কারগিল যুদ্ধের অজানা কাহিনী ।। ভারতীয় সেনাদের এক বীরগাথা

1
95

২ মে ১৯৯৯, গরকনগাও, কারগিল, ঠান্ডায় মানুষ যখন বাইরে বের হতে পারছিল না তখন সেই গ্রামের এক মেষপালক তাশি নামগয়াল তার একটি হারিয়ে যাওয়া ইয়াকের খোঁজ করছিল। তার কাছে ছিল একটি বাইনোকুলার, যার সাহায্যে সে বিভিন্ন পাহাড়ের চূড়ায় লক্ষ্য করছিল এবং তার হারিয়ে যাওয়া ইয়াকটিকে খোঁজার চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময় তিনি লক্ষ্য করেন সামনের একটি পাহাড়ের চূড়ায় ৬ জন লোক পাথর দিয়ে বাঙ্কার তৈরি করছে। এই দৃশ্যটি তোর কাছে একটু অদ্ভুত লাগে, কারণ সে জানতো ঠাণ্ডার কারণে এই সময় ভারতীয় সেনারা পাহাড়ের উপর থেকে নীচে নেমে আসে। তাই অদ্ভুত এই ব্যাপারটি সে নিচে থাকা দুই ভারতীয় সেনাকে জানায়।

Indian Army
rohoshyosondhane

এরপর ৫ মে ১৯৯৯ চারটি পেট্রোল টিমকে পাঠানো হয় সেই জায়গাটির পরিদর্শন করার জন্য, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ৫ জন ভারতীয় সেনাকে বন্দি করে নেয় অনুপ্রবেশকারিরা। এরপর ১৪ ই মে পেট্রোল টিমের অন্যান্য সদস্যরা যখন তাঁবুর ভেতরে যখন রেস্ট নিচ্ছিল তখন ক্যাপ্টেন সৌরভ কালিয়া এবং তার সাথীদের বন্দি করে নেয় তারা।

Martyr_Saurabh_Kalia
rohoshyosondhane

এরপরে যা ঘটে তা যেকোন যুদ্ধের নিয়মবিরুদ্ধ, অনুপ্রবেশকারীরা তাদের চোখ উফরে নেই এবং তাদের শরীর টুকরো টুকরো করে কেটে বস্তার মধ্যে ভরে নিচে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রালয় বুঝে যায় এটা কোন সাধারণ অনুপ্রবেশের ঘটনা নয়, এর পেছনে আছে পাকিস্তানের হাত। সেই সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ছিল জেনারেল পারভেজ মোশারফ। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল শীতের সময় যখন ভারতীয় সেনারা পাহাড়ের উপর থেকে নেমে আসে সেই সময় পাকিস্তানি প্রশিক্ষিত সেনারা LOC পার করে ভারতীয় সেনাদের খালি বাঙ্কার গুলি দখল করে নেবে। উদ্দেশ্য হল কাশ্মীর এবং লাদাখের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।

Ladakh
rohoshyosondhane

এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাই তৎক্ষণাৎ সময় নষ্ট না করে ভারতীয় জল, স্থল এবং বায়ুসেনাকে আদেশদেন শত্রুর গুলির জবাব গুলিতে দেয়ার জন্য। তখন সমস্ত ভারতীয় সেনারা সক্রিয় হয়ে যায় এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। সময় এসে গেছিল ঘাড় ধাক্কা দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের ভারতের মাটি থেকে বার করে দেওয়ার। ভূমিগত যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন চিফ অফ আর্মি স্টাফ, জেনারেল ভি পি মল্লিক, এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়, অপারেশন বিজয়।

Indian Army
rohoshyosondhane

যখন ভারতীয় স্থলসেনা শত্রুদের পিছু হাটতে বাধ্য করছিলো ঠিক তখনই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ভারতীয় বায়ুসেনা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন উইং কমান্ডার বি এস ধানুয়া, এই অপারেশনের নাম দেওয়া হয়েছিল অপারেশন সফেদ সাগর।

