পৃথিবীর সবথেকে বড় ১০ টি জাহাজ ! যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না

1
287

বিশ্বজুড়ে এত বড় বড় জাহাজ আছে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ক্রুজ শিপ, এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এই শিপ গুলির সাথে মানুষ সর্বদাই বড় বড় বিল্ডিং গুলির তুলনা করে থাকে। যেমন এম্পায়ার বিল্ডিং, দি সি এইচ টাওয়ার, দি বুর্জ খলিফা এবং প্যারিলিস টাওয়ার। কিন্তু অনেক মানুষ জানে টাইটানিক পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ। তবে বর্তমানে মানুষ টাইটানিকের সাথে আরও বড় বড় জাহাজে গুলির তুলনা এখন করে থাকে। তো বন্ধুরা আজ আমি আপনাদের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ১০ টি জাহাজ এর সম্পর্কে জানাবো। তো চলুন শুরু করা যাক।

আর এম এস কুইন মেরি টু || RMS QUEEN MARY 2 ঃ-

RMS QUEEN MARY 2
rohoshyosondhane

আর এম এস কুইন মেরি টু পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক যাত্রীবাহী জাহাজ। এটা তৈরি করা হয়েছিল কুইন এলিজাবেথ টু এর পরিবর্তে আটলান্টিক মহাসাগরের চলাচলের জন্য। কুইন মেরি 2 অন্যান্য জাহাজের মত কোন বাষ্প চালিত জাহাজ নয়। এটিতে চারটি ডিজেল চালিত ইঞ্জিন থাকার কারণে, এটি অন্যান্য জাহাজের তুলনায় বেশি দ্রুত বেগে চলতে পারে। এর গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ মাইল। এর মধ্যে আছে ১৫ টি রেস্টুরেন্ট, ৫ টি সুইমিং পুল, ২ টি থিয়েটার, একটি ক্যাসিনো, একটি বল রুম। আর এটি পৃথিবীর প্রথম প্লানেটারিয়াম জাহাজ। আকৃতির বিশালতা আর সুনিপন নির্মাণশৈলীর জন্য কুইন মেরি 2 একটি অনবদ্য নাম। এর ভেতরে রয়েছে ২০৩৪ ফুট পায়চারি করার জায়গা।

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার || RUSSIAN NUCLEAR ICE BREAKER ঃ-

RUSSIAN NUCLEAR ICE BREAKER
rohoshyosondhane

নিউক্লিয়ার আইস বেকার জাহাজটি পারমাণবিক শক্তিতে চলে। এটি উত্তর মহাসাগরে চলে যার জল সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা। রাশিয়াই একমাত্র দেশ যেটি পারমাণবিক শক্তিতে চলা জাহাজ নির্মাণ করেছে। ডিজেল ইঞ্জিন চলা জাহাজের থেকে পারমাণবিক শক্তি চলা জাহাজ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে। আইস বেকার জাহাজগুলি তৈরি করতে এবং রক্ষণাবেক্ষণ করতে, অন্যান্য জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়ে থাকে। শীতকালে উত্তর মহাসাগরের জলেতে বরফের পুরুত্ব থাকে প্রায় ৭ ফুট এবং সাগরের উত্তর মেরুতে বরফের পুরুত্ব থাকে প্রায় ৮ ফুট। এই আইস বেকার জাহাজ, এমনই পুরু বরফ ভেঙে চলাচল করে এবং এর গতিবেগ থাকে ঘন্টায় ১২ কিলোমিটার।

টি আই ক্লাস সুপার ট্যাংকারস || TI CLASS SUPER TANKERS ঃ-

TI CLASS SUPER TANKERS
rohoshyosondhane

পৃথিবীর সব থেকে বড় তেলবাহী ট্যাংকার গুলি অপারেট করছে টি আই সুপার ট্যাংকার। এটি ২০০২ সালে নির্মাণ করা হয়। টি আই এর পুরো কথা হচ্ছে ট্যাংকার ইন্টারন্যাশনাল। তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্যাটাগরির নাম ইউ এল সি সি, আল্ট্রা লজ কার ক্যারিসের মধ্যে এই ট্যাংকার গুলি পৃথিবীর সব থেকে বড়। এগুলির মূল্য ১২০ মিলিয়ন ডলার। এই ট্যাংকার গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি ২০০২ সালে সাউথ কোরিয়ার ডিভোসি বিল্ডিং এর মেরিট ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানি দ্বারা নির্মাণ করা হয়। এই জাহাজ গুলি ছিল প্রায় ১২০০ ফুট লম্বা। ২০০৪ সালে ওভারসিজ শিপবিল্ডিং গ্রুপ এই চারটির মধ্যে দুটি জাহাজকে কিনে নেয় এবং এদের নাম দেয় টি আই ওশেনিয়া এবং টি আই আফ্রিকা।

