নাসার চন্দ্র অভিযান আসলেই কি একটি সাজানো ঘটনা ছিল এবার সব রহস্য ফাঁস

0
87

২১ জুলাই ১৯৬৯ মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন ছিল। এই দিন মানুষ প্রথম পা রেখেছিল চাঁদের মাটিতে, নীল আর্মস্ট্রং এবং বাজ আল্ড্রিন এই দুইজন ব্যক্তি চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন এবং তাদের সাথে আরো একজন অ্যাস্ট্রোনট ছিলেন মাইকেল কলিন্স, যিনি অ্যাপোলো ইলেভেনের অরবিটারে বসেছিলেন এবং চাঁদকে প্রদক্ষিণ করছিলেন।

neil-armstrong-michael-collins-and-edwin-aldrin
rohoshyosondhane

এই পেস মিশন নাসা দ্বারা আয়োজন করা হয়েছিল, আর এই মিশনে ভুল করার কোন জায়গা ছিল না। নাসার এই মুন মিশন পুরোপুরি সফল হয়েছিল। অ্যাপোলো ১১ নাম থেকেই বোঝা যায় যে এটি ১১ নম্বর অ্যাপোলো মিশন ছিল যাটি সফল হয়েছিল। এই মিশনটির লাইভ টেলিকাস্ট করা হয়েছিল আর কোটি কোটি মানুষ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল। কিন্তু কেমন হবে যদি আপনি জানতে পারেন যে আসলেই এমন কিছু কখনোই ঘটেনি। মানে সংযুক্ত রাষ্ট্র আমেরিকা আসলেই নকল মুন ল্যান্ডিং করেছিল। তাহলে কি সত্যি অ্যাপেলো ১১ একটি মিথ্যে গল্প ছিল এবং আমেরিকার সরকার আর নাসা দুজনে মিলে পৃথিবীর পৃথিবীবাসীকে বোকা বানিয়েছিল। তো চলুন জেনে নেয়া যাক এর পেছনের আসল গল্প। তো যে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে চলুন জেনে নেয়া যাক অ্যাপেলো ইলেভেনের অফিশিয়াল তথ্য।

Apollo 11
rohoshyosondhane

অ্যাপেলো ১১, নাসার অ্যাপেলো প্রোগ্রামের ১১ নম্বর পেস মিশন ছিল এবং ৫ নম্বর মানড মিশন ছিল। অ্যাপেল ১১ কে ১৬ জুলাই ১৯৬৯ সালে স্যাটার্ন ভি রকেট দ্বারা ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে লঞ্চ করা হয়েছিল আর ২০ জুলাই 1969 সালে অ্যাপেলো ইলেভেনের লুনার মডিউল চন্দ্রপৃষ্ঠে সি অফ ট্রানকুলিটি নামক জায়গায় অবতরণ করেছিল। অ্যাপেলো পেসক্রাফট মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত ছিল প্রথম কামান্ড মডিউল যেখানে একটি কাবিন ছিল তিনজন অ্যাস্ট্রোনটের জন্য ,দ্বিতীয় সার্ভিস মডিউল যেখানে ইলেকট্রিক পাওয়ার, অক্সিজেন এবং জল স্টোর করা ছিল আর তৃতীয় হলো লুনার মডিউল যা চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করার জন্য বানানো হয়েছিল। ২০ জুলাই ১৯৬৯ সালে রাত ৮ বেজে ১৭ মিনিটে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণ করার পর, অ্যাস্ট্রোনট নীল আমস্ট্রং প্রায় ৬ ঘন্টা পর অর্থাৎ ২১ জুলাই সকাল ২ টো বেজে ৫৬ মিনিটে চাঁদের মাটিতে প্রথম পা রাখেন।

Apollo 11
rohoshyosondhane

নীল আমস্ট্রং চাঁদে মাটিতে অবতরণ করার ২০ মিনিট পর বাজ আল্ড্রিন চাঁদের মাটিতে পা রাখেন। নীল আমস্ট্রং এবং বাজ আল্ড্রিন ২১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় কাটিয়ে ছিল চন্দ্রপৃষ্ঠে, এরপর ২৪ শে জুলাই ১৯৬৯ সালে তারা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। এরপরে নাসা আরো ৬টি অ্যাপেলো মিশন করেছিল। অ্যাপেলো ১১ এর পর কিছু মানুষ নতুন নতুন তথ্য প্রমাণ দিতে শুরু করে অ্যাপোলো ১১ মিশনটিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য। বিশেষ করে রাশিয়ানরা, একজন রাশিয়ান থিওরিস্ট ইউরি মুখইন তার সারা জীবন অতিবাহিত করে দিয়েছিলেন এই মিশনটিকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য। এবার প্রশ্ন ওঠে তাহলে কি নাসা কখনোই চাঁদে কোন মানুষ পাঠায়নি? এমনও কি হতে পারে যে চাঁদের যে ভিডিও ক্লিপ আমাদের দেখানো হয়েছে তা আসলে পৃথিবীতেই রেকর্ড করা হয়েছিল? আপনার কি মনে হয় এই ভিডিওটিকে এখানে পস করুন এবং নিচে কমেন্ট করে জানান আপনার কি মনে হয় মুন মিশন আসলেই হয়েছিল নাকি এটি সম্পূর্ণ ফেক ছিল। কিছু কন্সপিরেসি থিওরি বলছে অ্যাপোলো ১১ মিশনে চাঁদে যে ফ্লাগটি লাগানো হয়েছিল তা কিভাবে বাতাসে উড়ছে চাঁদে তো কোন বায়ুমণ্ডল নেই তাই এটা কখনোই সম্ভব নয়। আর সত্যিই এই কথাটি কিছুক্ষণের জন্য আপনাকে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করবে।

