চাঁদে ঘটে যাওয়া ৫ টি রহস্যময় ঘটনা || রহস্যময় চাঁদ

1
1300

প্রাচীন কাল থেকেই চাঁদ নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত আছে কিন্তু মানুষ যখন মহাবিশ্বে বিচারন করা শুরু করল তারপর থেকে চাঁদকে নিয়ে অনেক রহস্যময় ঘটনা আমাদের সামনে উঠে এসেছে ,যার রহস্য আজও আমরা উন্মোচন করতে পারিনি। আজ আমরা আলোচনা করবো চাঁদের সেই সমস্ত রহস্যময় ঘটনা গুলির ব্যপারে যার সত্যতা আজও মানুষ উৎঘাটন করতে পারিনি।

চাঁদে দেখা গিয়েছিল UFO ঃ-

২৭ অক্টোবর ১৯৭২ সাল, অ্যাপেলও ১৬এর সদস্যরা চাঁদ থেকে পৃথিবীতে আসার সময় তাদের ক্যামেরায় এক রহস্যময় বস্তুকে রেকর্ড করে যেটি দেখতে হুবাহু UFO-র মত, আর এই রহস্যময় ভিডিও ফুটেজটি, সেই সময় নাসা এবং সমস্ত পৃথিবী বাসিকে হতবাক করে দেয়। পরবর্তী কয়েক বছর ধরে নাসা এই রহস্যময় ভিডিও ফুটেজটির বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে। ভিডিওটি দেখে মনে হয় উড়ন্ত গোলাকার কোনও বস্তু চাঁদের ঠিক পাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। ক্যামেরাটি চাঁদের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় দুই সেকেন্ড রেকর্ড করে আর পুনরায় যখন আগের জায়গায় ফিরে আসে তখনও সেই অদ্ভুত বস্তুটি একই জায়গায় অবস্থান করছিল। ইন্টারনেটে যখন এই ভিডিওটি ভাইরাল হয় তখন সবাই মনে করে এই ভিডিও চাঁদে আসা এলিয়ানের সবচেয়ে বড় প্রমান। নাসা এই রহস্যময় বস্তুটির ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য এই ভিডিও ফুটেজটি নিয়ে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা চালায় এবং অবশেষে এই ব্যাখ্যা দেন যে ভিডিওতে দেখা UFO-র মত অবজেক্টটি অ্যাপেলও ১৬এর ল্যান্ডারের ফ্লাড লাইট হতে পারে কিন্তু আসলেই এটা সত্যি কি ছিল তার ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি । এরপর থেকেই এই ভিডিও ফুটেজটি মহাকাশে এলিয়ান অস্ত্যিতের একটি বড় প্রমান হিসাবে ধরা হয়।

চাঁদে দেখা গেল বিশাল আকার এলিয়ানের ছায়া ঃ-

২০১৪ সালে নাসার তোলা কিছু ছবিতে ধরা পরে বিশাল আকৃতির একটি ছায়া, এলিয়ান আকৃতির এই ছায়াটি দেখে মনে হচ্ছিল যে কেউ যেন চাঁদের বুকে হেঁটে বেড়াচ্ছে। ছবিটি ইন্টারনেটে প্রকাশ পাওয়া মাত্র খুব তাড়াতাড়ি ভাইরাল হয়ে যায়, প্রায় এক সপ্তাহে ২০ লক্ষেরও বেশি মানুষ ভিডিও দেখে ফেলে। ভিডিওটিতে, গুগল মুনের একটি বিশেষ অংশে বিশাল আকৃতির একটি অবজেক্টের ছায়া দেখতে পাওয়া যায়, অবজেক্টটিকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনো এলিয়েন চাঁদের বুকে হেঁটে বেড়াচ্ছে। পরবর্তীতে পরীক্ষা করে জানা যায় এই বিশাল আকৃতির ছায়া কোন একটি বড় অবজেক্টের হতে পারে যেটি আকারে কমসেকম ১৫০ ফুট লম্বা। এই বিশাল আকার ছায়াটি কার বা কিসের হতে পারে তার সঠিক ব্যাখ্যা নাসা আজও দিতে পারেনি। পরবর্তীকালে নাসা জানায় যে সেই সময় ক্যামেরার এত উন্নত ছিল না যার ফলে এরকম ছায়া দেখাটা খুবই সাধারণ ব্যাপার । নাসার এই ব্যাখ্যাটি কতটা সঠিক আমরা জানিনা কিন্তু আজও এই ভিডিওটি মানুষকে হতভম্ব করে দেয়।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- বিশ্বের ৫টি ভয়ঙ্কর রোলার কোস্টার যা আপনাকে করবে মৃত্যুর সম্মুখীন