মার্স্ক ট্রিপল ই ক্লাস || MAERSK TRIPLE E CLASS ঃ-

MAERSK TRIPLE E CLASS
rohoshyosondhane

যারা কোন পোর্ট-এর আশেপাশে থাকে বা ভ্রমণে যায় তাদের কাছে মার্স্ক কন্টেইনার শিপ একটি পরিচিত নাম। ট্রিপল ই ক্লাস ২০১১ সালে ওই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কন্টেইনার শিপ ছিল। ট্রিপল এই তিনটি কারণে ট্রিপল ই ক্লাসের মধ্যে ছিল, ইকনোমি অফ স্কেল, এনেরজি এফিশিয়েন্স,অ্যান্ড এনভারমেন্টালি ইনপ্রুফ। যখন আপনি কোন বিশাল কন্টেইনার শিপ দেখবেন তখন আপনি তার মধ্যে প্রচুর সংখ্যক কন্টেনার দেখতে পাবেন। ই ক্লাস কন্টেনার শিপে প্রস্তুত দিক থেকে ছিল ২৩ সারির কন্টেইনার এবং উচ্চতার দিক থেকে কন্টেনার ছিল ১০ সারি। এটিতে টোটাল ১৮ হাজার কনটেইনার রাখা যেত। যখন একটি সাগরে চলত তখন এটির গতি থাকত ২৫.৫ নট। এটিতে ছিল দুটি ডিজেল ইঞ্জিন যার এক একটি ওজন ২৩০০ টন।

সি এস সি এল গ্লোব || CSCL GLOBE ঃ-

CSCL GLOBE
rohoshyosondhane

এই জাহাজ টি নির্মাণ করা হয় ২০১৪ সালে, যা ছিল ওই সময়ের সবথেকে বড় জাহাজ। সাউথ কোরিয়ার উলশানে হাণ্ডি হেবি শিপ ইয়ার্ড কোম্পানি দ্বারা নির্মিত সবথেকে বড় জাহাজ এটি। এটি ১২০০ ফুট লম্বা, ২০০ ফুট চওড়া এবং ১০০০ ফুট গভীর। এটি সাইজে চারটি ফুটবল মাঠের সমান যা ১৯১০০ টি কন্টেইনার বহন করতে পারত। এটির ছিল সবথেকে বড় ইঞ্জিন যা ৬৯৭২০ কিলোওয়ার্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারত।

দ্য ওয়াসিস অফ দ্য সী || THE OASIS OF THE SEA ঃ-

THE OASIS OF THE SEA
rohoshyosondhane

এই বিশাল জাহাজটি রয়েল ক্যারিবিয়ান ফিটের একটি অংশ। এটি বড় বড় সামুদ্রিক জাহাজ গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। এটি ছিল ১২০০ ফুট লম্বা ২১৫ ফুট চওড়া এবং এটির ওজন ছিল ২ লক্ষ ২৫ হাজার টন। এই জাহাজের ২৭৪২ টি ক্যাবিনে প্রায় ৭০০ গেস্ট থাকতে পারতো এবং এর নাবিক সংখ্যা ছিল মোট ২১০০ জন। এটির মধ্যে ছিল একটি সেন্ট্রাল পার্ক, ১০ টি সুইমিং পুল, একটি থিয়েটার পুল ছিল যার গভীরতা ছিল ১৮ ফুট। এছারাও ছিল একটি বাস্কেটবল মাঠ, একটি ফিটনেসসেন্টার এবং একটি মুভি থিয়েটার, যদি আপনি বোরিং ফিল করেন তবে আপনি এর ভেতরে সারফিংও করতে পারবেন। এর মধ্যে ছিল ২০ জন সেফ বিশিষ্ট ২০ টি রেস্টুরেন্ট এবং ২২২ জন কুক, আরো ছিল ১১ টি ক্লাব এবং বার ও ৭টি খুচরো দোকান।