Apollo 11
rohoshyosondhane

কিন্তু এর পেছনে যে আসল সত্যটি লুকিয়ে রয়েছে তা হল এই পতাকার উপর দিকে একটি স্টিক লাগানো হয়েছিল যার কারণে এটিকে দেখে মনে হচ্ছিল ফ্লাগটি হয়ত বাতাসে উড়ছে। অ্যাস্ট্রোনটেরা এই ধরনের ফ্লাগ এইজন্য বানিয়েছিল যে তারাও জানতো চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকার কারণে পতাকাটি উড়তে দেখা যাবে না। এরপরের কন্সপিরেসি থিওরিতে আমাদের বলা হয়েছে অ্যাপেলো ১১ মিশনটি চলাকালীন চন্দ্রপৃষ্ঠের যে ভিডিও রেকর্ড করা হয়েছে সেখানে আকাশের রং পুরোপুরি কালো দেখাচ্ছে এবং আকাশে একটিও তারা দেখা যাচ্ছে না। তাই অনেক মানুষই বলেছেন ভিডিওটি হয়তো কাল ব্যাকগ্রাউন্ডের স্টুডিওতে রেকর্ড করা হয়েছিল তাই এখানে আকাশে কোন তারা দেখা যাচ্ছে না।

Apollo 11
rohoshyosondhane

কিন্তু নাসা এর হিসাবে ব্যাখ্যা বলেছে চাঁদের যে জায়গায় অ্যাপেল ১১ কে ল্যান্ড করানো হয়েছিল, তখন সেখানে দিনের বেলা ছিল অর্থাৎ আকাশে সূর্য ছিল আর চন্দ্রপৃষ্ঠ সূর্যের আলোকে অধিকমাত্রায় রিফ্লেক্ট করে আর এই কারনেই ক্যামেরার লেন্সের সাহায্যে আকাশে তারারকে কেপচার করা সম্ভব হয়নি। এরকমই অনেক কন্সপিরেসি থিওরি ছড়িয়ে আছে যা এই মিশনটিকে ফেক বলে তুলে ধরেছে তবে নাসার কাছে প্রত্যেকটি কন্সপিরেসি থিওরিই ব্যাখ্যা রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় কন্সপিরেসি থিওরি হল চন্দ্রপৃষ্ঠে জুতোর ছাপ।

Apollo 11
rohoshyosondhane

অনেকে বলছেন চাঁদের শুকনো মাটিতে জুতোর ছাপ কিভাবে পড়তে পারে কারন পৃথিবীতে এতটা গভীর ছাপ শুধুমাত্র ভিজে মাটিতেই পড়তে পারে, তবে এর ব্যাখা হিসাবে নাসার বৈজ্ঞানিকরা বলেন যে এমনটি এই জন্য হয়েছিল কারন চাঁদের মাটি আমাদের পৃথিবীর মাটির মতো নয়। এটা খুবই শুকনো এবং মিহি অনেকটা আগ্নেয়গিরি থেকে বেরিয়ে আসা ছাইয়ের মত আর এই কারণেই এই মাটিতে এত পরিষ্কার এবং এত গভীর পায়ের ছাপ পড়েছিল। কিন্তু আপনি কি জানেন যে নাসা চাইলেও ফেক মিশন করতে পারত কারণ এই সমস্ত কিছু শুরু হয়েছিল ১৯৫৭ সালে যখন সভিয়াত ইউনিয়ন পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথমবার নিজেদের আর্টিফিশিয়াল স্যাটেলাইট স্পুটনিক’ ওয়ানকে মহাকাশে লঞ্চ করে নাসার থেকে একধাপ এগিয়ে গিয়েছিল। এর কিছুকাল পরেই ১৯৬১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন আরো একটি বিস্ময়কর কাণ্ড করে বসে প্রথম মানুষ ইউরি গ্যাগারিনকে মহাকাশে পাঠিয়ে। এবারে আমেরিকাকেও বড় কিছু একটা করে দেখানোর দরকার ছিল যাতে সে পৃথিবীবাসী সামনে সোভিয়েত ইউনিয়নের থেকে এগিয়ে থাকে। আর আপনাকে একটি তথ্য জানিয়ে রাখি এই সময় আমেরিকা এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে কোল্ড ওয়ার চালু ছিল, তাই এই সময়ে ফেক মিশন করে আমেরিকা তার সম্মান মাটিতে মেশাতে পারত না। তাছাড়া অ্যাপেল  প্রোগ্রাম গুলি অনুষ্ঠিত করে আমেরিকার সরকার সারাবিশ্বে সম্মান অর্জন করেছিল। তাছাড়া এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যা অ্যাপোলো ১১ মিশনকে সত্য বলে প্রমাণত করে। প্রত্যেক অ্যাপেলো মিশনের সময় অ্যাস্ট্রোনটেরা চন্দ্রপৃষ্ঠে তাদের কিছু না কিছু জিনিস রেখে এসেছে। তেমনি অ্যাপেলো ১১ মিশনটি চলাকালীন নীল আমস্ট্রং এবং বাজ আল্ড্রিন তাদের নিয়ে যাওয়া কিছু জিনিস চন্দ্রপৃষ্ঠে ছেড়ে এসেছিল। এছাড়া তারা ওখানে রেকট্র রিফ্লেক্টর রেখে এসেছিল যার সাহায্যে আমরা পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব লেজারের মাধ্যমে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পেরেছি।

