মাছ ধরতে গিয়ে কোটিপতি হয়ে যাওয়া সৌভাগ্যবান 5 জন জেলে

0
81

প্রিয় দর্শক জেলেরা অনেক পরিশ্রম করে এটা আমরা সকলেই জানি, অনেক খারাপ আবহাওয়াতেও নিজের জীবন বাজি রেখে শুধুমাত্র নিজের পরিবারের পেট ভরানোর জন্য তারা পাড়ি দেয় গভীর সমুদ্রে। অনেক সময় এই সমুদ্রেই মৃত্যুবরণ করতে হয় তাদের আবার অনেকের এই সমুদ্রেই ভাগ্য পরিবর্তন হয়ে যায়। আজ এই ভিডিওতে আমি এমন কিছু জেলেদের সম্পর্কে বলবো, যাদের জালে মাছের পরিবর্তে এমন কিছু আটকে গিয়েছিল যা তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছিল। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক সেই সব ভাগ্যবান জেলেদের ব্যাপারে যারা এমন কিছু খুঁজে পেয়েছিল যা তাদের পরবর্তীতে কোটিপতি করে দিয়েছিল। তবে ভিডিওটি শুরু করার আগে আপনাদের একটি তথ্য দিতে চাই। আমাদের পৃথিবীর সমুদ্রের জলরাশি নিচে আনুমানিক ৬০০ আরব ডলারের গুপ্তধন লুকিয়ে রয়েছে, আর এই গুপ্তধন গুলির বেশীর ভাগটাই আজ জলের তলাতেই রয়ে গিয়েছে। এই সমস্ত গুপ্তধন, প্রাচীনকালে সামুদ্রিক জাহাজ ডুবে যাওয়ার কারণেই জলের তলায় হারিয়ে গিয়েছিল যেগুলির খোঁজ আজও কেউ করতে পারিনি। তবে এদের মধ্যে কিছু গুপ্তধন, মাঝে মাঝে সমুদ্রের তলায় খুঁজে পায় জেলেরা, যা দিয়ে তারা হয়ে যায় কোটিপতি। চলুন আর কথা না বাড়িয়ে আমরা চলে যাই ভিডিওর মুল টপিকে।

নাম্বার ৫ তিমি মাছের বমি ঃ-

whale vomit
rohoshyosondhane

ওমানের কিছু জেলের ভাগ্য এক সময় হঠাৎই পরিবর্তন হয়ে যায় যখন তারা সমুদ্র থেকে খুঁজে পায় ৪০ কেজি ওজনের তিমি মাছের বমি। আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে তিমি মাছের বমি অনেক মূল্যবান হয়ে থাকে। এই ৪০ কেজি বমির মূল্য ছিল আনুমানিক ২.৫ মিলিয়ন ডলার। তিমি মাছের বমি থেকে পাওয়া মোম অনেক মূল্যবান, এছাড়া বিশ্বের সব বড় বড় পারফিউম কোম্পানি গুলি তিমি মাছের বমি ব্যবহার করে। তিমি মাছের বমিতে কিছু পরিবর্তন করার পর, সেটা থেকে আর দুর্গন্ধ নয় বরং সুগন্ধ বের হতে থাকে। জেলেরা জানায় তারা দুর থেকে আজব এবং অদ্ভুত ধরনের একটি গন্ধ পাচ্ছিল তারপর তারা ওই জায়গায় যায় এবং সেখানে তারা এই অদ্ভুত জিনিসটি খুঁজে পায়। পরে তারা জানতে পারে এটি তিমি মাছের বমি। আর সাথে সাথে এই জেলেদের জীবনও পাল্টে যায়।

নাম্বার ৪ ফিলিপাইনের জেলে ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ফিলিপাইনের এক জেলে প্রতিদিনের মতোই সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়েছিল কিন্তু তার বর্সির কাটা এমন একটি জিনিসে আটকে যায় যেটাকে সে উপরে তুলে আনতে পারছিল না তখন সে বুঝতে পারে তার বর্সির কাটা অনেক ভারী কোনো জিনিসে আটকে গিয়েছে আর তাই ওই জেলেকে জলের নিচে যেতে বাধ্য হয় নামতে হয় যাতে সে কাটাটিকে ছাড়িয়ে আনতে পারে। জলের নিচে সে দেখতে পায় বর্সির কাটাটি একটি বড় পাথরের সাথে আটকে গিয়েছে। সে ওই পাথরটিকে বাড়িতে নিয়ে আসে। পাথরটি অনেক বড় এবং ভারী ছিল, আসলে এটা ছিল একটি মূর্তি, যেটি ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া এবং ৬৭ মিটার লম্বা ছিল আর তার ওজন ছিল ৩৫ কিলোগ্রাম। ওই জেলে তখনও বুঝতে পারিনি যে সে এখনো পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সাদা সামুদ্রিক পাথরের সবথেকে বড় মূর্তি উদ্ধার করেছে। সে সেটা বিক্রি করে না প্রায় ১০ বছর ধরে তার কাছেই রেখে দিয়েছিল কিন্তু ১০ বছর পর যখন সে ওই পাথরটি তার এক আত্মীয়কে দেখায়, তখন সে বুঝতে পারে এটি খুবই মূল্যবান। সে পরবর্তীতে এই পাথরটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে দেয়, আর তখন জানতে পারা যায় এটা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সাদা সামুদ্রিক পাথরের সবথেকে বড় মূর্তি এবং এটির মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার। এই পথটি খুঁজে পাওয়ার প্রায় দশ বছর পর, সেই জেলে এবং তার পরিবারের জীবন পাল্টে যায়।

