ভিলেজ অব ডেড ।। হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া গ্রামের রহস্য

1
523

গায়েব হওয়া একটি গ্রাম ’ভিলেজ অব ডেড’। কি অবাক হচ্ছেন? তাহলে বলে রাখি অবাক হওয়ার কছু নেই এইটি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা। আজ আমি যে বিষয়ের আলোচনা করব তা পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৩০ সালের কাছাকাছি সময়। কানাডার একটি প্রত্যান্ত অণ্ঞ্চলে অর্থাৎ একটি পাহাড়ী গ্রামে। যেখানে বসবাস করতেন প্রায় দুই হাজার উপজাতী। এই গ্রামটির নাম হল ’ভিলেজ অব ডেড’। একটি বিস্ময়কর ঘটনার জন্য এই গ্রামটি সারা বিশ্বে ইতিহাসে আজো একটি রহস্যজনক গ্রাম হয়ে আছে। যে রহস্যের উধঘাটিৎ সম্ভব হয়নি আজও।

Hooper Bay Eskimo Homes
Photo Credit – old-picture.com

ভিলেজ অব ডেড গ্রামটি উত্তর পশ্চিম কানাডার আজকূনি হ্রদের পাশে অবস্হিত।
গ্রামটি প্রায় সারা বছরই বরফের ঢাকা থাকতো । গ্রামের জনসংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার। গ্রামটির লোকজনের উপার্জনের মাধ্যম ছিল পশু পালন এবং পশুর পশম বিক্রী। পশু এবং পশুর লোম ক্রয়ের জন্য প্রচুর ব্যবসায়ী যাতায়াত করত এই গ্রামটিতে। হঠাৎ একদিন গ্রামের লোকজন হারিয়ে যায়। আর এই বিস্ময়কর ঘটনার পরই গ্রামটি সারা বিশ্বে পরিচিতি লাভ করে। আর আজও কেউই এই রহস্যের সমাধান করতে পারেনি।

১৯৩০ সালে এই ঘটনার পরই সবার নজরে চলে আসে গ্রামটি। সে বছর একজন সাংবাদিক ম্যানিটোবার নিকটবর্তী আজনিকুনি হ্রদের পাশেই একটি গ্রামের কথা প্রকাশ করেন।এই গ্রামটি পশুর লোম উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ছিল।
পশম কেনার জন্য সেখানে ব্যবসায়ীদের ভালো যাতায়াত ছিল। ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী জো লাবেল নামের একজন পশম ব্যবসায়ী। লাবেলের ভাষ্য মতে, তিনি একদিন পশম সংগ্রহের উদ্দেশে গ্রামে যান। আর গ্রামের ভেতর  গিয়ে দেখেন সেখানে একটি মানুষও নেই। গ্রামের সব মানুষ কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, তারা যে শার্টগুলো বুনছিল সেগুলো অসমাপ্ত অবস্থায় পড়েছিল। খাবারগুলো তখনো চুলোতে গরম হচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছে একটু আগেও এখানে অনেক মানুষের উপস্থিতি ছিল। সব দেখে মনে হলো গ্রামের সবাই আকস্মিকভাবে গ্রাম ত্যাগ করেছে। একটির পর একটি বাড়ি ঘুরেও কোনো মানুষের দেখা পাওয়া গেল না। এর মধ্যেই সাতটি কুকুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। এ ছাড়া গ্রামের একমাত্র কবরস্থানের সবগুলো কবর পাওয়া গেল খোদিত অবস্থায়! কিন্তু কবরস্থানের ভেতরে কোনো লাশের দেখা মিলল না। ভেতরের সবগুলো লাশ কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে। এটা কোনো প্রাণীর কাজ নয়, কারণ কবরের সঙ্গে যে পাথরের ফলক ছিল সেগুলো যথাস্থানেই ছিল।

মানুষ উধাও হয়ে যাওয়া একটি গ্রাম
Photo Credit – Jugantor

উৎকট এই দৃশ্য দেখার পর ভড়কে যান লাবেল। তিনি দ্রুত দ্য রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে খবর দেন। মেজর থিওডোর লিস্টোর্টের নেতৃত্বে দ্য রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ পুরো গ্রাম ও আশপাশের এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজল। কোনো গ্রামবাসীকে পাওয়া গেল না। তবে পুলিশ আরও ভয়াবহ কিছুর সন্ধান পেল। লেখক জর্জ সাভারভিও, যিনি এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ১৯৩১ সালের জানুয়ারিতে নর্থওয়েস্ট জার্নালে এ সংক্রান্ত ৫ পর্বের একটি নিবন্ধ লিখেন। তার ভাষ্য মতে পুলিশ দেখল, ওই গ্রামের এস্কিমোদের পূর্বপুরুষদের সবগুলো কবর খোদিত অবস্থায় আছে আর সেগুলোর ভেতর থেকে লাশগুলো গায়েব! যে বা যেটি গ্রামবাসীদের নিয়ে গেল সে কি একই সঙ্গে কবরগুলোর ভেতরে থাকা লাশগুলোও নিয়ে গেছে? কিন্তু কবরের ওপরের মাটি বরফ জমে এতটাই শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে এগুলো খনন করা যে কারও জন্যই বেশ দুঃসাধ্য কাজ। শুধু এই গ্রামের এস্কিমোদের সবচেয়ে প্রাচীন গোত্রপ্রধানের কবর অক্ষত ছিল। আজও কেউই এই অদ্ভুত ঘটনাটির কোনও সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। এই রহস্য আজও এক রহস্যই হয়ে রয়ে গেছে। আপনার কি মনে হয়? কি ভাবে তারা গায়েব হয়ে গেল? আপনার এই বিষয়ে কি মতামত তা নিচের কমেন্টবক্সে জানান।

ধন্যবাদ…।

সুমন্ত

rohoshyosondhane

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here