এম ভি ব্লু মারলিন || MV BLUE MARLIN ঃ-

MV BLUE MARLIN
rohoshyosondhane

ভাবুন তো একটি জাহাজ আরো কয়েকটি জাহাজকে নিয়ে যাচ্ছে তাহলে দৃশ্যটি কেমন হবে। এই জাহাজটি সাধারণত নষ্ট হয়ে যাওয়া যুদ্ধজাহাজ বহন করে থাকে। এটি হচ্ছে এইচ এল সি বা হেভি লোড কেরিয়ার। এটি ২০০০ সালে ডাচ কোম্পানি ডক ওয়াস তৈরি করেছিল। এই জাহাজে ডিজাইন করা হয়েছিল আধা ডোবা জাহাজ বহন করার জন্য। যেগুলি কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে বা তার পাটাতনের ছিদ্র দিয়ে জল প্রবেশ করে। যখন জাহাজটি খালি করা হয় তখন এটি পুনরায় ভেসে ওঠে। এটি লম্বায় ১৩০০ ফুট এবং ওজন ৫৬০০০ মেট্রিক টন। এই জাহাজের নাবিক সংখ্যা ৬০ জন এবং কেবিন সংখ্যা ৩৮ টি।

সী ওয়াইস জায়েন্ট || SEAWISE GIANT ঃ-

SEAWISE GIANT
rohoshyosondhane

সী ওয়াইস জায়েন্ট ১৯৭৯ সালে জাপানে তৈরি করা হয়। এটি ছিল পৃথিবীর সবথেকে লম্বা জাহাজ। এটি বিশ্বের অনেক উচু বিল্ডিং যেমন নিউ ইয়র্কের এম্পায়ার বিল্ডিং এবং কুয়ালালামপুরের পেট্রনিস বিল্ডিং এর থেকেও লম্বা। এটি লম্বায় ১৫০০ ফুট, বৈশিষ্ট্যের কারণে এটিকে ৫টি আলাদা আলাদা নামে ডাকা হয়। সী ওয়াইস জয়েন্ট, হ্যাপি জয়েন্ট, ঝাড়ে ভাইকিং, নক নেভিস্ট ও মন্ট। এটি জাপানের সুমী ডেমো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কোম্পানির কারখানায় তৈরি করা হয়।

প্লানেট সোলার || PLANET SOLAR ঃ-

PLANET SOLAR
rohoshyosondhane

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকারের একদম বিপরীত জাহাজ হচ্ছে এই প্লানেট সোলার। এটি হল পৃথিবীর সবথেকে বড় সৌরশক্তি দ্বারা চালিত জাহাজ। এটি ২০১০ সালের মার্চে চলাচল শুরু করে। এই জাহাজটি দেখতেও খুব সুন্দর। এই ১০০ টনের জাহাজটি চলাচলের জন্য ৫৫০০ বর্গফুট সোলার সিস্টেম প্যানেল লাগানো হয়েছে, যা প্রায় ৯ টন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চার্জ করে। এই জাহাজের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং পরিবেশ দূষণ মুক্ত রাখার দিক থেকে সচেতন করা।

কিউ ম্যাক্স শিপ || Q-MAX SHIP ঃ-

Q-MAX SHIP
rohoshyosondhane

বিশাল আকার কিউ ম্যাক্স শিপ ছিল, একটি ট্যান শিপ, যাকে বলা হত এল এন জি যার পূর্ণ রুপ লিকোফাই ন্যাচারাপ গ্যাস। কিউ ম্যাক্স জাহাজটি ২০০৯ সালে সাউথ কোরিয়ার স্যামসাং হেভি ইন্ডাস্ট্রিস কোম্পানি তৈরি করেছিল। ওই সময় একসাথে ১৪ টি জাহাজ নির্মাণ করা হয়। কিউ এর পূর্ণ রুপ হচ্ছে কাতার এবং ম্যাক্সের পূর্ণ রুপ হচ্ছে ম্যাক্সিমাম সাইজ অফ শিপ। এটি ধারণ ক্ষমতা ছিল ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ঘনফুট গ্যাস। ২০০৯ সালে এটির প্রথম গন্তব্য ছিল সুয়েজ খাল পথে স্পেনের বিলবাও।

তো বন্ধুরা কেমন লাগলো এই বিশাল জাহাজ গুলির ব্যাপারে জেনে ।

ধন্যবাদ …………।

সুমন্ত ………।

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here