বিশ্বের প্রচলিত কুসংস্কার গুলির পেছনের আসল বৈজ্ঞানিক কারণ

0
152

পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই, মানুষ যুগ যুগ ধরে কিছু না কিছু নিয়ম মেনে আসছে, কিন্তু আমরা কখনই বিবেচনা করে দেখি না যে এগুলি কতটা গ্রহণযোগ্য বা এর পেছনে কি বৈজ্ঞানিক কারণ লুকিয়ে রয়েছে। আমরা এগুলিকে মেনে চলি কারণ আমাদের পূর্বপুরুষরা এই নিয়মগুলি যুগ যুগ ধরে মেনে আসছে, তাই আমরা এর কোন ব্যাখ্যা না খুজে শুধুমাত্র ভয়ের কারণে এই অদ্ভুত নিয়ম বা কুসংস্কার গুলি মেনে চলেছি। যেমন ধরুন বিড়াল রাস্তা কাটলে নাকি বিপদের সম্ভাবনা থাকে বা দোকানের সামনে লেবু লঙ্কা ঝলালে আপনার ব্যবসায় কারো কুনজর পড়বে না, এই সমস্ত কুসংস্কার বা নিয়মগুলি মেনে চলার আগে আমরা কখনই একবার ভেবে দেখি না যে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই ধরনের উদ্ভট নিয়মগুলির প্রচলন কেন করেছিল। অনেক সময় হয়তো বড়দের প্রশ্ন করেও আমরা এর সঠিক কোন উত্তর পাইনি, তবে সব প্রচলিত নিয়মের পেছনেই লাভ ক্ষতি বা খারাপ ভাগ্য জুড়ে থাকে না। কিছু নিয়ম এমনও আছে যেগুলি লজিক্যাল হওয়ার সাথে সাথে বৈজ্ঞানিকও বটে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কথাগুলো এইজন্য বলেছিল কারন তখনকার সময় অনুযায়ী এই নিয়ম গুলি ছিল একেবারে সঠিক। তবে আজকের যুগে এই নিয়মগুলো মেনে চলার তেমন কোন কারন নেই। আজ মাইওয়ের এই পর্বে আমরা আলোচনা করব এই রকমই কিছু অদ্ভুত কুসংস্কারের ব্যাপারে এবং জানব এর পেছনে কি ব্যাখ্যা লুকিয়ে রয়েছে আর কেনইবা আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই নিয়ম গুলির প্রচলন করেছিল। তো চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাক।

পবিত্র নদীতে পয়সা ফেলা ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আজ নদী যতই আবর্জনা যুক্ত হোক না কেন, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে পবিত্র নদীগুলিতে পয়সার ফেলার রীতি আজও প্রচলিত রয়েছে। আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষ, গঙ্গা যমুনা বা নর্মদার মত পবিত্র নদীগুলিতে পয়সা ফেল, মনোসকামনা পূর্ণ হওয়ার জন্য প্রার্থনা করে। অনেকেই মনে করে যে পয়সা বা ধাতুর কিছু নদীতে ফেললে ভাগ্যবান হওয়া যায়। কিন্তু এই সমস্ত ধর্মীয় বিশ্বাস ছাড়াও নদীতে পয়সা ফেলার একটি সাইন্টিফিক কারণ রয়েছে। প্রাচীন যুগে বেশিরভাগই পয়সাই তামা বা রুপোর হত, তামা বা রুপোর বিশেষ ব্যাপারটি হল এটি জলকে বিশুদ্ধ করে যার ফলে মানুষ এবং নদীতে বসবাসকারী প্রাণীরা উপকৃত হয়। জলে সিলভার এবং কপার থাকার ফলে এর গুনোমান বৃদ্ধি পায় তাছাড়া এই দুই ধরনের ধাতু জলে ন্যাচারাল ফিল্টারের কাজ করে। নদীর সুরক্ষার জন্য প্রাচীন যুগের প্রচলিত এই নিয়মটিকে, আজ মানুষ শুধুমাত্র নিজের স্বার্থের জন্য মেনে চলেছে। মাত্র একটি পয়সা ফেলেই না জানি কত না কিছুই তারা চেয়ে বসে। তবে পয়সা ফেলা ব্যক্তির ভাগ্য সুপ্রসন্ন হোক বা নাই হোক, জলে ঝাঁপ দিয়ে পয়সা খোঁজ কিছু বাচ্চার ভাগ্য অবশ্যই সুপ্রসন্ন হয়।

