়ার সিস্টেমের সাথে যুক্ত তারকে স্পর্শ করে তাহলে সেখানে থাকা বারুদে বিস্ফোরণ ঘটে আর যার ফলে প্রচন্ড আলোর সৃষ্টি হয় আর সেই আলো দেখে বিএসএফ জওয়ানদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে কোন স্থান থেকে অনুপ্রবেশ ঘটছে।

কোবরা ওয়্যার সিস্টেম ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

এটি রাজস্থানের সীমারেখাকে রক্ষা করার তৃতীয় সিস্টেম, এর নাম হলো কোবরা ওয়্যার সিস্টেম। এই সিস্টেমের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিএসএফ জয়ানদের সতর্ক করা। চলুন দেখে নেয়া যাক এই কোবরা ওয়্যার সিস্টেমটি কিভাবে কাজ করে। এই সিস্টেমে বিভিন্ন রং এর বাল্ব লাগানো থাকে, রাত হবার সাথে সাথে এই বাল্ব গুলি জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বিশেষ ব্যাপার হল এই বাল্ব গুলি প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা তারের সাথে যুক্ত থাকে আর এই তার গুলিতে প্রায় দুশ কুড়ি ভোল্ট কারেন্ট প্রবাহিত হয়, যদি রাতের অন্ধকারে কোন অনুপ্রবেশকারী সীমারেখা পার করার চেষ্টায় এই তার গুলিকে স্পর্শ করে তাহলে সেই তারের সাথে যুক্ত থাকা আলোটি বন্ধ হয়ে যাবে এবং সীমান্তরক্ষীরা এই আলো দেখেই সতর্ক হয়ে যাবে যে এখান দিয়ে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

রাজস্থানের এই ১০৩৭ কিলোমিটার লম্বা সীমারেখাকে ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স এই ভাবেই প্রতিনিয়ত রক্ষা করে চলেছে, একবার ভেবে দেখুন যেখানে তাপমাত্রা প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায় সেখানে কত কঠিন পরিস্থিতির সাথে লড়াই করে তারা দেশকে প্রতিদিন রক্ষা করে চলেছে। মাইওয়ে স্যালুট জানায় ভারতের সেই সমস্ত বীর সন্তানদের যারা কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় ভারতকে রক্ষা করে আসছে। আজকের ভিডিওটি এই টুকুই ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন এবং অন্য মানুষদের জানবার সুযোগ করে দেবেন। দেখা হবে পরের ভিডিওতে সবাই সুস্থ থাকুন ভালো থাকুন, জয় হিন্দ, ভারত মাতা কি জয়।

সুমন্ত

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here