কেন পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের উপর দিয়ে বিমান উড়তে পারে না

0
160

হিন্দুদের একটি পবিত্র স্থান এবং চার ধামের সবচেয়ে পুরনো ধাম হলো এই জগন্নাথ ধাম, যার উল্লেখ স্কন্দ পুরাণ, নারদ পুরাণ, পদ্মপুরাণ এবং ব্রম্ভ পুরানো পাওয়া যায়। উড়িষ্যার পুরী শহরের জগন্নাথ মন্দির, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হিন্দু মন্দির। এখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর বড় ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রার সাথে বিরাজ করছে।

Jagannath Dev
rohoshyosondhane

এখানে প্রতি বছর আষাঢ় মাসে, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয়। বলা হয়ে থাকে এই মন্দিরটির নির্মাণ শুরু হয়, ১২ শতাব্দীতে কলিঙ্গের রাজা অনন্ত বর্মন চোর গঙ্গা দেবের সময়কালে,  এবং এর নির্মাণকার্য সম্পন্ন হয়, উড়িষ্যার শাসক আনাঙ্গাভীমা দেবের শাসনকালে। এটি বিশ্বের এমন একটি মন্দির যার নির্মাণ কলা আজও বৈজ্ঞানিকদের অবাক করে। এবার কথা বলব এই মন্দিরটির সাথে জুড়ে থাকা সেই সব আশ্চর্য ঘটনার ব্যাপারে, যার ব্যাখ্যা আজও বৈজ্ঞানিকরা দিতে পারিনি।

Jagannath Temple
rohoshyosondhane

জগন্নাথ মন্দিরের চূড়ায় লাগানো এই ঝান্ডাটিকে দেখুন, এটি দেখতে হয়তো একটি সাধারন ঝাণ্ডার মতোই, কিন্তু এর আশ্চর্যের কথা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। এটি পৃথিবীর একমাত্র ঝান্ডা যেটি বাতাসের বিপরীত দিকে ওরে, অনেক বৈজ্ঞানিক কি এই আশ্চর্য ঘটনার ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছে কিন্তু এর ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারিনি। এই ঝান্ডাটি এতটাই উঁচুতে অবস্থিত যে এটিকে শহরের যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত বেশির ভাগ মন্দিরের চূড়াতেই আমরা পাখিদের বসে থাকতে দেখতে পাই, কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন পুরীর এই মন্দিরের চূড়ায় বা এর আশেপাশে কোন পাখিকে উড়তে দেখা যায় না। প্রায় বিগত হাজার বছর ধরে আজ পর্যন্ত কেউই এই মন্দিরের চূড়ায় কোন পাখিকে বসতে দেখেনি।

Jagannath Temple
rohoshyosondhane

এই মন্দিরে উপর দিয়ে কোন বিমান আজ পর্যন্ত যেতে পারিনি। বিমান এই অঞ্চলের উপর দিয়ে অবশ্যই যায়, কিন্তু কখনোই সেটি এই মন্দিরের উপর দিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু এমনটি কেন ঘটে, এর ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি। আজও কেউ জানে না, কেন এই মন্দিরের উপর দিয়ে যাওয়া বিমানের রাস্তা, নিজে থেকে পরিবর্তন হয়ে যায়। এই মন্দিরটি প্রায় ৪ লক্ষ বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, আর এর উচ্চতা ২১৪ ফুট। এই মন্দিরের কাছে দাঁড়িয়ে এর চূড়া দেখতে পাওয়া কখনই সম্ভব নয়, আর এই মন্দিরের ছোঁয়া দিনের কোন সময়ই, কোন দিকেই পড়তে দেখা যায় না।

Jaggnnath Temple
rohoshyosondhane

মন্দিরের চূড়ায় লাগানো সুদর্শন চক্রটি অষ্ট ধাতুর তৈরি এবং শহরের যে কোন প্রান্ত থেকে আপনি এই চক্রটিকে দেখতে পাবেন। এবার এই মন্দিরের যে চমৎকারটির ব্যাপারে বলতে চলেছি তা সত্যি আপনাকে অবাক করবে। এই মন্দিরে প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষের জন্য রান্না করা হয়, হাজার বছর ধরে চলে আসা এই পরম্পরা অনুসারে, এই রান্না মাটির বাসনেই করতে হয়।