সূর্যগ্রহণ দেখলে নাকি অন্ধ হয়ে যায় ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

সূর্যগ্রহণ তখন হয়, যখন চাঁদ ,পৃথিবী এবং সূর্যের মাঝে চলে আসে। যার ফলে সূর্যের আলো পৃথিবীর পর্যন্ত আসতে পারে না, বলা হয়ে থাকে সূর্যগ্রহণ নাকি খালি চোখে দেখা উচিত নয়, কারণ এতে মানুষ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিন্তু আসলে এই কথাটি পুরোপুরি সত্য নয়, সূর্যগ্রহণ দেখলে চোখের ক্ষতি অবশ্যই হয়, কিন্তু এতটাও নয় যে মানুষ অন্ধ হয়ে যাবে। আমরা যখন অন্ধকার থেকে আলোর মধ্যে যাই বা আমাদের চোখে জোরালো ফ্লাশ লাইটের আলো পড়ে তখন আমরা চোখে হালকা ব্যথা অনুভব করি। এটি হওয়ার প্রধান কারণ হলো যখন জোরালো আলো আমাদের চোখের উপর পড়ে তখন চোখের রেটিনা এই জোরালো আলোটিকে সহ্য করার জন্য, আকারে বড় হয়ে যায়। সূর্যের আলো এতটাই জোরালো হয় যে আমরা তার দিকে সরাসরি তাকাতে পারি না, এমনকি সূর্যের আলো যখন কোন আয়নায় প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়ে তাতেও আমাদের চোখের ক্ষতি হতে পারে। গ্রহণের সময় সূর্যের আলো আলোর তেজ অনেক কম হয়ে যায় কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি এতটাই জোরালো থাকে যে তার দিকে তাকালে আমাদের চোখের ক্ষতি হতে পারে। সূর্যগ্রহণ দেখতে খুবই সুন্দর এবং অদ্ভুত, কিন্তু অন্যদিকে এটি চোখের জন্য ক্ষতিকারক, তাই পুরনো সময় মানুষ এটিকে দেখার জন্য নিজের চোখের ক্ষতি না করে ফেলে , সেই জন্য গুজব রটানো হয়েছিল যে সূর্যগ্রহণ দেখলে চোখ অন্ধ হয়ে যাবে।