Indian Airforce
rohoshyosondhane

অন্যদিকে ভারতীয় নৌসেনাও সক্রিয় হয়ে যায়। ভাইস অ্যাডমিরাল মাধবেন্দ্র সিং এর নেতৃত্বে উত্তর আরব সাগরের দিক থেকে করাচি বন্দরকে ঘিরে ফেলা হয়। অপারেশনের নাম দেয়া হয়, অপারেশন তলোয়ার।

Indian Navy
rohoshyosondhane

এরপর ৫ই জুন ভারতীয় আর্মি তিনজন অনুপ্রবেশকারীকে মেরে ফেলে। পরে যখন তাদের ডকুমেন্ট চেক করা হয় তখন দেখা যায় তারা পাকিস্তানের রেগুলার আর্মির সদস্য। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যায় ভারতের কাছে। সমস্ত ডকুমেন্ট পাকিস্তানের লাহোর অফিসে পাঠানো হয় এবং মিডিয়ার সামনে তুলে ধরা হয় পাকিস্তানের চক্রান্ত। সরকারিভাবে ডিক্লেয়ার হয়ে যায় পাকিস্তানি আর্মি সরাসরি এই যুদ্ধে যুক্ত রয়েছে । সময় এসে যায় চোখে চোখ রেখে জবাব দেয়ার। ৬ জুন থ্রি ডাইমেনশন অ্যাটাক করে ভারতীয় আর্মি এবং একের পর এক সেক্টর পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে।

আরও পড়তে ক্লিক করুন ঃ- ক্যামেরায় ধরা না পরলে এই মানুষ গুলির ব্যাপারে আপনি জানতে পারতেন না

Indian Army
rohoshyosondhane

১৪ ই জুলাই ১৯৯৯ তৎকালীন প্রাইম মিনিস্টার অটলবিহারী বাজপাই সরকারিভাবে অপারেশন বিজয়ের সফলতা ঘোষণা করে। এরপর ১৫ থেকে ২৫ জুলাই কারগিল সেক্টরে সার্চ অপারেশন চালানো হয় এবং সেনাদের ডেট বডি কালেক্ট করা হয়। এরপর দেশের জন্য শহীদ জওয়ানদের সসম্মানের সাথে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। প্রায় ১৮ হাজার ফিট উঁচুতে হওয়া এই যুদ্ধে, ভারত প্রায় দু লক্ষ সেনাজওয়ানকে নিযুক্ত করেছিল, যার মধ্যে মাত্র ৫২৭ জন বীরযোদ্ধা শহীদ হয় এবং ১৩০০র থেকে বেশি সেনাজওয়ান আহত হয়।

Indian Army
rohoshyosondhane

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল ভারত সরকারের কাছে পাকিস্থানি সেনাদের যে মৃতদেহগুলি ছিল সেগুলি পাকিস্তানকে ফিরিয়ে দিতে গেলে তারা সেগুলি নিতে চাইনি, কারণ এতে প্রমাণ হয়ে যেত যে এই যুদ্ধে পাকিস্তানের সরাসরি হাত আছে। ভারতীয় হিসাবে আমরা গর্বিত যে ভারত সরকার সেই সমস্ত মৃতদেহগুলি কেও সম্মানের সাথে কবর দিয়েছে। এরপর ২৬ জুলাই কারগিল বিজয় দিবস ঘোষণা করা হয়। আপনি যদি কোন দিন কারগিলে যান তাহলে কারগিল ওয়ার মেমোরিয়ালে অবশ্যই যাবেন।

Indian Flag
rohoshyosondhane

আমি হলফ করে বলতে পারি ৩৫ বাইক ২৭ ফুটের বিশাল পতাকার দিকে তাকালে আপনার বুকের ছাতি ৫৬ ইঞ্চি হয়ে যাবে। আমি জানি আপনি একজন দেশভক্ত তাই আপনি এতক্ষণ ধরে এই ভিডিওটি দেখছেন। অবশেষে একটা কথাই বলবো ………।।

জয় হিন্দ ……। ধন্যবাদ ……।।

সুমন্ত ……..

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane

 

 

 

হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here