Mahaprasad
rohoshyosondhane

এই মহাপ্রসাদ বানানোর জন্য প্রতিদিন প্রায় ৮০০ জন মানুষ একসাথে কাজ করে। সাতটি হাঁড়িকে একের উপর এক রেখে, রান্না করা হয়। কিন্তু অবাক করা ব্যাপারটি হল, সবচেয়ে উপরের হাঁড়ির রান্না সর্বপ্রথম সম্পন্ন হয়। যেখানে বেশি আগুনের তাপ, সবথেকে নিচের হাঁড়িতে বেশি লাগে, সেখানে উপরে হাঁড়িতে সবার আগে কি করে রান্না সম্পন্ন হতে পারে, আর এর ব্যাখ্যা আজও কেউ দিতে পারেনি। একবার ভেবে দেখুন ১০ থেকে ২০ ফুট উঁচু দেওয়ালে, সোজাসুজি ওঠার কথা ভাবলেই আমরা ভয় লাগে কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে চূড়ায় লাগানো ঝান্ডাটি যিনি বদলান তিনি প্রতিদিন ২১৪ ফুট উঁচু দেয়ালে ওঠেন তাও আবার উল্টো দিক করে। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই প্রথা অনুসারে, উল্টো দিকে মুখ করেই এই মন্দিরে চূড়ায় উঠতে হয়।

Jagannath Temple
rohoshyosondhane

সাধারণত দিনের বেলায়, বাতাস সমুদ্রের দিক থেকে ডাঙ্গার দিকে প্রবাহিত হয় এবং সন্ধ্যেবেলায় ডাঙ্গার দিক থেকে সমুদ্রের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু জগন্নাথ পুরীতে ঠিক এর উল্টোটা ঘটে। সারা বিশ্বে আর কোথাও আপনি এই অদ্ভুত দৃশ্যটি দেখতে পাবেন না। এর পেছনে কি কারণ লুকিয়ে রয়েছে তার জবাব আজকের বিজ্ঞানও দিতে পারেনি। জগন্নাথ মন্দির সমুদ্রের খুব কাছে অবস্থিত, এইজন্য সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ মন্দির প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে আপনি শুনতে পাবেন। কিন্তু মন্দিরের এই সিংহদুয়ার সবচেয়ে রহস্যময় একটি দরজা। যখন আপনি এই সিংহদুয়ার মধ্যে প্রবেশ করবেন তখন আপনি সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ আর শুনতে পাবেন না। কিন্তু আপনি যখনই এই দরজাটিকে পার করে মন্দিরে প্রবেশ করবেন, আপনি পুনরায় সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাবেন। একটি রহস্য আরও রয়েছে, এখানে প্রতিবছর আষাঢ় মাসে জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার উৎসব পালন করা হয়।

Jagannath Temple
rohoshyosondhane

আর সেই দিন এখানে বৃষ্টি অবশ্যই হয়। হাজার বছর ধরে চলে আসা এই প্রথায়, কেউ কখনো দেখেনি যে এই রথ যাত্রার অনুষ্ঠানের দিন বৃষ্টি হয়নি। এই সমস্ত ঘটনাগুলিকে কোন চমৎকার বলা হোক বা অন্য কিছু, কিন্তু জগন্নাথ মন্দিরের এই চমৎকার আজও সমস্ত মানুষের কাছে একটি রহস্য। যদি আজকের ভিডিওটি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে ভিডিওটিকে লাইক করে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আর আমাকে কমেন্ট করে জানান আপনাদের মধ্যে কে কত বার এই পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের দর্শন করেছেন। আর যদি এরকমই বিভিন্ন মন্দিরের রহস্য নিয়ে আপনারা আগ্রহী হন তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানান। আমি অবশ্যই এই রকম রহস্যময় মন্দির গুলি নিয়ে ভিডিও বানাবো। তো আজ এই পর্যন্তই আর এই রকমই অজানা অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর ভিডিও দেখার জন্য আমাদের নতুন চ্যানেল কালপুরুষকে সাবস্ক্রাইব করুন। চ্যানেল লিংক ভিডিও ডেসক্রিপশনে পেয়ে যাবেন। তো দেখা হবে পরের ভিডিওতে, ভালো থাকবেন,

ধন্যবাদ ……..

rohoshyosondhane
rohoshyosondhane
হাই।। বন্ধুরা... আমি সুমন্ত, পৃথিবী কাঁপানো অসংখ্য রহস্যের উদঘাটন হয়নি আজও। তবে এগুলো নিয়ে আলোচনা-গবেষণা চলছে এখনো। রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক রহস্যের সীমা নেই। এরমধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। এ কারণে এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। আধুনিক বিজ্ঞানের উৎকর্ষতাও এ রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এমনই হাজারো রহস্যের সন্ধান দিতে আমারদের এই ওয়েবসাইটি করা। আশা করি আপনারা সাথেই থাকবেন এবং উৎসাহ দিবেন। Subscribe করে আমাদের সাথে থাকতে ভুলবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here