নাম্বার ৩ নেদারল্যান্ডের জেলে ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

একটি জরিপ অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩০ লাখ সামুদ্রিক জাহাজ সমুদ্রে ডুবে গেছে আর তাদের মধ্যে অনেক জাহাজ ছিল ব্যবসায়ীদের যাদের মধ্যে ছিল সোনা বা সোনার তৈরি জিনিস। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশদের অনেক সোনা ভর্তি জাহাজ জলে  ডুবে যায়। সমুদ্রের তলা থেকে এইরকম মূল্যবান সোনা অনেকেই উদ্ধার করেছে কিন্তু যা উদ্ধার করা হয়েছে তার থেকে অনেক বেশি জলের তলাতেই রয়ে গিয়েছে। একদিন ঠিক এই ভাবেই নেদারল্যান্ডের দুজন জেলের জীবন পাল্টে যায়, যখন তাদের জালে মাছের পরিবর্তে একটি ভারী জিনিস আটকে যায়। জিনিসটা ছিল দুটি স্বর্ণের ইট। তারা তখনও বুঝতে পারিনি তারা যে জিনিসটি জল থেকে তুলতে চলেছে সেটি তাদের জীবন বদলে দিতে চলেছে। এই দুটি স্বর্ণের ইটের আনুমানিক ওজন ছিল সাড়ে ১২ কেজি, আর এর মূল্য ছিলো ১ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তারা এখন আর জেলে নেই তারা অনেক বড় ব্যবসায়ী হয়ে গিয়েছে।

নাম্বার ২ চুম্বক দিয়ে মাছ ধরা ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

এটি একটি নতুন ট্রেন্ড, এতে আপনি শুধু নদীতে মাছ খুঁজবেন না অন্য সব জিনিস খুঁজে বার করবেন আর এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে এখনো পর্যন্ত অনেক মানুষ অনেক কিছু খুঁজে বার করেছে। যেমন বন্দুক, কামানের গুলি এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বিমানও এক ব্যক্তি খুঁজে বার করেছে। কিন্তু একজন ব্যক্তি এমন কিছু জিনিস খুঁজে বার করেছে যা তার ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে। ১৫ বছর বয়সী এই ছেলেটি একটি মেটালের তৈরি বক্স খুঁজে পান। যাতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় র অনেক মূল্যবান জিনিস ছিল। তবে সেই গুপ্তধন সে দেশের সরকার তাদের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে। তবে তার বিনিময় এই ছেলেটিকে অনেক মূল্যবান পুরষ্কার দেয়া হয়েছে।

নাম্বার ১ স্ট্যাচু ঃ-

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

ফিলিস্তিনের এক জেলে তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে মাছ ধরতে বের হয়েছিল, তখন সে জলের তলায় কিছু একটা দেখতে পায়। সে সাঁতার কেটে যখন সেই জায়গায় পৌছায় তখন সে বুঝতে পারে যে এটি একটি স্ট্যাচু। পরবর্তীতে সে সেই মূর্তিটিকে জল থেকে বার করে নিয়ে আসে। রিসার্চ করে জানতে পারা যায় এটি কোন সাধারণ স্ট্যাচু নয়। এটি ৩ হাজার বছরের পুরনো একটি ব্রোঞ্জের স্ট্যাচু। প্রথমে এটির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ডলার কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায় এটির মূল্য এর থেকে অনেক বেশি। তবে সেই দেশের পুলিশ ওই স্ট্যাচুটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়। বর্তমানে স্ট্যাচুটিকে আরকিওলজিস্টদের রিসার্চ করার জন্য দেয়া হয়েছে। এটির মূল্য অনুযায়ী এটি যে ব্যক্তি খুঁজে বার করেছে তাকেও অনেক মূল্যবান পুরস্কার দেয়া হবে।

প্রিয় দর্শক এই ভিডিওটি আপনাদের কেমন লাগলো তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানান।

ধন্যবাদ

সুমন্ত ……

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here