সিক্রেট মুন ব্যেস ঃ-

১৯৯৪ সালে নাসার ক্লামেন্টাইন পেস ক্রাফট চাঁদে উপস্থিত একটি রহস্যময় ত্রিভুজাকৃতি বস্তুর ছবি তোলে। ত্রিভুজটির দুই প্রান্তে অদ্ভুত রকমের সাতটি আলো দেখা যাচ্ছিল যা কোনভাবেই প্রাকৃতিক বলে মনে হচ্ছিল না। এই সাত আলোক যুক্ত অদ্ভুত বস্তুটি চাঁদের মাটিতে প্রায় ৫০০ মিটার জায়গা জুড়ে অবস্থান করছিল। ছবিটি অস্পষ্ট হবার জন্য নাসা এই ছবিটির সঠিক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারিনি তবে অনেক মানুষ মনে করেন এটি চাঁদে অবস্থিত কোন সিক্রেট মুন ব্যেস যা মানব জাতির কাছ থেকে লুকানো হচ্ছিল। পরবর্তীতে অনেকেই এই ছবিটির ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে তারমধ্যে একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো ১৯৫৯ সালে আমেরিকা চাঁদের বুকেতে একটি মিলেটারি ব্যেস বানানোর পরিকল্পনা করেছিল যাকে প্রজেক্ট হরাইজন নাম দেওয়া হয়েছিল,অনেক মনে করেন এইটি সেই সিক্রেট ব্যেস। কিন্তু সেই সাত লাইট এবং অদ্ভুত আকৃতির এই অবজেক্টের আসল সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি তাই আজও এই ভিডিওটি মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে একটি রহস্যই হয়ে রয়েছে।

চাঁদে হওয়া ইলেকট্রিক ডিসচার্জ ঃ-

চাঁদে UFO দেখা যাওয়ার ঘটনা ছাড়াও আরও এমন কিছু অদ্ভুত ঘটনা আছে যেগুলিকে অদেখা করা সম্ভব নয়। নাসার অ্যাপোলো মিশন চলাকালীন বেশ কিছু রহস্যময় ছবি আমাদের সামনে উঠে আসে, তাদের মধ্যে একটি রহস্যময় ছবি হল চাঁদের বিশাল এলাকাজুড়ে হওয়া ইলেকট্রিক ডিসচার্জ ছবি। ১৯৭২ সালে নেয়া চাঁদের একটি ছবিতে চাঁদে হওয়া শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডিসচার্জের ঘটনা সামনে উঠে আসে যা চাঁদের এসটেন ক্রিয়েটরের আশেপাশের অঞ্চলে ঘটেছিল। কনসস্প্রিয়েসি থিয়োরিস্টরা বলছেন এই ডিসচার্জ চাঁদে উপস্থিতির এলিয়ানদের কোন সিক্রেট রিফুয়েলিং স্টেশন ঘটেছিল যা কোন প্রকারে নাসার অ্যাপোলো মিশনের ক্যামেরায় বন্দী হয়ে যায়। এটি  ঠিক সেই রকম ডিসচার্জ  ছিল যা ভয়ংকর তুফানে পৃথিবীর উপরের বায়ুমন্ডলে দেখা যায়। এই ইলেকট্রিক ডিসচার্জ আসলে কি ছিল তার আজও কেউ সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

এই রকমই অজানা ও রোমাঞ্চকর ঘটনা জানতে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।

ধন্যবাদ…………।।

সুমন্ত

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here