কালো বিড়াল রাস্তা কাটলে আপনার যাত্রা অশুভ হবে ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আপনি নিশ্চয়ই অনেক মানুষকেই বিড়াল রাস্তা কাটলে দাঁড়াতে দেখেছেন। এই কথাটি আরো বেশি অন্ধবিশ্বাস বলে মনে হয় যখন বিড়াল রাস্তা কাটার পর কোন ব্যক্তি অপেক্ষা করতে থাকে যাতে অন্য কোন ব্যক্তি সেই রাস্তা আগে  অতিক্রম করে। তারা বিশ্বাস করে যে অন্য কোন ব্যাক্তি সেই রাস্তা আগে পার করলে সেই জায়গা থেকে খারাপ প্রভাব নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে এরকম কত রাস্তা আছে যেখান দিয়ে প্রতিদিন কতইনা বিড়াল পার হয়ে হচ্ছে কিন্তু আমরা হয়তো সেটা দেখিনি তাই আমরা এই নিয়মটি সেই জায়গায় মানছিনা। আসলে কোনও সঠিক ব্যাখ্যা না পাওয়ার জন্য অনেক মানুষই এই নিয়মটিকে একটি অন্ধবিশ্বাস বলে মনে করেন, কিন্তু বেশিরভাগই মানুষ শুধুমাত্র ভয়ের কারণে রিক্স নিতে ভয় পায়। যদিও বিড়াল রাস্তা কাটলে কেন দাঁড়িয়ে যেতে হয় তার পিছনে একটি লজিক্যাল কারণ আছে, কিন্তু সেটি ছিল শুধুমাত্র প্রাচীন সময়ের জন্য। যখন যাতায়াত করার জন্য একমাত্র মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি বা ঘোড়ার গাড়ি, সেই সময় রাতের বেলায় যখন কোন মানুষ যাত্রা করত, তখন কোন কালো প্রাণী যেমন প্যানথার বা কালো বিড়াল গাড়ির সামনে চলে এলে, গাড়ি টানা জন্তু জানোয়ার গুলি ঘাবড়ে যেত এবং ভয় পেয়ে এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করে দিত, আর এই জন্যই গরু বা ঘোড়ার গাড়ির চালকদের উপদেশ দেয়া হতো রাতের বেলা রাস্তার উপর ভালো করে লক্ষ্য রাখার জন্য এবং রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোন প্রাণী যদি রাস্তা কাটে তাহলে গাড়ি যেন তারা থামিয়ে দেয়। এতে গাড়ি টানা পশুরা হঠাৎ ভয়ে ভীত হয়ে পরবে না। এটি হল আগের দিনের মানুষের কালো বিড়াল রাস্তা কাটলে কি করতো তার একটি লজিক্যাল কারণ, যা সত্যি আজকের সময় একদমই একটি অন্ধ বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই নয়। কিন্তু এর পিছনে আরও একটি কারণ রয়েছে সত্তরের দশকে ইউরোপের একটি পোপ, পোপ গ্রাগি দ্যা নাইন্থ, কালো বিড়ালকে শয়তানের একটি রূপ বলে প্রচার করেন। সেই সময় কালো বিড়ালের উপর অনেক গান লেখা হয়েছিল যাতে কালো বিড়ালকে একটি শয়তানের একটি রুপ বলে তুলে ধরা হয়েছিল, আর এখান থেকেই শুরু হয়েছিল কালো বিড়ালের উপর এই অন্ধ বিশ্বাসের।

সূর্য অস্ত্র হবার পর নখ কাটা উচিত নয় ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

আগেকার দিনে মানুষের কাছে আপনি এই কথাটি নিশ্চয়ই শুনেছেন, যে রাতের বেলায় নখ কাটা উচিত নয়, কারণ এটি অশুভ হয়ে থাকে। যে সমস্ত বৃদ্ধ মানুষের কাছে আমরা এই কথাগুলি শুনি তারা নাকি তাদের পিতা-মাতা বা দাদু ঠাকুরমার কাছ থেকে এই কথাটি শুনেছে। রাতের বেলায় নখ না কাটার কোন বৈজ্ঞানিক কারণ না থাকলও, কিছু লজিক্যাল কারণ অবশ্যই রয়েছে। প্রাচীন যুগে যখন বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল না তখন বেশিরভাগ মানুষই রাতের অন্ধকারে লন্ঠন বা অন্য উপকরণ জ্বালিয়ে ঘরের মধ্যে রাত কাটাতো। অন্ধকার বেশি হওয়ার জন্য বড়রা উপদেশ দিতেন যে রাতের অন্ধকারে কেউ যেন নখ না কাটে, কারণ আমাদের নখের ভেতর নোংরা থাকে এবং কাটার পর সেটি ধারালো হয়ে যায়, অন্ধকারে সেটি খাবারে পড়তে পারে বা পায়ের তলায় ফুটতে পারে আর যখন নেল কাটার ছিল না তখন মানুষ, নখ কাটার জন্য চাকু, ছুরি বা অন্য কিছু ধারাল জিনিস ব্যবহার করত, অল্প আলোয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে নখ কাটলে হাত কেটে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, আর এইজন্যই উপদেশ দেয়া হতো যে সূর্যাস্তের পর যাতে কেউ নখ না কাটে।