Apollo 11
rohoshyosondhane

প্রত্যেকটি অ্যাপেলো মিশনে চন্দ্রপৃষ্ঠে ইউএস এর একটি করে ফ্ল্যাগ লাগানো হয়েছিল যা আজও সেখানেই রয়েছে। নাসা বলছে অ্যাপোলো মিশন চলাকালীন মানুষ 1 লাখ 87 হাজার 400 কিলোগ্রাম ওজনের জিনিসপত্র চন্দ্রপৃষ্ঠে রেখে এসেছে আর নিজেদের সাথে প্রায় 380 কিলোগ্রাম মুন রক পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে। এরপর ২০০৯ সালে নাসা তাদের একটি রোবটিক পেসক্রাফট লুনার রিকুনাইজেন্স অরবাইটার অর্থাৎ এল আর ও চাঁদে পাঠায়, এর উদ্দেশ্য ছিল চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে আরো ভালোভাবে তথ্য সংগ্রহ করা, আর এটির সাহায্যে সমস্ত অ্যাপেলো ল্যান্ডিং সাইটগুলির ছবি তোলা হয়, যেখানে আজও ল্যান্ডার মডিউল এবং অ্যাস্ট্রোনটদের ছেড়ে আসা জিনিসপত্র গুলি পড়ে রয়েছে।

Apollo 11
rohoshyosondhane

২০১২ সালে এর ছবি প্রকাশ করা হয় যেখানে পরিষ্কার দেখতে পাওয়া যায় ৬ টির মধ্যে ৫ টি ল্যান্ডিং সাইটে আমেরিকান ফ্ল্যাগ আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধুমাত্র অ্যাপেল ১১ মিশনে লাগানো পতাকাটি সেখানে ছিল না, যা হয়ত নীল আমস্ট্রং এবং বাজ আল্ড্রিন ফিরে আসার সময় রকেটের এক্সজস্টের কারনে পুড়ে গিয়েছিল। তাছাড়াও ইন্ডিয়ার চন্দ্রযান ১-ও এই জায়গা গুলিকে কনফার্ম করেছে, এছাড়া জাপানের সেলেনা লুনার প্রভের পাঠানো চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি গুলি এই মুন ল্যান্ডিংকে সত্য বলে প্রমাণ করে। আর চীনের চেঙ্গি টু লুনার প্রভও অ্যাপেলো ল্যান্ডিং সাইটগুলোকে কনফার্ম করেছে। এবার আপনি হয়ত বুঝতে পারছেন যে এই অ্যাপোলো মিশন ছিল না । তবে এটা ঠিক যে আমরা সেই ল্যান্ডিং সাইটগুলোকে পৃথিবী থেকে কোন টেলিস্কোপের সাহায্যে দেখতে পাই না।

Apollo 11
rohoshyosondhane

আর নাতো হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সাহায্যে সেগুলিকে দেখতে পাওয়া যায় কারণ চন্দ্রপৃষ্ঠের রিফ্লেকশন আমাদের এটি করতে সাহায্য করে না। তবে তার মানে এই নয় যে অ্যাপেলো মুন মিশন ফেক ছিল। আপনার কি মতামত আপনি কি এখনো মনে করেন যে অ্যাপেলো মুন মিশন গুলি সম্পূর্ণ ফেক ছিল? নিচে কমেন্ট করে আমাকে জানান।

ধন্যবাদ ……

সুমন্ত  ………।।

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here