ইন্ডিয়া টিমের এই সাপোর্টারটির ব্যাপারে জানলে আপনি কেঁদে ফেলবেন

1
123

ক্রিকেট খেলা ভালবাসেনা এমন মানুষ এই ভারতবর্ষে খুব কমই আছে, আমরা কম বেশি সকলেই ক্রিকেট খেলতে বা ক্রিকেট খেলা দেখতে ভালবাসি, কিন্তু আজ আমি কথা বলব এমন একটি মানুষের ব্যাপারে যিনি ক্রিকেটের নামে তার জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে।

Sudhir Goutam
rohoshyosondhane

ক্রিকেট খেলা দেখার সময় এই মানুষটিকে আমরা সকলেই স্টেডিয়ামে ভারতের পতাকা উড়াতে দেখেছি, কিন্তু আমরা কখনোই জানার চেষ্টা করিনি যে ইনি কে। ইনি হলেন সুধীর কুমার চৌধুরী। আজকের এই ভিডিওতে আমরা আলোচনা করব ইন্ডিয়া টিম তথা শচীন টেন্ডুলকারের সব থেকে বড় ফ্যান সুধীর চৌধুরীর বা সুধীর গৌতমের ব্যাপারে।

Sudhir Goutam
rohoshyosondhane

১৯৮১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মোজাফফরপুরের এক গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুধীর গৌতম। ছোটবেলায় সুধীর ক্রিকেটের প্রতি ততটা আকর্ষিত ছিল না কিন্তু তার জীবন বদলে যায় ২০০১ সালের ১৯ জানুয়ারি ইডেন গার্ডেনে শচীন টেন্ডুলকারের খেলা দেখার পর। তিনি হয়ে পড়েন শচীন টেন্ডুলকারের সব থেকে বড় ফ্যান। এরপর থেকে সে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্টেডিয়ামে গিয়ে, গায় ভারতের পতাকা এঁকে ভারতীয় টিম এবং শচীন টেন্ডুলকারকে চিয়ার করতে শুরু করেন। অধিনায়ক বদলায়, খেলোয়াড় বদলায, কিন্তু বদলায় না ভারতীয় টিমের প্রতি সুধীর এই ভালোবাসা। আস্তে আস্তে সুধীর ভারতীয় খেলোয়াড়দের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠে। আপনি জানলে হয়তো অবাক হবেন, সুধীর পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি যিনি সচিন তেন্দুলকারকে মিসকল দিলে সচিন তেন্দুলকার তাকে কল ব্যাক করে।

Sudhir_Kumar_Gautam
rohoshyosondhane

তবে তার এই সুধীরকুমার থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ফ্যান হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে অনেক কষ্টের কাহিনী। গরিব পরিবারে জন্ম হওয়ার কারণে ক্রিকেট খেলা দেখা বা দেশ বিদেশে যাওয়ার মতো সামর্থ্য তার ছিল না। কিন্তু তার ছিল ক্রিকেটের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং স্বার্থ ত্যাগ। যা আজ তাকে বানিয়ে তুলেছে ভারতীয় ক্রিকেটের সবথেকে বড় ফ্যান। স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার প্রবেশপত্র খেলোয়াড়রা জোগাড় করে দিলেও, তার যাতায়াতের খরচা তিনি নিজেই বহন করেন। ২০০৬ সালে ১৭০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন পাকিস্থানে এরপর ২০০৭, ২০১১ এবং ২০১২ তে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে তিনি পৌঁছে যান বাংলাদেশ।

Sudhir Goutam
rohoshyosondhane

ভারতের যেকোনো প্রান্তে খেলা দেখার জন্য তিনি সাইকেলকেই তার যাত্রাপথের সঙ্গী করতেন কিন্তু আজ বদলে গেছে অনেক কিছু, তাকে চিনতে শুরু করেছে সারা বিশ্বের মানুষ, আজ তিনি যাতায়াত করার জন্য বিভিন্ন স্পন্সারসিপ পেয়ে থাকেন। এই ক্রিকেটপাগল মানুষটির আজ রয়েছে নিজস্ব ফ্যান বেস, যত যাই হোক আজও বদলাইনি সুধীরের জীবনযাত্রা। টিকিট এবং যাতায়াত খরচ জোগাড় করতে পারলেও, থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত তাকে নিজেই করতে হয়। আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ার জন্য মাঝে মাঝে এক বেলা খাবার খেয়েই তাকে দিন কাটাতে হয়। আর রাত কাটানোর জন্য ক্রিকেট স্টেডিয়ামই তার একমাত্র ভরসা। তবে ক্রিকেটপ্রেমী এই মানুষটিকে মাঝে মাঝে বিপদেও পড়তে হয়েছে, একবার বাংলাদেশের মিরপুর স্টেডিয়ামে তিনি বাংলাদেশি ক্রিকেটপ্রেমী দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন।

Sudhir Gautam
rohoshyosondhane

পরবর্তীতে বাংলাদেশী পুলিশের সহযোগিতায় তিনি সেই যাত্রায় রক্ষা পান। আরো একবার স্কটল্যান্ডের একটি স্টেডিয়ামে চিয়ার করতে গিয়ে তিনি পড়েন বিক্ষোভের মুখে, স্টেডিয়ামে বসে থাকা স্কটল্যান্ডের সাপোর্টাররা তাকে বারবার বিরক্ত করছিল এবং গালিগালাজ করছিল, কিন্তু মজার ব্যাপার হলো পাকিস্তানের এক ক্রিকেট প্রেমী যাকে আমরা সকলে পাকিস্তানি চাচা হিসেবে চিনি তিনি এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করেন এবং তিনি তৎক্ষণাৎ সুধীরের কাছে ছুটে যান এবং দুজনে মিলে ইন্ডিয়া টিমের হয়ে চিয়ার করতে শুরু করেন। তখন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে স্কটল্যান্ড সাপোর্টাররা সেখান থেকে সরে পড়ে।

Sudhir Gautam
rohoshyosondhane

এই সুধীর একমাত্র ক্রিকেট ফ্যান যে ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি নিজের হাতে ছুঁয়ে দেখেছেন। আজ সুধীরকে আমরা সকলেই চিনি কিন্তু আমরা তার ব্যাপারে কখনোই জানার চেষ্টা করিনি। তো বন্ধুরা কেমন লাগলো ইন্ডিয়া টিমের এই পাগল ফ্যানটির ব্যাপারে জেনে। আপনার মূল্যবান মতামতটি নিচের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই লিখে জানান, আর এ রকমই অদ্ভুত মজার ও অজানা ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটি ক্লিক করে রাখুন। তো দেখা হবে পরের ভিডিওতে ভালো থাকবেন ধন্যবাদ।

সুমন্ত ……………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here