ঘর এবং দোকানপাটের সামনে লেবু লঙ্কা ঝোলানো ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ঘর এবং দোকানপাটের সামনে লেবু লঙ্কা ঝোলানো, ভারতে সবচেয়ে বেশি মেনে চলা একটি প্রথা। মনে করা হয় এতে কালো জাদু, টোটকা এবং কুনজরের  প্রভাব কমে যায়, সমস্ত নেগেটিভ এনার্জি লেবু লঙ্কা টেনে নেয় এবং এটি শুকিয়ে গেলে তা রাস্তায় ফেলে দিতে হয়। কিন্তু একবার ভেবে দেখুন গাড়ি, ঘর বা দোকানের সামনে লেবু লঙ্কা ঝোলালে সত্যি কি আপনার উপর পড়া কুপ্রভাব নষ্ট হয়ে যাবে? হয়তো হয় না, কারণ যদি এই রকমটি হতো তাহলে লেবু লঙ্কা ঝোলানো অবস্থাতে দুর্ঘটনা হত না বা ব্যবসায় লোকসান হত না। তবে পুরনো সময়কার এই প্রথা আপনাকে মানুষের কুদৃষ্টি থেকে না রক্ষা করতে পারলেও আপনাকে কীটপতঙ্গের কুপ্রভাব থেকে অবশ্যই বাঁচাবে। লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড এবং লঙ্কাতে থাকে ক্যাপসেসিন, এই দুটি অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং আন্টি ইনসেক্ট হয়ে থাকে, যা পিঁপড়ে, মশা এবং কীটপতঙ্গকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। আর এই কথাটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। লেবু এবং লঙ্কার মধ্যে যে তথ্যটি থাকে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে এতে লাগানো সুতো। কটনের তৈরি এই সুতো লেবু লঙ্কার মধ্যে থাকা তথ্যটি কে আপনার দরজার বাইরে সর্বদা ছড়াতে থাকে। আর এটাই প্রধান কারণ আগেকার সময় মানুষেরা লেবু লঙ্কা ঝোলানোর জন্য মোটা সুতোর ব্যবহার করত।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

তো বন্ধুরা এই ছিল পুরনো সময়কার কিছু প্রথা যা আজও মানুষ ফলো করে চলেছে। আমাদের পূর্বপুরুষ এই প্রথা গুলিকে শুধু আমাদের ভয় পাওয়াবার জন্য বানায়নি, বরণ পুরনো সময় অর্থাৎ তাদের সময় এই প্রথাগুলি ছিল খুবই লজিক্যাল এবং বিজ্ঞানসম্মত। কিন্তু এইসব প্রথা গুলির সাথে শুভ অশুভ বা খারাপ ভালো এই ব্যাপার গুলিকে কারা জুড়ে দিয়েছিল তা কেউ জানে না। এরকম সারা বিশ্বে অনেক প্রথাই রয়েছে যা শুধু ভয়ের কারণে আমরা মেনে চলেছি আজো। আমাকে কমেন্ট করে জানান আপনি এগুলির মধ্যে কোন কোন প্রথাটিকে আজও মেনে চলেছেন। আশা করি ভিডিওটি আপনার জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। যদি ভিডিওটি ভাল লাগে ভিডিওটিকে লাইক ও শেয়ার করুন এবং অন্য মানুষের জানার সুযোগ করে দিন, আর এইরকমই অদ্ভুত অজানা ও রহস্যময় ভিডিও দেখার জন্য আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশের বেল আইকনটিতে ক্লিক করে রাখুন। দেখা হবে পরের ভিডিওতে ভালো থাকবেন, ধন্যবাদ।

সুমন্ত …………

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here